somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হৃদয়ে এখন কেবলই বাংলাদেশ। আমার বাংলাদেশ।

১৯ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৫:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্লগে লেখালেখি করতে গিয়ে অনেকের লেখা পড়ার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু সময় করে সবার লেখা পড়া হয়ে উঠে না। যাদের লেখা ভাল লাগে তাদের মধ্যে "আস্তমেয়ে" নামধারী মেয়েটার লেখা উল্লেখযোগ্য। সময় হলে ওর ব্লগে ঢুকে বিভিন্ন পাঠকের কমেন্টস গুলোও পড়ি। ওর লেখা গুলো অন্যদের থেকে একটু ব্যতিক্রম এবং কোন কোন সময় অনেকের দৃষ্টিতে বিতর্কিত বলে কমেন্টস গুলো বেশ বড় এবং বিশ্লেষাত্তক হয়ে ওঠে। ভালই লাগে পড়তে।
সে যাক। যে কারণে আস্তমেয়ে আমার আজকের লেখায় চলে এল সেটা বলি। আজকে ব্লগে ঢুকে ক্রিকেটের উপর লেখা আস্তমেয়ের সুন্দর ছোট্র লেখাটা পড়ে যখন কমেন্টস গুলোর উপর চোখ বুলাচ্ছিলাম, তখন একটা লেখার উপর আমার চোখ আটকে গেল। জনৈক পাঠক লিখলেন, আস্তরা না কি পাকিস্তানের চেয়ে ভারতকে হারালে রেশী খুশি হয়। এটা যদি ওই জনৈক পাঠক ফান করে বলে থাকেন তো আমার কোন কিছু বলার নেই। কিন্তু যদি সিরিয়াসলি বলে থাকেন, তবে তার প্রতিবাদ না করে থাকতে পারলাম না।
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের আলোচিত-সমালোচিত অন্তরভূক্তির আগের কথা। বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রিয় মানুষ দুটি দলের যে কোন একটি কে সাপোর্ট করত। হয় ভারত না হয় পাকিস্তান। স্কুল-কলেজে পড়ার সেই সময়টাতে যারা পাকিস্তানকে সাপোর্ট করত, তাদের কাছে ওই দেশটি নয় বরয় তখনকার ক্রিকেট সেনসাশান ওয়াসিম দা গ্রেট, ইমরান খান, সাঈদ আনোয়ার, আমির সোহেল, এই নাম গুলোই প্রিয় ছিল। দেশের জন্য নয় বরং এই নাম গুলোর জন্য পাকিস্তান নামের দেশটার কথা আমাদের হাজারো ক্রিকেট প্রিয় মানুষের মনে একটু হলেও স্থান পেয়েছিল। কিন্তু সে স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেনি।
আমাদের দেশের শহর বন্দর কিংরা গ্রামের একটা ছেলে বা মেয়ে যখন খেলাধুলার সাথে পরিচিত হয়, তখন তার মাঝে যে সচেতনতা থাকে, তা দিয়ে আর যা-ই হউক রাজনীতির মার প্যাঁচ বুঝা সম্ভব না। তারপর গ্রাম ছেড়ে শহর, শহর ছেড়ে দেশ এবং আন্তজর্াতিক অংগনের বিখ্যাত খেলোয়ারদের নাম খুব দ্রুত তাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই খেলোয়ারদের নাম ধরেই কিন্তু মনের অজান্তেকোন একটা দেশের প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই সাপোর্ট করা।
আমি স্কুলে থাকতেই ফুটবলের প্রতি ভীষণ আকৃষ্ট ছিলাম। শেষের দিকে এমন হয়ে গিয়েছিল যে বিকালে ফুটবল খেলতে না পারলে সন্ধায় পড়তে বসতে পারতাম না। সেই আমি করে কি ভাবে ক্রিকেটকে ভালবেসে ফেলেছি জানা নেই। ছোট বেলায় ওয়াসিম আকরাম, ইমরান খান আর সাঈদ আনোয়ারের খেলার প্রতি আগ্রহ থেকে পাকিস্তানের সাপোর্টার হয়ে গেলাম।
তখন বাংলাদেশ আন্তজর্াতিক ক্রিকেট অংগনের নতুন সদস্য। সবার সাথেই শুধু হারে। তবু আমার পিয়্র দেশকে সাপোর্ট করাতেই যেন সমস্ত আনন্দ খুঁজে পেতাম। পরাক্রমশালী অষ্ট্রেলিয়ার সাথে খেল্লে ও দোয়া করতাম কোন ভাবে যদি বাংলাদেশ জিতে যেত। আমি তখন জাহাঙ্গীরনগরের ছাত্র। ক্রিকেট ম্যাচ গুলোর কোনটিই দেখতে মিছ করতাম না। খেলা দেখে কত যে ক্লাশ ফাঁকি দিয়েছি। সব বন্ধুরা মিলে কমন রুমে হৈ চৈ করে খেলা দেখার মাঝে মজাই আলাদা। সব চেয়ে মজা হত যেদিন ভারত - পাকিস্তানের খেলা হত। খেলা শেষে মিছিল পর্যন্ত করতাম। তখন পাকিস্তান জিতলে পাকিস্তানের পক্ষ্যে মিছিল করলে ও কিন্তু কেউ কোন মন্তব্য করত না। কারণ, সেই স্লোগানে কোন রাজনীতি থাকত না। যা থাকত, সেটা ছিল খেলার জন্য, খেলোয়ারের জন্য আবেগের ছোট্র একটু বহিঃপ্রকাশ।
এক দিনের ছোট্র একটা ঘটনা বলি। আমি ছিলাম পাকিস্তানের অন্ধ সাপোর্টার। আমার রুমমেট (আমি তাকে রাম ছাগল ডাকতাম আর সে আমাকে কি বলে ডাকত সেটা না-ই বা বল্লাম), আমার জীবনে দেখা একজন আদর্শ মানুষ, যে বড় হয়েছে শুধু মাত্র নিজের প্রচেষ্ঠায় টিউশানির টাকা দিয়ে। এখন সে বেশ ভাল বেতনের ভাল একটা চাকরি করে। সে ছিল ভারতের সাপোটর্ার। কি নিয়ে যেন খেলা বিষয়ে আমার এবং তার মধ্যে তর্ক হচ্ছিল। আমি পাকিস্তানের সাপোর্টার বলে এক পযর্ায়ে আমার রন্ধু আমাকে রাজাকার বলে ফেলে। কিন্তু সে যে আমাকে ক্ষেপাবার জন্যে বলেছে সেটা আমি একদমই বুঝতে পারিনি। আমি ভীষণ সেন্টিম্যান্টাল হয়ে গেলাম। এই একটি কথায় আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনা। আমি হাতের কাছে ওর প্রিয় গিটার টা পেয়ে টান দিয়ে সবগুলো তার ছিড়ে ফেল্লাম। আমার কান্ড দেখে আমার বন্ধু তো একদম থ হয়ে গেল। এ আমি কি করে ফেল্লাম। আমার বন্ধুটি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিল তাতে। সে রাগ করে আমার সাথে পুরো ছয় মাস কথা বলেনি। গতকাল যখন বাংলাদেশ-ভারতের খেলা দেখছিলাম একা একা, আমার বন্ধুটির কথা বারবার মনে পড়ছিল। আজ আমার বন্ধুটি থাকলে হয়তো আর ভারত-পাকিস্তান নিয়ে তর্ক করতে হত না। কারণ, ভারত পাকিস্তান নয়, আমার প্রিয় বাংলাদেশই এখন গৌরবের শীর্ষে আসীন। এক অনন্য উচ্চতায়। আমার প্রিয় বাংলাদেশই এখন যে কোন দেশকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। এখন ভারত পাকিস্তান নয়, হৃদয়ে এখন কেবলই বাংলাদেশ। আমার বাংলাদেশ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×