somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার এপার্টমেন্টটা প্রচন্ড ভাবে দুলছে (ভূমিকম্পে)

২৫ শে মার্চ, ২০০৭ ভোর ৫:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে ফজরের নামাজটা পড়ি। তারপর আসানোগাওয়া নদীর পাড় ধরে কিছুক্ষণ হেটে রুমে ফিরি। হালকা নাস্তা করে আবার একটা ঘুম দেই। পৌনে দশটায় ওঠে রেডি হয়ে ল্যাব-এ যেতে যেতে ঘড়ির কাঁটা সারে দশটা ছুঁই ছুঁই করে। এটা আমার নিত্যদিনের রুটিন। তবে ছুটির দিনগুলোতে পৌনে দশটায় আর ঘুম থেকে ওঠা হয় না। একদম দুপুর একটা বা তারও পরে। আজ বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। শীত শেষ বললেই চলে। গত রাতে তাপমাত্রা ছিল পনের ডিগ্রীর উপরে। রাতে এমন তাপমাত্রা শুধু গরমের দিনেই থাকে। বৃষ্টির জন্যে আজ আর নদীর পাড়ে হাটতে যাওয়া হল না। রুমটা অনেক দিন পরিষ্কার করা হয়নি। যে পরিমাণ ময়লা জমেছে, তা যে কোন রুচিবান ব্যক্তির জন্য অস্বস্তিকর। বেশ কয়েক দিন থেকেই ভাবছি পরিষ্কার করব। কিন্তু করা হয়ে উঠছিল না। আজ হঠাৎই কেন যেন রুমটা গুছাতে ইচ্ছা হল। অনেক দিনের ময়লা চিপা চাপা গুলোতে এত আয়েশ করে জমেছিল যে প্রায় এক ঘন্টার অভিযানে তাদেরকে রুম থেকে কিক আউট করতে সক্ষম হলাম। তারপর নাস্তা সেরে সটান শুয়ে পরলাম। আজ কেন যেন ঘুম আসছিল না। তখন সময় সারে নয়টা কি দশটা। হঠাৎই মনে হল কে যেন আমর খাটটাকে নাড়াচ্ছে। ঘুম ঘুম চোখে ব্যপারটাকে পাত্তা দিতে চাইলাম না। শুয়ে থাকলাম আগের মতই। কিন্তু এবার আরো জোরে নড়তে লাগল আমার খাট সহ পুরো রুম। একটা ঝনঝন শব্দ হল। এবার মনে হল সারা এপার্টমেন্টই দুলছে। আমি এক ঝটকায় গায়ের লেপ ফেলে ওঠে দাঁড়ালাম। কোন কিছু চিন্তা না করেই বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। দেখি এবার সত্যি সত্যি পুরো এপার্টমেন্ট দুলছে। সে কি জোড়ে দুলছে যেন পড়ে যাব বারান্দা থেকে। আমি খুব শক্ত করে রেলিং ধরে থাকলাম। এভাবে প্রায় পনের সেকেন্ড দুলল আমার এপার্টমেন্ট। কিন্তু মজার ব্যপার হল এত জোরে জোরে দুলার পরও আশপাশ থেকে কোন হৈ চৈ কিংবা কোন ধরণের সাড়াশব্দ শুনছিলাম না। আমি তখনো বুঝতে পারছিলাম না আমি স্বপ্ন দেখছি না কি সত্যি সত্যি এপার্টমেন্টটা দুলছে। আমি নিজের গায়ে চিমটি কাটলাম। না, স্বপ্ন নয় সবিই সত্যি। তবে কি ভুমিকম্প ? আমি ভয় পেয়ে গেলাম। কি করব ভাবছিলাম। কিন্তু আশপাশ থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে একটু চিন্তা করলাম। পরক্ষণেই মনে হল, আমি ভয় পাচ্ছি কেন। আমি তো জাপানের আধুনিক একটা এপার্টমেন্টে আছি। এসব এপার্টমেন্ট এমন ভাবে প্রোটেকটেট যে সাত-আট রিখটারস্কেলের ভুমিকম্পেও এগুলো টিকে থাকতে পারবে। তখনো আমার এপার্টমেন্ট দুলছিল। আমি বারান্দা থেকে রুমে ফিরে নিশ্চিন্তে শুয়ে পরলাম। এখন দুলোনিটা কমে এসেছে। এই হালকা দুলোনি খানিটা এনজয় করছিলাম। আর ভাবছিলাম, আল্লাহ না করুন, এমন একটা দুলোনি যদি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উপর দিয়ে বয়ে যেত আমি হলফ করে বলতে পারি অন্ততঃ দশ শতাংশ বাড়ি মাটিতে দেবে যেত, পাঁচ শতাংশ পড়ে যেত, হেলে পড়ত অন্ততঃ পয়ত্রিশ শতাংশ বাড়ি। পুরনো ঢাকার একটা বাড়ি ও আস্ত থাকত না। জান-মালের কি পরিমাণ ক্ষতি হত, আমার অনুমানে কুলালো না। দুপুরে ঘুম থেকে ওঠে জানতে পারলাম, ইসিকাওয়া প্রিফেকচার (কানাজাওয়া যার একটা শহর)-এর উপর ছয় দশমিক তিন মাত্রার ভুমিকম্প আঘাত হেনেছে আজ সকালে। এক জন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরো একশত চৌত্রিশ জন। আমি যখন এ পেষ্ট লেখছি (এই মাত্র), আমার এপার্টমেন্টটা আবার দুলে ওঠেছে। গার্ডম্যান নীচে থেকে মাক্রোফোনে কি যেন বলল। বুঝতে পারছি না। আমাদের এপার্টমেন্ট-এর মত বহুতল ভবন গুলো লোহার কলামের উপর তৈরী। তাই সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। দোয়া কইরেন ভায়েরা যেন কোন বিপদ না হয়। এখন সত্যি সত্যি ভয় পাচ্ছি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১০:২৫
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×