সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১০:২৫
আমার এপার্টমেন্টটা প্রচন্ড ভাবে দুলছে (ভূমিকম্পে)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে ফজরের নামাজটা পড়ি। তারপর আসানোগাওয়া নদীর পাড় ধরে কিছুক্ষণ হেটে রুমে ফিরি। হালকা নাস্তা করে আবার একটা ঘুম দেই। পৌনে দশটায় ওঠে রেডি হয়ে ল্যাব-এ যেতে যেতে ঘড়ির কাঁটা সারে দশটা ছুঁই ছুঁই করে। এটা আমার নিত্যদিনের রুটিন। তবে ছুটির দিনগুলোতে পৌনে দশটায় আর ঘুম থেকে ওঠা হয় না। একদম দুপুর একটা বা তারও পরে। আজ বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। শীত শেষ বললেই চলে। গত রাতে তাপমাত্রা ছিল পনের ডিগ্রীর উপরে। রাতে এমন তাপমাত্রা শুধু গরমের দিনেই থাকে। বৃষ্টির জন্যে আজ আর নদীর পাড়ে হাটতে যাওয়া হল না। রুমটা অনেক দিন পরিষ্কার করা হয়নি। যে পরিমাণ ময়লা জমেছে, তা যে কোন রুচিবান ব্যক্তির জন্য অস্বস্তিকর। বেশ কয়েক দিন থেকেই ভাবছি পরিষ্কার করব। কিন্তু করা হয়ে উঠছিল না। আজ হঠাৎই কেন যেন রুমটা গুছাতে ইচ্ছা হল। অনেক দিনের ময়লা চিপা চাপা গুলোতে এত আয়েশ করে জমেছিল যে প্রায় এক ঘন্টার অভিযানে তাদেরকে রুম থেকে কিক আউট করতে সক্ষম হলাম। তারপর নাস্তা সেরে সটান শুয়ে পরলাম। আজ কেন যেন ঘুম আসছিল না। তখন সময় সারে নয়টা কি দশটা। হঠাৎই মনে হল কে যেন আমর খাটটাকে নাড়াচ্ছে। ঘুম ঘুম চোখে ব্যপারটাকে পাত্তা দিতে চাইলাম না। শুয়ে থাকলাম আগের মতই। কিন্তু এবার আরো জোরে নড়তে লাগল আমার খাট সহ পুরো রুম। একটা ঝনঝন শব্দ হল। এবার মনে হল সারা এপার্টমেন্টই দুলছে। আমি এক ঝটকায় গায়ের লেপ ফেলে ওঠে দাঁড়ালাম। কোন কিছু চিন্তা না করেই বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। দেখি এবার সত্যি সত্যি পুরো এপার্টমেন্ট দুলছে। সে কি জোড়ে দুলছে যেন পড়ে যাব বারান্দা থেকে। আমি খুব শক্ত করে রেলিং ধরে থাকলাম। এভাবে প্রায় পনের সেকেন্ড দুলল আমার এপার্টমেন্ট। কিন্তু মজার ব্যপার হল এত জোরে জোরে দুলার পরও আশপাশ থেকে কোন হৈ চৈ কিংবা কোন ধরণের সাড়াশব্দ শুনছিলাম না। আমি তখনো বুঝতে পারছিলাম না আমি স্বপ্ন দেখছি না কি সত্যি সত্যি এপার্টমেন্টটা দুলছে। আমি নিজের গায়ে চিমটি কাটলাম। না, স্বপ্ন নয় সবিই সত্যি। তবে কি ভুমিকম্প ? আমি ভয় পেয়ে গেলাম। কি করব ভাবছিলাম। কিন্তু আশপাশ থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে একটু চিন্তা করলাম। পরক্ষণেই মনে হল, আমি ভয় পাচ্ছি কেন। আমি তো জাপানের আধুনিক একটা এপার্টমেন্টে আছি। এসব এপার্টমেন্ট এমন ভাবে প্রোটেকটেট যে সাত-আট রিখটারস্কেলের ভুমিকম্পেও এগুলো টিকে থাকতে পারবে। তখনো আমার এপার্টমেন্ট দুলছিল। আমি বারান্দা থেকে রুমে ফিরে নিশ্চিন্তে শুয়ে পরলাম। এখন দুলোনিটা কমে এসেছে। এই হালকা দুলোনি খানিটা এনজয় করছিলাম। আর ভাবছিলাম, আল্লাহ না করুন, এমন একটা দুলোনি যদি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উপর দিয়ে বয়ে যেত আমি হলফ করে বলতে পারি অন্ততঃ দশ শতাংশ বাড়ি মাটিতে দেবে যেত, পাঁচ শতাংশ পড়ে যেত, হেলে পড়ত অন্ততঃ পয়ত্রিশ শতাংশ বাড়ি। পুরনো ঢাকার একটা বাড়ি ও আস্ত থাকত না। জান-মালের কি পরিমাণ ক্ষতি হত, আমার অনুমানে কুলালো না। দুপুরে ঘুম থেকে ওঠে জানতে পারলাম, ইসিকাওয়া প্রিফেকচার (কানাজাওয়া যার একটা শহর)-এর উপর ছয় দশমিক তিন মাত্রার ভুমিকম্প আঘাত হেনেছে আজ সকালে। এক জন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরো একশত চৌত্রিশ জন। আমি যখন এ পেষ্ট লেখছি (এই মাত্র), আমার এপার্টমেন্টটা আবার দুলে ওঠেছে। গার্ডম্যান নীচে থেকে মাক্রোফোনে কি যেন বলল। বুঝতে পারছি না। আমাদের এপার্টমেন্ট-এর মত বহুতল ভবন গুলো লোহার কলামের উপর তৈরী। তাই সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। দোয়া কইরেন ভায়েরা যেন কোন বিপদ না হয়। এখন সত্যি সত্যি ভয় পাচ্ছি।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী, কিন্তু ঘরে ফিরে তিনি একজন বাবা

বেশিরভাগ মানুষ বিজ্ঞানীদের জীবনের সাফল্যটাই দেখে; কিন্তু সেই সাফল্যের পেছনে কত বছরের শ্রম, ত্যাগ আর ব্যক্তিগত জীবনের কত কিছু বিসর্জন দিতে হয়েছে, সেই গল্পটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের অজানা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সংবাদপত্র

একালে কি কেউ কেউ সাতসকালে এখনো অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবে সংবাদপত্র?
একদা যিনি সংবাদপত্র বয়ে আনতেন তার সাথে কতো মান- অভিমানের খেলা!
এমনও হয়েছে বিলম্ব দেখে তার আগমনী পথে... ...বাকিটুকু পড়ুন
দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন
এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?
একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মুক্তিযোদ্ধাদের তরুণ প্রজন্ম পছন্দ করে না ?

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের কথা। একদিন মিরপুরে গেলাম, যে স্কুলে পড়েছি সেটার কী অবস্থা দেখতে গেলাম। এখনো কয়েকজন শিক্ষক আমাকে চেনেন। পুরাতন জায়গা বলে একটা টানও ছিল। দীর্ঘ প্রায় ১৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।