somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবী একবার পায় তারে !!!

২২ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার জন্মদিনে যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। অভিজ্ঞতা যত কঠিনই হোক তা জীবনের অংশ। আমি সেই কঠিনকেই ভালোবাসিলাম।

টাইম অ্যান্ড টাইড ওয়েটস ফর নান। মন এবং জানালা কোনোটাই বন্ধ করে রাখার কোনো মানে নেই। মানুষের স্বল্পায়ু জীবনে এটা যত বেশি খুলে রাখা যায়, তত বেশি তার দৈর্ঘ্য। মানুষের জীবনটাই এমন। এক জীবনের ছোট্ট ঝুলিতে অনেক অভিজ্ঞতা জমা হয়। যার কোনোটা ভারী মধুর কোনোটা ভারী তিক্ত। কোনো একটি একক অভিজ্ঞতা দিয়ে জীবন পার করে দেবার সুযোগ নেই। পৃথিবী একবার পায় তারে। অথচ সেই একবারের বাবুই পাখির জীবনে কত ঘটনা কতভাবে যে যুক্ত হয়। মানুষ আসলে এই পৃথিবীতে কিছুদিনের জন্য এক অদ্ভুত অনিশ্চিত পর্যটক। অন্য কারো জীবনের দায় কাউকে আটকাতে পারে না। যদি না সে কোনো চরম অপরাধ না করে। অথবা অন্য কারো জীবনের হননকারী না হয়। যদি না সে হত্যাকারী না হয়। তাহলে যার যার জীবনের সকল দায় তার তার। আর মানুষ সেই দায় জেনেই সামনে এগিয়ে যায়। কারো জন্য এখানে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

মানুষের জীবন বড় বিচিত্র ঘটনায় ভরপুর। সেখানে আনন্দ আছে, বেদনা আছে। হাসি-ঠাট্টা-মস্করা আছে। দুঃখ-কষ্ট আছে। সুখ তামাশা তিরস্কার আছে। সুখানুভূতি আছে। আর আছে ভালো লাগা মন্দ লাগা নানান কিসিমের গল্প। মানুষের গোটা জীবন আসলে একটা ছোটগল্পের ব্যবচ্ছেদের মত। সেখানে নিশ্চিত আর অনিশ্চিতের এক দোলনা খেলা করে সারাটা জীবন। এই ভালো তো এই খারাপ। মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ দুপিঠ মিলেই মানুষের জীবন। জোয়ার ভাটার প্রবাহের মত এক চলমান টাট্টু ঘোড়া।

কিছু প্রশ্নের কোনো ন্যায্য জবাব নেই। কিছু বিষয়ে আছে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক খামখেয়ালীপনা। যার সমাধান অন্য কেউ দিতে পারে না। নিজেকেই খুঁজে নিতে হয় সেই নিরুত্তর সাঁঝের বেলার রঙ। নির্বিকার আকাশের গায়ে সেই জবাব স্পষ্ট লেখা থাকে। কারো অন্তরজগতের বিভ্রাট হলে সেই রঙ অনুবাদ করা যায় না। সেই দুর্মেদ কঠিন ভাষার কোনো বিকল্প অনুবাদক দিয়েও কাজটি হবার নয়। যা কেবল নিজের চোখেই অনুবাদ করে বুঝে নেবার সময়।

সময় এক সবুজ ডাইনি। পৃথিবীর চরাচরে সে ঘটনার সাক্ষি হবার জন্য ডানামেলে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়ায়। পৃথিবীর শরীরে যখনই অসুখ হয়, সেই রোগের নিরাময় তখন পাতা ঝড়ার মত উড়ে উড়ে পাতা উল্টায়। কোথাও যার কোনো যথার্থ ব্যবস্থাপত্র নেই। সত্যি সেই অসুখের কোনো প্রেসক্রিপসশান নেই।

মানুষকে সামাজিক জীব বলা হলেও মানুষ আসলে এক নিঃসঙ্গ প্রাণী। এক মানুষের অন্তর্জগতের খবর অন্য মানুষ পুরোটা টের পায় না। টের পায়না বলেই মানুষে মানুষে অনেক অন্তরলোকের দূরত্ব। সেই দূরত্ব মাপারও কোনো যথার্থ বাটখারা নেই। সমাজবিজ্ঞানীরা যতোই নানান ধরনের অনুজ্ঞা জাহির করুক না কেন, একজনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে অন্য মানুষের বাহ্যিক অনেক সাদৃশ্য চোখে পড়লেও সেই সাদৃশ্যের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব আছে। হাজার হাজার সময় পরমানু সেখানে ভিন্ন সাক্ষ্য দেবে, এটাই স্বাভাবিক।

প্রত্যেকের জীবন তার ইচ্ছের মতন স্বাচ্ছন্দে কাটুক আমরা কেবল এটুকু সুন্দর প্রত্যাশা করতে পারি। মানুষ নিজেই তার জীবনকে এক সময় টেনে নিয়ে যায় মহাশশ্বানের সিঁড়িঘরে। তারপর সে কেবল অন্য মানুষের কাছে গল্প হয়ে কিছু সময় টিকে থাকে। মহাকালের বিচারে সেই গল্পেরও কোনো নিরবিচ্ছিন্ন উপস্থিতি থাকার কথা নয়। কালের অথৈ গভীরে এককালের মানুষের গল্প হারিয়ে যায়। সেখানে আবার কয়েক শো বছর পরের মানুষের নতুন গল্প উড়ে বেড়ায়। ঘুরে বেড়ায়। আমরা আসলে পৃথিবীতে একটা গল্প রেখে তারপর সবাই দূর মহাশূন্যে কেবলই হাওয়া হয়ে যাই। এটাই অবধারিত নিয়তি।

মানুষের সব স্মৃতিও একসময় বয়সের সাথে সাথে বিস্মৃতিতে পরিনত হয়। স্মৃতি আর বিস্মৃতি একই মস্তিক্সে বাস করে। তারা একই পাড়ায় খায়দায়, খেলাধুলা করে। একই বাড়িতে তাদের জন্য জীবন জুয়ার আসর বসে। জুয়ার দান শেষে যে যার ভাগ ঠিকঠাক বুঝে নেয়। মানুষের জীবন তাই জুয়া খেলার মত। সেখানে হার-জিত দুটোই গলা ধরাধরি করে সকাল সন্ধ্যা পাশাপাশি হাঁটে। পাশাপাশি একই বিষয় নিয়েই তাদের সকল দেন দরবার। সেই কারবারিতে যে কোন পক্ষ বিজয়ী হবে আগে থেকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কিছু নেই।

তবু মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে ।
যদি পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমজালে ।
যদি থাকি কাছাকাছি,
দেখিতে না পাও ছায়ার মতন আছি না আছি–
তবু মনে রেখো
যদি জল আসে আঁখিপাতে,
এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে,
তবু মনে রেখো ।
এক দিন যদি বাধা পড়ে কাজে শারদ প্রাতে– মনে রেখো ॥
যদি পড়িয়া মনে
ছলোছলো জল নাই দেখা দেয় নয়নকোণে–
তবু মনে রেখো ॥


.......................................
রেজা ঘটক
৮ বৈশাখ ১৪২২
২১ এপ্রিল ২০১৫
ঢাকা


৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×