somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোবাইল ফোন কোম্পানি গুলো নানান ফাঁদ পেতে কৌশলে আপনার অজান্তেই আপনার পকেট কাটছে!!!

০৮ ই জুলাই, ২০১৫ ভোর ৫:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে মোবাইল কোম্পানি গুলো আপনার অজান্তেই আপনার ফোন থেকে নিয়মিত কেটে নিচ্ছে টাকা। এক্ষেত্রে এরা নানান কৌশল ও ষড়যন্ত্র করে আপনাকে নানান কিসিমের প্রোগ্রামে সাবস্ক্রাইব করে থাকে। আপনি এদের নতুন কোনো অফারে নিজে এসএমএস পাঠিয়ে সাবস্ক্রাইব না হলেও, এরা জোরজবরদস্তি মূলক আপনাকে কিছু অফারে অটোমেটিক সাবস্ক্রাইব করাবে, যা আপনি একদম জানেন না। আপনার অজান্তেই এরা এমন অসংখ্য অফার দেশের নানান শ্রেণীপেশার ভোক্তাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর মাস শেষে বা সপ্তাহ শেষে বা কোনো কোনো অফারে দিন শেষে আপনার ফোন থেকে এজন্য কেটে নিচ্ছে একটাকা, দুই টাকা, পাঁচ টাকা, দশ টাকা, বিশ টাকা, ত্রিশ টাকা, চল্লিশ টাকা এমন কি পঞ্চাশ টাকা। যা আপনি একদম জানেন না।
আপনি জীবনেও এমন অফারের নাম শোনেন নি, অথচ ওরা আপনাকে এসএমএস করে জানাবে, আপনি এই অফার এনজয় করার জন্য এত টাকা কেটে নেওয়া হল। এটি যদি আপনি বন্ধ করতে চান, তাহলে ফিরতি এসএমএস করুন। তখন আবার ওরা আরেকটা ফি কেটে নেবে। এসব শয়তানি তো আছেই। এছাড়া বিভিন্ন মোবাইল সেটের সঙ্গে নানান কিসিমের প্রোগ্রাম অটো সেট করা থাকে। মোবাইল কোম্পানিগুলোর সাথে মোবাইল সেট কোম্পানি গুলোর কিছু গোপন চুক্তি থাকে। যেসব গ্রাহক সেসব সেট কিনবে, তারা গ্রামীন বা রবি বা বাংলালিংক বা সিটিসেলের সেসব অফার গুলো অটো সাবস্ক্রাইব হয়ে যায়। ফলে গ্রাহকের অজান্তেই তার ফোন থেকে দিনে/সপ্তাহে/মাসে টাকা কেটে নিচ্ছে মোবাইল কোম্পানিগুলো। আপনি কোনো অফারের সাবস্ক্রাইব করেন নি অথচ ওরা জোর করে আপনাকে সাবস্ক্রাইব করে দিচ্ছে। আবার আনসাবস্ক্রাইব করতেও আপনার থেকে কৌশলে টাকা কেটে নিচ্ছে। এটা স্রেফ প্রতাড়নার ব্যবসা।
আপনি খেয়াল করে দেখবেন, সারাদিনে আপনার মোবাইলে নানান কিসিমের এসএমএস আসে। এসএমএস বিড়ম্বনা তো আছেই। তারপর মাঝে মাঝে আবার অটো মেশিনে আপনাকে ফোন দেবে। এই ফোনেরও কোনো মা-বাপ নেই। রাত বিরাত নাই। যখন তখন। গতকাল রাত সাড়ে চারটায় আমার ফোনে একটা ফোন আসে। একই নম্বর থেকে আজ বিকালেও ফোন আসে। বিদেশি নম্বর ভেবে রিসিপ করে পুরো বোকা বনে গেলাম। এদের নম্বরগুলো সাধারণত এরকম ৮৪৬৬, ৭৮৬, ২০০১, ২১২৯৫৯৯। তো আপনি নম্বর না দেখে ভুলে রিসিপ করলেই ওরা অটোমেটিক মেশিন থেকে সেই আজব অফারটি আপনাকে শোনাবে। এবং যথারীতি আপনার থেকে টাকা কেটে নেবে।
এভাবে মোবাইল কোম্পানি গুলো আপনার অজান্তেই আপনাকে নিয়ে এক মস্তবড় ফাঁদ পেতেছে। আপনি টেরও পাচ্ছেন না কখন আপনার ফোন থেকে কত টাকা কেটে নিচ্ছে। এমন কি এ বিষয়ে সরকার বাহাদুর বা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর বরাবরই নিরব। এ কোন মগের মুল্লুক রে ভাই?
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশান রেগুলেটরি কমিশন বা বিটিআরসি মোবাইল কোম্পানি গুলোর এসব কৌশল বা ষড়যন্ত্র বা প্রতাড়না সম্পর্কে জানে। কিন্তু দেশে যেহেতু আইন ঠিকমত কাজ করে না। তাই একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা/কর্মচারীকে টুপাইস দিয়ে মোবাইল কোম্পানি গুলো এই অবৈধ ব্যবসাটি অবাধে করে যাচ্ছে। এমন কি এটা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে তেমন জোড়ালো কোনো নিউজ হয় না। কারণ মিডিয়া গুলো এদের বিজ্ঞাপনের টাকায় চলে। তাই এই বিষয়ে এরা পুরোপুরি অবগত থাকলেও কৌশলে একেবারে চুপচাপ থাকে।
দেশের নির্বোধ জনসাধারণ মোবাইল কোম্পানিগুলোর এই অবৈধ খপ্পরে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা নিজেদের অজান্তেই এদের দিয়ে দিচ্ছে। এটা দেখারও যেন বাংলাদেশে কেউ নেই। আমাদের টেলিফোন বিষয়ক মন্ত্রণালয় আছে। সেখানে অভিযোগ করলেও এর কোনো সুরাহা হয় না। কারণ প্রয়োজনীয় লোকগুলো এসব মোবাইল কোম্পানি তাদের অবৈধ টাকায় আগেই পকেট করে রাখে। ফলে আইন নিজস্ব গতিতে একদম আগায় না। আইন এক্ষেত্রে বধির হয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটায় উল্টো সমর্থন যোগায়। আমরা যেন এক মগের মুল্লুকে বসবাস করছি।
প্রথম কথা, মোবাইল কোম্পানি গুলোর সারাদিনের এত হাজার হাজার এসএমএস ঝামেলা একজন গ্রাহক হিসেবে আমাকে কেন প্রতিদিন সইতে হবে? কোনো একটি মোবাইল কোম্পানির সিম ব্যবহার করলেই সেই মোবাইল কোম্পানিকে তো আমি অবাধে এভাবে বিড়ম্বনা যোগান দেবার লাইসেন্স দেইনি। এদের নতুন কোনো অফার থাকলে সেজন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে পারে। রেডিও-টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দিতে পারে। সরাসরি গ্রাহককে দিনের মধ্যে হাজারবার এসএমএস করে একই অফার বারবার জানানোর কি আছে?
তারপর এসব আজব অফার থেকে এভাবে কৌশলে আপনার টাকা কেটে নিচ্ছে এরা। এর কী কোনো প্রতিকার নেই? এই বিড়ম্বনা নিয়ে আমি কয়েকবার লিখেছি। লিখে এদেশে কোনো কাজ হয় না। কারণ আইন এখানে টাকার পেছনে লুটোপুটি খায়। মোবাইল কোম্পানি গুলো প্রতি মিনিটে গ্রাহক হিসেবে আপনার থেকে যে আয় করছে, তার বিপরীতে এসব কৌশল ও ষড়যন্ত্র প্রয়োগ করে আপনার অজান্তে আরো বেশি ইনকাম করছে। এক্ষেত্রে সরকার নিরব। পাবলিক ভোদাই হলে যা হয়।
বিভিন্ন কনটেন্ট প্রোভাইডার বা সিপি কোম্পানি গুলো মোবাইল কোম্পানি গুলোর সাথে মিলে যৌথ প্রযোজনায় এই অবৈধ ব্যবসাটা বাংলাদেশে করছে এখন। কনটেন্ট প্রোভাইডার বা সিপি কোম্পানি গুলো মোবাইল কোম্পানি গুলোর সাথে কিছু চুক্তি করে এসব অবৈধ ব্যবসাটি যৌথ প্রযোজনায় করার জন্য। যা সরকারও জেনে না জানার ভান করে। মাঝখানে পকেট কাটা যাচ্ছে আমজনতার। আপনি একটা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন, মানে আপনাকেই ওরা এসব প্রতাড়নার ফাঁদে ফেলে মফিজ বানিয়ে টাকা কামাচ্ছে, আপনারই অজান্তে।
অনেক সময় মোবাইলে গভর্মেন্ট ইনফো আসে। এটা সরকারি ভাবেই করা হয়। এটা সহ্য করা যায়। কিন্তু দিনের মধ্যে হাজারবার এসএমএস/ফোন আপনি আর কত সহ্য করবেন? আমাদের প্রধানমন্ত্রী'র ফোনে নিশ্চয়ই এসব যায় না। মন্ত্রী বা সাংসদদের ফোনে নিশ্চয়ই এসব যায় না। আপনি আম পাবলিক, সো আপনাকেই এই বিড়ম্বনা নিরবে সহ্য করতে হবে। এ কোন মোবাইল কোম্পানির রাম রাজ্যে আমরা বসবাস করছি!
আমরা মোবাইল কোম্পানি গুলোর এসব প্রতাড়না ও কৌশলী অবৈধ ব্যবসাকে সরকারের দৃষ্টিগোচর করাতে চাই। বিটিআরসি এ বিষয়ে যতদিন ব্যবস্থা না নেবে, ততদিন এরা এই অবৈধ ব্যবসা করে জনগণের পকেট কাটতে থাকবে। আর মোবাইল কোম্পানির এক এসএমএস বা ফোনের বিড়ম্বনা আপনি কেন প্রতিদিন সহ্য করবেন? এজন্য আপনাকে তো কোনো টাকা দিচ্ছে না, উল্টো আপনার পকেট কাটছে এরা। সরকার ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সচেতন হয়ে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে জনগণ এদের কাছে চিরদিনই পকেট হারাতে থাকবে। আমরা চাই, বিটিআরসি এ বিষয়ে একটা খোলামেলা সিদ্ধান্তে আসুক। নইলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করাই বন্ধ করে দিতে হবে।
বর্তমান যুগ কমিউনিকেশানের যুগ। যোগাযোগ না করে থাকা যায় না। তাই একান্ত দায় ঠেকে আমার মত যারা মোবাইল ব্যবহারকারী, তাদের জন্য এটা সত্যি সত্যি খুবই বিড়ম্বনার। এ বিষয়ে কার কাছে বলব? বলে কি হবে? এদেশে বলে কি কোনো দিন কিছু হয়েছে? কিন্তু মোবাইল কোম্পানি গুলোর নানান কিসিমের অফারের আড়ালে এসব প্রতাড়না থেকে আপনি যতই সতর্ক থাকুন না কেন, আপনিও এদের কোনো না কোনো ফাঁদে আপনার অজান্তেই পা দিয়ে বসে আছেন। অতএব সাধু সাবধান। নিজেরে যত চালাক ভাবেন না কেন, মোবাইল কোম্পানি আপনার পকেট কাটছে আপনাকে বুঝতে না দিয়েই।

......................................
৮ জুলাই ২০১৫
ঢাকা
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৫ ভোর ৫:২৩
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×