শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি একটি মার্সিডিজ গাড়ি ফেলে গেছেন। গাড়িতে একটি খোলা চিঠিও ছিল। চিঠিতে ভদ্রলোক লিখেছেন- ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমার দখলে থাকা গাড়িটি শুল্ক গোয়েন্দার সদর দপ্তরে জমা করছি।’ গাড়িটির মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। মাত্র তিন কোটি টাকার মার্সিডিস রাস্তায় ফেলে গেছে! নিশ্চয়ই এই ভদ্রলোক আরো অনেক টাকার মালিক!
এই লোক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হইলে তো এই গাড়িটির যথাযথ কাগজপত্র থাকার কথা ছিল। প্রতি মাসে গাড়ির জন্য কর পরিশোধের ব্যাপার ছিল। কিন্তু এই গাড়ি সংক্রান্ত খবরে দেখলাম, ভদ্রলোক গাড়িটি অবৈধভাবেই এতদিন ব্যবহার করেছেন। আহা ভূতের মুখে রাম নাম!
আচ্ছা, আমাদের গাড়ি যারা রেজিস্ট্রেশান করেন সেখানে তো গাড়ির ইঞ্জিন নম্বর, গাড়ির মডেল, কালার, গাড়িটি কোন সালে তৈরি, গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষমতা ইত্যাদির পাশে গাড়ির মালিকের নামও লিখতে হয়।
ডিজিটাল বাংলাদেশে গাড়ির রেজিস্ট্রেশানের এই ব্যাপারটা তো সবার আগেই ডিজিটাল হওয়ার কথা। তো যদি কেউ গাড়ি রেজিস্ট্রেশান না করে, সে পালিয়ে পালিয়ে বেশিদিন চালাতে পারার কথা না। এই লোক আসলে গাড়িটি হজম করতে পারেনি। এরকম হজম করতে না পারা গাড়িগুলো নিশ্চয়ই রাষ্ট্রীয় সম্পদে পরিণত হচ্ছে। এটা একটা ভালো দিক। সারা দেশের সকল গাড়ির উপর একেবারে হোম টু হোম সার্চ দিলে এমন আরো গাড়ি নিশ্চিত বের হবে। কারণ ঢাকার রাস্তায় এত গাড়ি, সকল গাড়ির কাগজপত্র যে ঠিক নাই, এই বিষয়টা এক্কেবারে দিবালোকের মত পরিস্কার। কিন্তু যারা গাড়ির মালিক, তারা আবার অনেক ক্ষমতাবান, তাই ব্যাপারটায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ঠিক পেরে ওঠে না বলেই ঠাওর হয়!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



