somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য নপুংসক জাতিসংঘ উপদেষ্টার ভূমিকা পালন করছে!!!

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ১৯৬৬ সাল থেকে প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান সাক্ষরতার হার ৬১.৫ শতাংশ। মানে হলো দেশে এখনো ৩৮.৫ শতাংশ মানুষ নিরক্ষর। জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল বা সংক্ষেপে এমডিজি'র লক্ষ্যমাত্রায় ২০১৫ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৯১ শতাংশ করার টার্গেট ছিল। গোটা বিশ্বে জাতিসংঘের এই টার্গেট ব্যর্থ হবার পর এখন জাতিসংঘ সদস্য দেশগুলোর জন্য নতুন মওকা দিয়েছে সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোল বা এসডিজি। সেখানে বলা হয়েছে কোয়ালিটি এডুকেশানের কথা।

জাতিসংঘের এমডিজি'র লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে বাংলাদেশের মত গরীব দেশগুলো স্কুলে শিক্ষার্থীদের পাস করানোর সংখ্যার উপর এতদিন জোর দিয়েছিল। পাসের হার কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর সেই প্রচেষ্টার কারণে পাসের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বটে কিন্তু কোয়ালিটি ফল করেছে। আমাদের সরকারগুলো জাতিসংঘের এই ফাঁকিবাজির সঙ্গে নিজেরাও ফাঁকিবাজিতে দক্ষ হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সালে এমডিজি ব্যর্থ হবার পর এখন এসডিজি নিয়ে নতুন লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেখানে কোয়ালিটি এডুকেশানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এটা করতে গিয়ে আবার পাসের হার কমে যাবে। জাতিসংঘ তখন আবার সদস্য দেশগুলোর সরকারগুলোকে নতুন চালাকি শিখিয়ে দেবে। মাঝখান থেকে একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বলতে যা বুঝায় তা প্রকৃত অর্থেই ধ্বংসের চূড়ান্তপর্বে উত্তীর্ণ হয়েছে।

আজকে চারিদিকে পাসের উচ্চ হার আর জিপিএ প্লাসের ছড়াছড়ি। কিন্তু সেখানে কোনো কোয়ালিটি নেই। আমাদের শিক্ষার কোয়ালিটি বোঝার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার-এর কথাবার্তার দিকে নজর দিলেই বিষয়টি ক্লিয়ার হবার কথা। উনি ভুল লিখতে ভুল করেন। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস গুলিয়ে ফেলেন। এই চিত্র থেকেই গোটা জাতির এডুকেশানের কোয়ালিটি কিছুটা আন্দাজ করা যায়। আন্দাজ করা যায় জাতিসংঘ আসলে উন্নয়নের নামে দেশকে কোথায় ঠেলে দিচ্ছে। জাতিসংঘের এমডিজি অনুযায়ী, বর্তমান ধারায় উন্নয়ন চলতে থাকলে ২০৫৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ শতভাগ সাক্ষরতা অর্জন করতে সক্ষম হবে! জাতিসংঘের ঠেলা বোঝেন! জাতিসংঘ যদি না ঠেলে তবে আগামী ২১০০ সালেও বাংলাদেশের শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের আগ্রহ নেই! জাতিসংঘ গরীব দেশের সরকারগুলোকে একটা ছকের মধ্যে মাপামাপি করেই অভ্যস্থ। কারণ গরীব দেশগুলো যদি নিজেরাই স্বয়ংসম্পন্ন হয়ে ওঠে তাহলে এই পিকনিক পার্টি জাতিসংঘের আর কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকে না।

খেয়াল করবেন, সারা বিশ্বের যেখানে যেখানে এখন যুদ্ধ চলছে সেখানে জাতিসংঘ কিন্তু নপুংসক। যুদ্ধ শেষ হলে সেখানে তারা নানান কিসিমের উন্নয়ন সাহায্য নিয়ে দৌড়ঝাপ করছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন দিবস পালনে বাংলাদেশের মত সরকারগুলো'র বছরে যে খরচ হয়, তা দিয়েই বরং কোনো একটি সেক্টরের টেকসই উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। বড় বড় বক্তৃতা দেবার কৌশল শেখানো জাতিসংঘ আসলে একটা কাগুজে সিংহ। বাস্তবে এটি মার্কিন সরকারের দালাল। এবং কার্যক্ষেত্রে পুরোপুরি নপুংসক। আর এটি চলে সদস্য দেশগুলোর মোটা অংকের চাঁদায়। তবে সবচেয়ে বেশি বকেয়া চাঁদা কিন্তু সেই বড় মোড়লের মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের।

এসব দিবস পালন বাদ দিয়ে বরং আমাদের মন্ত্রীদের জন্য একটা কোয়ালিটি বক্তৃতা কোর্স চালু করা যেতে পারে। যাতে মন্ত্রীরা ভুল লিখতে আর ভুল না করেন। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের সঙ্গে যাতে আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস গুলিয়ে না ফেলেন। অন্তত মানুষের সামনে যাতে আর জোকার হতে না হয়, সেজন্য মন্ত্রীদের জন্য একটা কোয়ালিটি এডুকেশান কোর্স চালু করলে সেটা বরং আমাদের অনেক বেশি কাজে দেবে। শিক্ষা খাতকে চূড়ান্ত ধ্বংস করতে এখনো যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা হয়তো সেই সুযোগে কিছুটা রক্ষা পাবে।

...............................
৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৪৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×