রবিবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার অষ্টম দিন। বইমেলায় বেশ ভালোই ভিড় ছিল। কিন্তু বইমেলায় আড্ডার পাশাপাশি আমাদের চোখ পড়েছিল মোবাইলের ছোট্ট স্ক্রিনে। সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের অনুর্ধ্ব-১৯ যুবদের ক্রিকেট দেখার জন্য। যে করেই হোক ভারতকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে হবে। শেষ পর্যন্ত আকবর আলীরা সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে। জয়তু বাংলাদেশ যুব ক্রিকেট। তোমরা আমাদের গর্ব। বাংলাদেশ এখন বিশ্ব ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন দল। তোমাদের হাত ধরেই একদিন আমরা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি জয় করব।

বইমেলায় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তৃতীয় গ্রন্থ 'আমার দেখা নয়াচীন'। বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বইটি ২০ হাজার কপি ছেপেছিল। সবশেষ। খুব শিঘ্রই নতুন বই আসবে বলে জানালেন বাংলা একাডেমি'র কর্মকর্তা মণি হায়দার। এর বাইরে আরেকটি কবিতার বই প্রিন্টআউট। বন্ধু মারজুক রাসেলের 'দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর'। বইটির ৭০০ কপি শেষ। মারজুকের ভক্তরা বইমেলায় বইয়ের জন্য শ্লোগান পর্যন্ত দিয়েছে।
আজ সব্যসাচী থেকে মেলায় এসেছে টোকন ঠাকুরের কবিতার বই 'ঘামসূত্র'। জামিনী রায়ের ফন্ট দিয়ে বইটির সুন্দর প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী চারু পিন্টু। আগামীকাল প্রথমা থেকে আসবে টোকন ঠাকুরের আরেকটি কবিতার বই 'বুদবুদ পর্যায়ের কবিতা'। সংহতি প্রকাশন থেকে এসেছে আবদুল হামিদ খান ভাসানী'র লেখা ‘মাও-সে-তুঙ-এর দেশে'। ভাসানী ১৯৬৩ সালে চীন সফর করেন। আর বঙ্গবন্ধু প্রথম চীন সফর করেন ১৯৫২ সালে। এছাড়াও ১৯৫৭ সালে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ-এইড দফতরের মন্ত্রী থাকাকালে পাকিস্তান সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বার চীন ভ্রমণ করেন।
আমি আমাদের মহান দুই নেতার চীনের প্রতি গভীর আগ্রহের কারণে এই দুটি বই একসঙ্গে পড়তে চাই। বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্ক দিনদিন উন্নতি হচ্ছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চীন ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। এমনকী বঙ্গবন্ধু মারা যাবার পর ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু বিশ্বরাজনীতি এবং ভৌগলিক অর্থনৈতিক কারণে চীন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। দুই মহান নেতার চীনের প্রতি যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এখন চীন-বাংলাদেশ বৈদেশিক সম্পর্ক নতুন বন্ধুত্বে রূপ নয়েছে। আমি আমাদের মহান দুই নেতার চীন নিয়ে লেখা বই পড়ে তাদের আগ্রহের বিষয় জানতে চাই। পাঠক, আপনি জানতে চান তো?
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনুর্ধ্ব -১৯ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন এখন বাংলাদেশ। এ লেখা যখন লিখছি তখন নতুন শাকিব, তামিম, আকবররা আমাদের ইতিহাসের অংশ। তোমরা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছো। তোমাদের জন্য অফুরান লালগোলাপ শুভেচ্ছা। একদিন তোমরাই সোনার হরিণ বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয় করবে। আমরা সেই বিশ্বাস রাখি। জয়তু যুব ক্রিকেট। জয়তু টিম বাংলাদেশ।
বইমেলার আলোচনা লিখতে আজ আর ভালো লাগলো না। সবাই বইমেলায় আসুন। ভালো বই বাছাই করে কিনুন। প্রিয়জনকে বই উপহার দিন। সবাইকে একুশের শুভেচ্ছা।
----------------------
বইমেলা থেকে ফিরে
রেজা ঘটক
কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৫:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


