somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করোনা দুর্যোগে সবাই সতর্ক হোন!

০১ লা এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিদিন স্নান করার পর আমার ঘণ্টাখানেক নাক দিয়ে পানি ঝড়ে। সময় গড়াতে থাকে আর পনি ঝড়াও কমে আসে। এটা আমার জীবনে একটা স্বাভাবিক ঘটনা। এমনকি করোনা দুর্যোগের কালেও এমনটি হচ্ছে। কিন্তু এটাকে আমি নিজের শরীরের নিয়মিত ধরণ বলেই মানছি। তাই এটা নিয়ে বাড়তি কোনো মানসিক চাপও একদম নিচ্ছি না।

আমার অ্যাজমা আছে। ডাস্ট অ্যান্ড কোল্ড আমি একদম সহ্য করতে পারি না। এই দুটোই আমার অ্যালার্জি। আমার থেকে ৫০ গজ দূরে কেউ ঝাড়ু দিলেও আমার হাঁচি শুরু হয়। তীব্র ঘ্রাণে আমার নাকে পানি আসে। খুব গরম কিছু খেতে গেলেও আমার নাকে পানি আসে। কোথাও স্যাঁতসেঁতে কিছু টের পেলেই আমার নাক আমাকে সিগন্যাল পাঠায়।

ঘ্রাণ নিয়ে যেসব প্রাণিরা খাবার সংগ্রহ করে, যারা ঘ্রাণের উৎস অনেক দূর থেকেই টের পায়। অনেকটা সেসব প্রাণির মত তীব্র সতর্ক থাকে আমার নাক। ফলে শীতকালে আমাকে খুব সতর্ক থাকতে হয়। অনেকেই জানতে চান আমি সারাক্ষণ একটা গামছা কেন সাথে রাখি? কারণ এই গামছা দিয়ে আমি নিজেকে নানাভাবে সেফ রাখি। গামছার সর্বোচ্চ বহুবিদ ব্যবহার আমি জানি।

নদীর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, ইচ্ছা হলো সাঁতার কাটবো। খুব অনায়াসে আমি নেমে পড়ি সাঁতার কাটতে। কোনো ধূলোপথ পাড়ি দিচ্ছি, গামছা দিয়ে আমি নিজের নাকমুখ সেফ করি। কোনো এসি রুমে হয়তো দীর্ঘক্ষণ বসে আছি, গামছা দিয়ে আমি মাফলার বানিয়ে ফেলি। সাধারণ হাতমুখ ধোয়ার পর মুখ মোছার জন্য এই গামছা উৎকৃষ্ট।

রোদের মধ্যে হাঁটছি, গামছা তখন আমার ছাতা হয়ে যায়। বৃষ্টির মধ্যে হাঁটছি, গামছা দিয়ে তখন মাথা শুকনা রাখার চেষ্টা করি। বা বেশি ভিজলে গামছা দিয়ে মাথা মুছে ফেলি। অর্থ্যাৎ অন্য দশ জন সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক কৌশল করেই আমাকে বেঁচে থাকতে হয়। কিন্তু যারা বলদের মত আমার গামছা নিয়ে অনেক সময় প্রশ্ন করেন, তাদের প্রশ্ন আমি সবসময় এড়িয়ে চলি। তাদেরকে বলি- এটাই আমার স্টাইল।

আরেকটা জিনিস হলো- আমার অনেকগুলো গামছা। সবসময় আমি গামছাগুলো পরিস্কার রাখার চেষ্টা করি। বাইরে থেকে ফিরে ব্যবহৃত গামছাটি আমি ধুয়ে ফেলি। ঘরে যে গামছা ব্যবহার করি, সেটি বাইরে ব্যবহার করি না। ছোটবেলা থেকেই আমার ব্যবহৃত প্রায় সকল জিনিসপত্র পরিবারের অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখতেন আমার মা। এমনকি আমার ব্যবহৃত কোনো জিনিস অন্যদের ধরতেও দিতেন না।

আমাকে বাঁচতে হলে আমার জিনিসপত্রগুলো অন্যদের থেকে আলাদা রাখাটা জরুরি। এই শিক্ষাটা আমি ছোটবেলা থেকেই পেয়েছি। তাই আমি সেভাবেই বড় হয়েছি। আমি নিজের বিছানা ছাড়া অন্য কোথাও কমফোর্ট ফিল করি না। আমি একা থাকি বলেই সবকিছু আমার মত করে রাখতে সহজ হয়। এই নিয়মের একটু এদিক-সেদিক হলেই আমি অসুস্থ হয়ে যাই।

করোনা দুর্যোগের সময় স্যোশাল ডিসট্যান্সিং এবং কোয়ারেন্টাইন হলো বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়। এটা যদি আপনি কোনো কারণে হেলাফেলা করেন, ধরে নিবেন আপনি শুধু নিজে না, আপনি আপনার পরিবার ও প্রতিবেশির জন্যও হুমকিমূলক আচরণ করছেন। তাই দয়া করে ঘরে থাকুন। সুস্থ থাকুন। করোনা টেস্টের পিছনে খামাখা ছুটবেন না। করোনা টেস্ট পজেটিভ হলেও আপনার জন্য কোনো ওষুধ নাই। তখন আপনাকে আইসোলেশন করাটা জরুরি। আপনার মধ্যে সেরকম উপসর্গ দেখা দিলে আপনি হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

একটা জিনিস তো সবাই জানেন, করোনা দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আমার মত যারা, তারা সবাই। অ্যাজমা কিংবা হাঁপানি যাদের আছে, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। তাই অন্যদের চেয়ে এদের আরো বেশি শৃঙ্খলা মেনে চলতে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের নানান প্রয়োজনে সকল নিয়ম কানুন সবসময় মানা কঠিন। ছোটখাটো অনিয়ম আমাকেও করতে হয়। কারণ আমার প্রয়োজনীয় জিনিস আমি বাইরে না গেলে কে আমাকে এনে দেবে?

কিন্তু তারপরেও আমি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি। আপনিও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, করোনা কোনো রোগ নয়, করোনা একটি প্রাণঘাতি ভাইরাস। আর এটি কেবল মানুষকে খুন করার জন্য পৃথিবীতে এসেছে। অতএব সিদ্ধান্ত আপনার। আপনি বেঁচে থাকতে চান নাকি নিজেও মরবেন, অন্যদেরকেও মারার নীতিতে আছেন। সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হলে আমরা সকলেই বাঁচবো। এখানে কোনো ধরনের ন্যূনতম হেলাফেলা বা উদাসীন থাকার কোনো সুযোগ নাই। কারণ করোনা আপনাকে কোনো ওয়াকওভার দেবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:২৬
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×