somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সত্য বলা যাবে না

৩১ শে মার্চ, ২০২১ রাত ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা এমন একটি সময়ে বসবাস করছি যেখানে সত্য বলা যায় না। সত্য বললে শাসকের রক্তচক্ষু আপনাকে তীলে তীলে নিঃশেষ করে দেবে। আপনার মুখের সত্য কথা আটকানোর জন্য রয়েছে কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, যা একটি কালো আইন। আপনি কিছু বললেই কারো না কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগে!

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে আপনি উচিত কথা বলতে পারেন না। সংবাদপত্রের কোনো স্বাধীনতা নাই। আমাদের সাংবাদিকগণ সরকারের প্রেসনোট মেনেই দায় সারেন। আমাদের স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ নাই। নো ফ্রিডম অব স্পিস। নো ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশান। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে আপনি ইচ্ছে করলেও সবকথা প্রাণখুলে বলতে পারবেন না।


এরকম একটি সংকটময় সময়ে আমরা যারা লেখালেখি করি, তাদের কলম বন্ধ। আমরা ধীরে ধীরে দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছি। আমরা লেখক মুশতাকের পরিণতি দেখেছি। আমরা কার্টুনিস্ট কিশোরের পরিণতি দেখেছি। তাই এদেশে নতুন কোনো মোশতাক বা কিশোর হতে কেউ চায় না। আমরা ধীরে ধীরে ছা পোষা কেরানি হয়ে যাচ্ছি। শাসকরা যে পূজায় টুষ্ট আমরা সবাই সেই রকম অর্ঘ্য দিচ্ছি। পূজারীকে খুশি করতে তার ইচ্ছায় অর্ঘ্য দিচ্ছি!

আমি মনে করি, যে লেখায় মানুষের অনুভূতিতে কোনো ছাপ ফেলতে পারে না, সেই লেখা কোনো লেখাই না। রাম-শ্যাম, জদু-মধু, লাইলি-মজনু, ফরহাদ-শিরিন এরকম প্রেমের উপন্যাস লিখলে এখন আর তা চলে না। লেখায় যদি আগুন না থাকে সেই লেখা আমি গাটের পয়সা খরচ করে কিনব কেন?

এবছর আমি 'সত্য বলা যাবে না' নামে একটি মুক্ত গদ্যের বই করেছি। এই বইতে পিয়র সাহিত্য যেমন আছে, তেমনি আছে সমকালীন নানান নিবন্ধ। যা ঠিক গল্প বা প্রবন্ধ নয়। তাই বইটিকে আমি মুক্ত গদ্যের বই বলছি। বিদ্যমান মধ্যযুগীয় বর্বতার মধ্যেও যতটুকু সত্য প্রকাশ করা সম্ভব, তা এই বইতে বলার চেষ্টা করেছি। বইটির একটি বিশাল অংশজুড়ে করোনা মহামারীর নানান অনুসঙ্গ ব্যাখ্যা করেছি।

যারা আমার লেখা পছন্দ করেন, তারা এই বইটি থেকে সমকালীন বাংলাদেশের একটি চিত্র পেতে পারেন। 'সত্য বলা যাবে না' প্রকাশ করেছে পাললিক সৌরভ। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী ধ্রুব এষ। বইটি পাওয়া যাবে অমর একুশে বইমেলার ২৪ নম্বর স্টলে। এছাড়া ঘরে বসে রকমারি ডট কম বা কানামাছি ডট কম থেকেও আপনি বইটি কিনতে পারবেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০২১ রাত ১:৫৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×