পাকিস্তানী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানী খার কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে আসার আগে আগেই পুরুনো এক বিতর্কের ঝর উঠেছিল বাংলাদেশ মিডিয়াতে। বিতর্কটা সেই পুরুনো অমিমাংসিত বিষয়টা নিয়ে। বর্বর পাকিস্তান কি এবার ৭১ এর জন্য ক্ষমা চাইবে? নাকি অভ্যন্তরীণ-আন্তর্জাতিক হামলায় কার্যত সার্বভৌমত্বহীন দেশটা এখনও ক্ষমা না চাইবার মত মানসিক শক্তি রাখে ?
আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রি, প্রধানমন্ত্রি রীতিমত ক্ষমা চাইবার কাগজ-পত্র নিয়ে প্রস্তুত। দেশীয় মিডিয়াও ক্ষমা চাইবার সম্ভাব্য শিরোনাম লাল না নীল কালিতে হবে তা নিয়ে ব্যাস্ত ছিল সবাই।
কিন্তু বিষয়টা শেষে কি দাঁড়ালো ? পাকিস্তানী পররাস্ট্রমন্ত্রী বিষয়টা অত্যন্ত কৌশলে এড়িয়ে গেলেন। দীর্ঘ হতাশায় গ্রাস করল আমাদের । যেন যুদ্ধটা আমরা এ বছরই হারলাম।
আমার আলোচনার বিষয় এটা না। আমার ব্যক্তিগত কাঠগড়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও না । আমার কাঠগড়ায় আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কি ভেবেছিলেন আপনারা আমার দেশের লাখ লাখ মানুষকে হত্যাকারী, ইজ্জত লুন্ঠনকারী ঐ নরপশুদের আঘাতের ক্ষত মুছে যাবার আগেই ওরা আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি খুশি মনে তাদের ক্ষমা করে দেব? আপাত নিরীহ-নিরস্ত্র সহজ-সরল বাঙ্গালীদের উপর প্রৃথিবীর নৃসংসতম গণহত্যা চালিয়ে ৪০ বছর পর উড়োজাহাজে করে একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে বলবে আমরা দু:খিত আর ওমনি আমরা বলব- “কি দরকার ছিল , বাদ দেন এসব পুড়োনো প্যাচাল। আসুন আমরা নগদ কিছু নিয়ে আলোচনা করি”
মাননীয় রাষ্ট্রযন্ত্র,
আমরা যারা স্বধীনতার তৃতীয় প্রজন্ম আমরা তো স্বাধীনতা দেখেনি, আপনারাই তো আমাদের শুনিয়েছেন যুদ্ধের সেই আবেগমাখা গল্প, সেই বীরত্বগাথা। যে গল্প বলতে গিয়ে ঝর ঝর করে শিশুর মত কেঁদেছিলেন, কাঁদিয়েছিলেন। আমাদের চেতনায় স্বাধীনতা অম্লান করে রাখার জন্য জ্বালিয়েছিলেন শিখা চিরন্তনি।
তাহলে কেন আমাদের অনুভুতি শুনবেননা? আপনাকে শুনতেই হবে। তাহলে শুনুন- স্বাধীনতার ৪০ বছর কেন ৪০ হাজার বছর পরেও যদি পুরো পাকিস্তান জাতি নাকে খত দিয়েও ৭১ এর নৃশংসতার জন্য আমাদের কাছে ক্ষমা চায় অন্তত এই প্রশ্নে আমরা তাদের ক্ষমা করব না। অন্তত এই প্রশ্নে আমার মহৎ হওয়ার দরকার নেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



