somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোটা প্রথার বোঁটাসহ বিলোপ চাই (চতুর্থ পর্ব)

১০ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলুন আজ অতি পরিচিত একটা পুরোনো বিষয়ের সাথে নতুন করে পরিচিত হই। ধরুন আপনি বেসরকারি কোন ব্যাংকে গেলেন কিংবা কোন কর্পোরেট অফিসে অথবা বেসরকারি সেবাদানকারি যে কোন জায়গায়। গিয়ে দেখলেন ছোট্ট একটা অপেক্ষমান লাইন অথবা আপনার প্রয়োজনীয় কাজটা সম্পন্ন করতে দশ মিনিট দেরী হবে। নিজেকে একবার ঐ জায়গায় নিয়ে ভাবুন তো আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে?
শুধু আপনি কেন আমরা সবাই যারপরনাই বিরক্ত হব তাদের সার্ভিসের প্রতি। শুধু বিরক্তই না পারলে যথা জায়গায় নালিশ জানাতে এক মুহুর্ত দেরী হবে না আমাদের কারোরই।

এবার চলুন একটু অন্যভাবে চিন্তা করা যাক। এবার আপনি একটা সরকারি অফিসে গেলেন কিংবা সরকারি যে কোন প্রতিষ্ঠানে, হতে পারে সেটা কোন সরকারি ব্যাংক বিমা অথবা পাসপোর্ট অফিস। সেখানে দেখলেন আপনার দশ মিনিটের কাজটা করতে তারা ইতোমধ্যে মাসখানিক সময় পার করে দিয়েছে এবং অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আরো দীর্ঘ কাল অপেক্ষা করতে হবে। তো, ঐ জায়গায় আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে? শুধু আপনি কেন আমরা সবাই ধরেই নেব এটাই তো স্বভাবিক , এটাই তো হওয়া উচিৎ। আমরা সরকারি অফিসে আসব আবার আমার কাঙ্খিত কাজও সময়মত চাইব এটা তো হতে পারে না।

আমার প্রশ্নটা এখানেই, কেন এমনটা হবে? আমি তো দেখছি আমার আশেপাশে লাখ লাখ মেধাবি রীতিমত যুদ্ধ করে সরকারি চাকরিতে একটা আসন করে নেয়। তাহলে তারা চাকরিতে ঢুকেই এরকম স্লো হয়ে যায় কিভাবে? আমার পরিচিত ছেলেটা বা মেয়েটা যে কিনা বিসিএস উত্তির্ন হয়ে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছে সে তো এরকম না।

শুভংকরের ফাঁকিটা এখানেই। আপনার পরিচিত মেধাবী প্রতিযোগী তো আসলে তার যোগ্য যোগ্যতার জায়গায় যেতে পারছে না। তার যোগ্যতার জায়গাটা দখল করছে তার থেকে হাজার গুণ পেছনে পরে থাকা আরেকজন প্রতিযোগী।

আমরা যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা বলে সবকিছু হাসিমুখে মেনে নিয়ে দেশকে ক্রমাগত পিছনে ঠেলে দিচ্ছি এটাতো আমাদের নিজেদের সৃষ্টি, আমাদের অদ্ভুত বুদ্ধিমান সরকারের সৃষ্টি।

আমাদের সরকার আমাদের সামনে অদ্ভুত এক কোটা ব্যাবস্থা দাঁড় করিয়ে রেখেছে। যে ব্যাবস্থায় আছে জেলা কোটা ১০%, সংস্লিষ্ট জেলায় মুক্তিযোদ্ধা ৩০%, নারী ১০% এবং উপজাতি ৫%। মোট কোটা দাঁড়ায় ৫৫% যা কিনা অর্ধেকেরও বেশী!!!!

আরেকটা বিষয় কোটার অধিনে বিবেচনাধীন ব্যাক্তিরা আবার মেধার ৪৫ জনের মধ্যেও বিবেচিত। যে সংবিধান সংবিধান করে আমাদের রাজনীতিবিদরা মুখে ফেনা তুলে ফেলে সেই সংবিধানে তো কোথাও এই বৈষম্য সমর্থন করে না। হ্যা, সংবিধানের ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে নারী ও উপজাতি কোটা বৈধ। কিন্তু জেলা কোটা সম্পূর্ন অবৈধ। কারন সংবিধান ২৯(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে “অনগ্রসর অংশের” কোটা সমর্থন করে (যা কিনা নারি ও উপজাতি) কিন্তু কখনই ”অনগ্রসর অঞ্চল” সমর্থন করে না।

আবার দেখেন মাত্র ৭ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার জন্য ৩০ শতাংশের এক বিশাল জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে যা কিনা আবার সম্পূর্ণভাবে খুব কমই পূরণ হয়। যেমন উদাহরনসরুপ বলা যায়---
২১ তম বিসিএস এ মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৩০% এর মধ্যে পুরণ হয়েছিল মাত্র ১০.৮%, ২২ তম বিসিএস এ আরো কম মাত্র ২.২% , ২৫ তম বিসিএস এ ৫.২%।

আর ভয়ংকর ব্যাপার হল আইন অনুযায়ী অসম্পূর্ণ আসন গুলো খালি রাখতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন। যেমন ২৮ তম বিসিএস এ মোট পদের ৮১৩ আসনই খালি রাখতে বাধ্য হয়েছিল পিএসসি।
তবে খুশির খবর এই নিয়ম এখন আর থাকছে না। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রির কাছে আমাদের আবেদন কোটা প্রথার যে অংশটা শিথীল করার উদ্দোগ নেয়া হচ্ছে সেটা ছিল একেবারেই অতিরিক্ত এবং হাস্যকর। এই অংশটা বাদ দিয়ে চিন্তা করলেও যে অসাম্য কোটা ব্যাবস্থা বর্তমানে প্রচলিত আছে তার চাপেই আমাদের মানষিক মৃত্যু অবধারিত আর “পূরণ না হলেও খালি রাখতে হবে” এই নিয়মটা ছিল আমাদের প্রতিকী মৃতদেহ নিয়ে ঘৃণ্য কাঁটাছেড়ার শামিল।
এভাবে আমরা দিন দিন যেমন মেধাবী আমলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি তেমনি অনেক তরুণ তাদের নিজেদের মেধার সঠিক পরিচয়ও দিতে পারছে না কোথাও। উন্নয়নরুপি বৃক্ষের গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালছি আর বলছি গাছ বাড়ছে না কেন?
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহকে আমরা আসলে কেন ভালোবাসি—জীবনাচারের জন্য, নাকি পাকিস্তানের জন্য?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

ইতিহাসের কিছু চরিত্রকে আমরা ভালোবাসি না তাঁদের পুরো জীবনকে বুঝে; বরং তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া একটি রাজনৈতিক প্রতীকের জন্য। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

জিন্নাহ ছিলেন নিঃসন্দেহে অসাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×