ডেইলি স্টারের প্রথম পাতা্র উপরের দিকে কোনায় ১৪ বছরের ছোট্ট একটা ছেলের ছবি দেয়া, নিচে মুটামুটি বড় করে দেয়া তারই আরেকটা ছবি- সাদা ধবধবে পুরো শরীর, আগুনে ঝলসানো। হাত-পায়ের আঙুলগুলোও এক করতে পারছেনা। দেখে মনে হয় কিছুটা চুপচাপই বসে আছে সে। কী জানি তার শরীরের যন্ত্রনাটা হয়তবা চলে গেছে অনুভুতিরও ঊর্ধ্বে। শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গেছে তাঁর ; না, পোড়ানো হয়েছে।
ছেলেটির নাম মনির। রাজধানি দেখবে বলে বাবা রমজান মিয়ার কাছে আবদার ছিল বহুদিনের । আদরের ছেলের আবদার বাবা কি ফেলতে পারেন? এই কয়দিন আগেই হয়তবা্ ঈদের ছুটিতেই বাবার সাথে ঢাকা এসেছে সে। কিন্তু ঢাকাই ছিল তাঁর এই গ্রহের শেষ স্টেষন। সে কি জানত আমাদের রা্জনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক সক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে বারবিকউ করতে বেছে নেবে তাঁকেই?
পাশেই আরেকটি বড় ছবি দেয়া। লাশবাহি এম্বুলেন্সের সামনের জানালা দিয়ে বের হয়ে থাকা মধ্যবয়স্ক এক ব্যাক্তর উদ্ভ্রান্ত মুখ। ভাবলেশহীন জলশুন্য দুচোখে কোন ভাষা নেই, নেই কোন কান্না-চুপচাপ। তবু কী যেন অনবরত বলে যাছ্ছে তা। রোদে পোড়া চেহারাটার কপালজুড়ে কয়েকটা ভাজ। ভাজে ভাজে প্রশ্ন, ছেলের লাশ বয়ে নিয়ে যাওয়া এক বাবার প্রশ্ন। কে দিবে উত্তর?
এ যেন আরেক একাত্তর। একইভাবে হত্যা করা হছ্ছে আমাদের ভবিষ্যতদের। পার্থক্য শুধু একটাই। তখনকার তরুন সমাজ যেখানে একযোগে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা সেখানে চুপচাপ যার যার জায়গায় বসে ভাবছি আমি ভাল আছি তো?
হ্যা, রমজান আলি আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের সবারই জানা! শুধু উত্তর দেবার রেসপনসিবিলিটি আজকের তরুন সমাজ নিছ্ছে না। বিশ্বাস করুন আমার বাংলাদেশের আজকের এই অবস্থার জন্য আমরা “চুড়ি পড়া” তরুনরাই দায়ী; আমি দায়ী। আপনার ছেলের হত্যার জন্য আমাদের কখনও ক্ষমা করবেননা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



