সকালে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছিলো ঢাকায়। অনেকটা হঠাৎ করেই। অবশ্য প্রচন্ড গরম অনুভূত হচ্ছিলো আগে থেকেই। এছাড়া গত এক মাসে হালকা বৃষ্টি অস্বস্তিকর একটি অবস্থার সৃষ্টি করেছিলো।
ভাবছিলাম ঝুম বৃষ্টি বিষয়টা কিনন্তু দারুন জিনিস। এ ই ধরনের বৃষ্টি হলেই কেবল মনে হয় জানালার পাশ্বর্ে দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখি। উঠোনে হালকা পানি জমবে। তাতে কাগজের নৌকা ভাসাবো। উ: কি দারুন দৃশ্য। কিছুক্ষন পর গরম লাল চা আর মুড়ির বাটি নিয়ে বসবো। পাশ্বর্ের বাড়ি থেকে ছুটে আসবে প্রিয়তমা (আমার অবশ্য এমন কেউ নেই)।
এর মধ্যে মনে আসবে কবিতা। দুএক লাইন ব্যর্থ চেষ্টা হবে কিন্তু তাতেই মন হয়ে উঠবে উচাটন (শব্দটার সঠিক অর্থ আমিও জানিনা)। এর পর রেডিওতে রবীন্দ্র সংগীত। শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়া। কি অসাধারন হতো তাই না ?
কিন্তু যা হয়নি তা ভেবে আর কি লাভ । ইট পাথরের এই ঢাকা নগরীতে আবেগ আর অনুভূতি গুলোতো ভোতা হয়ে গেছে সেই কবেই। এখন আর একজনের আনন্দ অন্যকে বিগলিত করেনা। একজনের দু:খ আরেকজনকে স্পর্শ করেনা। কারো হাহাকার প্রতিবেশীর ভাবনায় ঝাপটা দিতে পারেনা। এ কেমন জীবন ?
রাস্তায় মৃতদেহ পড়ে থাকে তার পাশ দিয়ে ছুটে যায় মানুষ। দুর্ঘটনাকবলিত শিশুকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেনা কোন মানবপ্রাণ। ছিনতাইয়ের কবলে পড়ার দৃশ্য দেখেও দাড়িয়ে থাকে মানুষ। নিজের ছাড়া অন্যের কোন বিষয় নিয়ে ভাবনাই হয়না কারো। এ কেমন মনুষ্যত্ব।
ধুর শুরু করছিলাম ঝুম বৃষ্টি নিয়ে। সেটা আমাকে নিয়ে গেলো কোথায়। আসলে সব যেন কেমন হয়ে গেছে। কবিতা আর গান এখন আর এদেশের মানুষের মধ্যে কোন প্রভাব ফেলেনা।
অথচ এই আমার স্বদেশ। ষাটের দশকেও নাকি এখানে স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রমকে উত্তাল করে তুলেছিলো গান আর কবিতা। কোথায় আমাদের সেই অনুভূতি গুলো। এদেশের গান, কবিতা এবং প্রকৃতিতে নতুন করে সাজাতে হবে। মুক্তিসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ আর গণঅভ্যুত্থান এসবের মধ্য দিয়েই এখানে ঝড় তুলেছে লালন ফকির কিংবা লোকসংগীতের মায়াবী কথামালা। আবার কবে সবাই মন খুলে সবাই তা শুনবে ?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



