যেসব কৃতকর্মকে অন্যায় বলে আখ্যা দেয়া হয়- পৃথিবীর সর্বত্রই তা অন্যায় হিসেবে চিহিৃত হয়। এই ধরুন একটি খুনের ঘটনা ঘটলো, এ খুনটি বিশ্বের যেখানেই হোক না কেন তা অন্যায়। তা যুক্তরাষ্ট্রেই হোক আর বাংলাদেশেই হোক। আবার যেমন ঘুষ খাওয়া। পৃথিবীর সর্বত্রই তা একটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। যুদ্ধাপরাধ তেমনি একটি বিষয় পৃথিবীর সর্বত্রই যা চরম ঘৃনার। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের কোন ক্ষমা হতে পারেনা বলেই বিশ্বাস করেন সভ্য জগতের মানুষেরা।
দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারনে জার্মানীর হিটলার অনুসারী নাৎসী বর্বরতার কথা কেন না জানে। অর্ধশতাব্দী পর এখন জার্মানীতে আয়োজন চলছে তাদের বিচারের। মানবতা সেখানে সোচ্চার হয়ে উঠেছে কলংক মোচনে।
71 সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে রক্তের সাগরের ভেলায় চড়ে স্বাধীন বাংলাদেশ হলো। নয়টি মাস যুদ্ধাপরাধীরা যে তান্ডব চালালো বাঙ্গালীর উপর সে অত্যাচার সভ্য দুনিয়ায় তো দুরের কথা,জাহান্নামেও কি সম্ভব ?
অথচ রনাঙ্গনের রক্তের ক্ষত না শুকোতেই উদারতার দোহাই (মতান্তরে মার্কিন চাপে) দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচিয়ে রাখা হলো। কালক্রমে সেই অপবিত্র বীজ থেকে তৈরী হওয়া বটবৃক্ষ অক্টোপাসের মতো আবদ্ধ করে ফেলেছে আমাদের ভবিষ্যত কে। একের পর এক বোমা হামলা চালিয়ে ওরা স্বাধীনতার ভিত নষ্ট করে দেয়ার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাই আবারো প্রশ্ন এসেছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা উচিত কি-না। অনেকেই মনে করেন যুদ্ধাপরাধীদের চিহিৃত করে মৃত্যুদন্ড দেয়া উচিত তার বর্তমান সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থান যা-ই হোক না কেন।
মনে রাখতে এ যুদ্ধাপরাধীরাই ধর্মের কথা বলে হত্যা, ধর্ষণ ও অগি্নসংযোগের মতো অপরাধ করেছে আবার এরাই ধর্মের কথা বলে বাংলাদেশে বোমাবাজি করছে। জেএমবি যুদ্ধাপরাধীদেরই একটি অংশ মাত্র। অতএব বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে স্বাধীনতার 35 বছর পরে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



