somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কল্যাণমূলক অর্থনীতি অনুসরণ করে সবার জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব।

১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জাতীয়ভাবে আমরা নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। কিন্তু নারীর ক্ষমতায়ন করতে হলে তাদের আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলতে হবে। কাউকে অভুক্ত রেখে তার কাছ থেকে ভালো কাজ আশা করা যায় না। ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানের জন্য সবার আগে যে জিনিসটি প্রয়োজন তা হল প্রত্যেক নাগরিককে তার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা। একজন প্রশিক্ষিত মানবকর্মী কখনোই বেকার থাকতে পারে না। এছাড়া অপ্রশিক্ষিত মানুষের তুলনায় প্রশিক্ষিত মানুষের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বেশি থাকে। প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত হচ্ছে শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটানো। একজন শিক্ষিত মানুষ খুব সহজেই প্রশিক্ষিত হতে পারেন। কিন্তু একজন অশিক্ষিত মানুষকে প্রশিক্ষিত করা তুলনামূলকভাবে বেশি কষ্টকর। আমাদের দেশের প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষিতদের অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়। কিন্তু যদি মাদ্রাসা শিক্ষিত ছেলেদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশী শ্রমবাজারে রফতানি করা যায়, তাহলে তারা দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। বিদেশী শ্রমবাজারে ভাষাগত সমস্যা একটি বিরাট প্রতিবন্ধকতা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আরবি ভাষা না জানলে কাজ পাওয়া অথবা কাজ পাওয়ার পর টিকে থাকা খুবই কষ্টকর। মাদ্রাসা শিক্ষিতদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে যদি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করা যেত, তাহলে তারা খুব সহজেই সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারত। আমাদের দেশের পারিবারিক প্যাটার্নও আগের তুলনায় অনেকটা বদলে গেছে। আগেকার দিনে বাড়ির একজন মাত্র সদস্য চাকরি বা ব্যবসা করতেন আর অন্যরা তার ওপর নির্ভর করে জীবনধারণ করতেন। এখন পরিবারের প্রতিটি সদস্যকেই রোজগারের চিন্তা করতে হচ্ছে। একজনের আয়ে বসে বসে খাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে।যারা সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই বণ্টন ব্যবস্থার অসমতাজনিত কারণে দারিদ্র্য সমস্যায় পতিত হয়েছে। ভারতের মতো দেশ অনেক দিন ধরেই মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা ভোগ করছে। কিন্তু বণ্টন ব্যবস্থার অসমতার কারণে তারা মধ্যম আয়ের সুফল সবার ক্ষেত্রে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। এখনও ভারতের চরম দরিদ্র জনগণ নানা সমস্যা মোকাবেলা করে চলছে। প্রায়ই ভারতের কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করছেন। অথচ ভারতের কোনো কোনো শিল্পপতি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিত্তশালীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের একশ্রেণীর বিত্তশালী অকাতরে টাকা ব্যয় করছেন বিলাসী জীবনযাপনের জন্য। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অর্জন কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ হয়তো উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। কিন্তু বণ্টন ব্যবস্থার অসমতা দূরীকরণ করা না গেলে সেই অর্জনের সুফল কি সবাই ভোগ করতে পারবে? কল্যাণমূলক অর্থনীতি অনুসরণ করে সবার জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল নিশ্চিত করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য

লিখেছেন চারাগাছ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৬




বৃষ্টির ডায়েরি: অধ্যায় শূন্য


​আজকের বৃষ্টিটার কোনো ছন্দ নেই। কোনো ব্যাকরণ নেই। স্রেফ আকাশ ভাঙা জল, যা এই শহরের বুকে সশব্দে আছড়ে পড়ছে। মানুষজন তাড়াহুড়ো করে ছাতা মেলছে, আশ্রয়ের খোঁজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×