somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিন ব্যক্তির চরম পরীক্ষা

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



'আসসালামু 'আলাইকুম'

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নাবী (সঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, নিশ্চয়ই বনী ঈসরাইলের মধ্যে তিন ব্যক্তি ছিল, তার মধ্যে একজন হলো কুষ্ঠ রোগী, দ্বিতীয়জন হলো টাকমাথা বিশিষ্ট এবং তৃতীয়জন হলো অন্ধ। আল্লাহ তা'য়ালা তাদের পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন। অতঃপর তাদের নিকট একজন ফেরেশতা পাঠালেন।
ফেরেশতা কুষ্ঠ রোগীর নিকট এসে বললেন, তোমার নিকট কোন বস্তু সবচেয়ে বেশী প্রিয়? কুষ্ঠ রোগী বললো উত্তম রং, উত্তম চামড়া এবং আমার রোগ হতে মুক্তি, যার কারনে লোকে আমাকে ঘৃনা করে।এই রোগ দূরীভূত হওয়াই আমার নিকট সবচেয়ে বেশী প্রিয়। নাবী (সঃ) বলেন, ফেরেশতা তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন, ফলে তার রোগ ভাল হয়ে গেল।
অতঃপর ফেরেশতা বললেন তোমার নিকট কোন মাল বেশী প্রিয়? লোকটি বললো, 'উট'।
নাবী (সঃ) বলেন , তার চাহিদা মত তাকে একটি দশ মাসের গর্ভবতী 'উট' দেওয়া হল। ফেরেশতা বললেন, আল্লাহ এর মধ্যে তোমার বরকত প্রদান করুন। অতঃপর ফেরেশতা টাকমাথা বিশিষ্ট লোকটির নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, তোমার নিকট কোন বস্তু সবচেয়ে বেশী প্রিয়? চুলহীন লোকটি বললো, উত্তম চুল এবং আমার এই রোগ হতে মুক্তি, যার কারনে লোকে আমাকে ঘৃনা করে। নাবী (সঃ) বলেন, ফেরেশতা তখন টাকী লোকটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে টাক মাথা ভাল হয়ে গেল এবং তাকে উত্তম চুল দেওয়া হল।অতঃপর ফেরেশতা বললেন, তোমার নিকট কোন সম্পদ বেশী প্রিয়? লোকটি বললো একটি গাভী। তখন লোকটিকে একটি গাভী প্রদান করা হলো এবং ফেরেশতা বললেন, আল্লাহ
তোমাকে এর মধ্যে উত্তম বরকত প্রদান করুন। অতঃপর ফেরেশতা অন্ধ লোকটির নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন, কোন বস্তু তোমার নিকট বেশী প্রিয়? অন্ধ লোকটি বললো,আল্লাহ আমাকে যদি দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন তাহলে আমি মানুষের মত দেখতে পারি, আর এটাই আমার নিকট
বেশী প্রিয়।
নাবী (সঃ) বলেন, অতঃপর ফেরেশতা অন্ধের শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন,
ফলে অন্ধ লোকটির দৃষ্টিশক্তি ফিরে এল। অতঃপর ফেরেশতা বললেন,কোন সম্পদ তোমার নিকট বেশী প্রিয়? অন্ধ লোকটি বললো,আমার কাছে ছাগল সবচেয়ে বেশী প্রিয়। তখন তাকে একটি অধিক বাচ্চা প্রদানকারী বকরী প্রদান করা হলো। অতঃপর আল্লাহ প্রত্যেকের সম্পদে বরকত দিলেন।কুষ্ঠের উটে, টাকীর গরুতে এবং অন্ধের ছাগলে ময়দান ভরে গেল।

নাবী (সঃ) বলেন, অতঃপর ফেরেশতা কিছুদিন পর আবার প্রথম ব্যক্তি কুষ্ঠ রোগীর নিকট আগমন করে বললেন,আমি একজন মিসকিন ব্যক্তি । আমার সফরের সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে।আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া বাড়ী পৌছাতে পারবনা। তাই সেই আল্লাহের মাধ্যমে তোমার নিকট একটি উট প্রার্থনা করছি, যে আল্লাহ তোমাকে সুন্দর রং, উত্তম চামড়া এবং উত্তম মাল প্রদান করেছেন।যাতে আমি আমার বাড়ী পৌছাতে পারি। লোকটি বললো, আমার নিকট সাহায্য প্রার্থী অনেক, তাদের বাদ দিয়ে তোমাকে কেমনে দিব? ফেরেশতা এর জবাবে বললেন, তোমাকে আমার পরিচিত মনে হচ্ছে, তুমি সেই কুষ্ঠ রোগী না? তুমি ফকির ছিলে, তোমাকে দেখে লোকে ঘৃনা করত। আল্লাহ তোমাকে অনেক সম্পদ দিয়েছেন। কুষ্ঠ রোগী বললো, এই সম্পদ আমি বংশ পরম্পরায় ওয়ারিশ সুত্রে পেয়েছি। ফেরেশতা বললেন, যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও তবে আল্লাহ তোমাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিন।

নাবী (সঃ) বলেন, অতঃপর ফেরেশতা দ্বিতীয় ব্যক্তি টাকী লোকটির নিকট গেলেন। অতঃপর তাকে ঐকথাই বললেন, যে কথা কুষ্ঠ রোগীর কাছে বলেছিলেন। সেও ঐ একই ধরনের জবাব দিলেন।ফেরেশতাও ঐ
কথা বলে একই জবাব দিলেন যে,তুমি যদি মিথ্যাবাদী হও তবে আল্লাহ তোমাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিন।

নাবী (সঃ) বলেন, অতঃপর ফেরেশতা অন্ধ লোকটির নিকট আসলেন এবং বললেন, আমি একজন মুসাফির মিসকিন, আমার সফরের সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমি বাড়ী পৌছাতে পারবনা। অতএব আমি ঐ সত্তার মাধ্যমে তোমার নিকট একটি ছাগল চাচ্ছি, যিনি
তোমাকে দৃষ্টি দিয়েছেন। অন্ধ ব্যক্তি ফেরেশতাকে বললেন, তোমার যা খুশী গ্রহন কর আর যা খুশী রেখে যাও।আল্লাহর কসম তুমি আজ যা গ্রহন করবে তা ফিরিয়ে দিবার জন্য আমি তোমাকে কষ্ট দিবনা। ফেরেশতা বললেন,তুমি তোমার মাল রেখে দাও।আমার মাধ্যমে তোমাদের শুধুমাত্র
পরীক্ষা করা হল। আল্লাহ তোমার উপর সন্তষ্ট হয়েছেন এবং তোমার সঙ্গীদের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম)
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×