somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের জন্যই কি পদ্মাসেতু? প্রশ্নটা তবে উঠেই গেল!

০৫ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের টাকায় পদ্মা সেতু নাকি পদ্মাসেতুর জন্য আমাদের টাকা,সময়,শ্রম,এবং মিথ্যা আবেগ? নাকি আবেগ কে পূঁজি করে অন্য কারোর সুবিধা?

একটা কথা খুব করে উঠেছিলো,আমাদের এই পদ্মা সেতু নাকি আগরতলার জন্য,যেখানে কেবল আমরা সাত থেকে আট ঘন্টায় পৌঁছাতে পারব। এই কথাটার ভেতরে অনেক রহস্য লুকিয়ে থাকলেও এই রহস্য উন্মোচনের জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

আমরা এখনো অনেকে জানি এবং বিশ্বাস করি যে,এই পদ্মা সেতু আমাদের টাকায় বানানো। অথচ আপনি আবার এটাও জানেন যে এই পদ্মা সেতু নির্মানের জন্য এখনো আমরা ঋণ পরিশোধ করে যাচ্ছি। একটা সময় মোবাইল অপারেটর থেকে শুরু করে মানুষের বেতন এবং কি সকল ধরনের ব্যাপার থেকে এই পদ্মা সেতু নির্মানের জন্য টাকা চার্জ করা হয়েছিলো। অথচ আমরা এখন এই সেতুর জন্য ঋন পরিশোধ করছি। আচ্ছা এটার হয়ত অনেক ব্যখ্যা থাকতে পারে অনেকের কাছে,কিন্তু এভাবে মানুষের টাকা নিয়ে সেই নির্মান কিংবা অন্যদিকে নির্মানের জন্য অন্য কোন বিদেশি কোম্পানিকে ঋণ পরিশোধের বিষয়টা কিন্তু জটিল একটা হিসেবের মধ্যে পড়ে গেলেও বাঙালি জাতি সন্তুষ্ট আছে এই ভেবে যে,যাক আমি তো দৃশ্যমান একটা সেতু দেখতে পারছি,কত আর? মাসে ১০ টাকা দিয়েছে আমার থেকে? অথবা ৫০ টাকা? ১৮/২০ কোটি দেশের মানুষের থেকে যদি এক টাকা করে নেয়া হয় তবে তার হিসেব দাড়ায় ১৮/২০ কোটি টাকা।

কিন্তু ব্যাপারটা এই অব্দি থাকলে হয়ত বা ভালো হত,কতই বা খেয়ে,কয়েকশো কোটি? তাতে কি,আমরা তো সেতু পেয়েছি,ব্যাপার না। কিন্তু এটা এখানেই শেষ হয়নি,ইতিমধ্যে ইন্ডিয়ার সঙ্গে আমাদের যোগসূত্র আরো বেড়েছে,আমাদের রাষ্ট্রের বুকের উপর দিয়ে একটা ট্রেন সংযোগ করা হবে,তাও আবার কোন প্রকার নিজেদের স্বার্থ ছাড়াই আমরা তা দিয়ে দিচ্ছি। যদি স্বার্থ নিয়েও নিই তবে কি এটা আদৌ ঠিক? একদিকে পদ্মাসেতু হয়ে আগরতলা,অন্যদিকে ট্রেন সংযোগ। তবে কি দেশ এভাবেই বিক্রি হয়? নাহ,দেশ তো দেশের জায়গায় রয়ে যায়,দেশ কখনো বিক্রি হয়না। আপনার জমি যেমন কখনো বিক্রি হয়না,কেবল মালিকানা পরিবর্তন হয় ঠিক রাষ্ট্রের ব্যাপারটাও একই রকম।

এরকম একটা পূর্বপরিকল্পিত প্ল্যানই কি তবে পদ্মাসেতুর জন্য এত কিছু? শেষবার আফগানিস্তান থেকে ইন্ডিয়া বিতাড়িত হয়েছিলো,তাদের সকল ধরণের ইনভেস্ট হারিয়ে সেখান থেকে ত্যাগ করতে হয়েছে তাদেরকে,কিন্তু আমাদের দেশের ব্যাপারটা ভিন্ন,আপনার দেশে এরকম কোন সংগঠন নেই যে কাউকে বিতাড়িত করতে পারবে। আপনার দেশ মেধা শূন্য,আপনার দেশের মানুষদের প্রতিভা শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতে নাচানাচি,খাও দাও ঘুমাও আর টয়লেট করো। আর যে সমস্ত মেধাবিরা আছে তাদের ৯৭/৯৮% ই ধুর ছাই এই দেশে থাকবোনা বলে দেশ ত্যাগ করেছে।

ওহ আপনার দেশের আবরার ফাহাদ তো এই দেশপ্রেম নিয়ে কথা বলেই হত্যার স্বীকার হয়েছে তার নিজ দেশে,আলোচিত ফেলানি হত্যা,গরু চোর কিংবা কখনো কখনো কোন কারণ না দেখিয়েও বর্ডারে নির্বিচারে মানুষ হত্যা চলছেই,এর কি কোন সুরাহ,প্রতিবাদ কিংবা প্রকার বিচার হয়েছে? বর্ডারে এখন এই ধরণের সমস্যা নিয়ে কয়টা ফ্ল্যাগ মিটিং হয়? ফলাফল কি?

একটা সময় এই দেশর অনেক মানুষ দেশ বিক্রির অভিযোগ তুললেও এইটাকে হাস্যকর হিসেবে প্রথম সারির মিডিয়া দ্বারা সস্তা ট্রল হিসেবে প্রচলিত করে ফেলেছে,এটা এখন শ্রেফ একটা হাস্যকর মিথ। কিন্তু একবার ও কি ভেবে দেখেছেন?

আচ্ছা ইউরোপে তো দেশ বিক্রি হয়না তাইনা? ইউরোপে তো কাটাতার নেই,নেই কাটাতারে ঝুলানো ফেলানির লাশ,নেই গরুচোর। এখানে মানুষের জীবন ব্যবস্থা তার শ্বাসের চেয়েও কঠিন,বাজার লাগবে,এই শব্দটা শুনলেই এখন মানুষের শ্বাস ভারী হয়ে আসে। বছরের পর বছর মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার বুলি আউড়ানো সেই দূর্নীতি র‍্যাংকিং এর গালগল্প শুনলেও বাস্তবে দুর্নীতির আতুড়ঘরে পরিণত হয়ে আছে সকল ধরণের টেবিল থেকে শুরু করে সেই টেবিল মুছে দেয়া কিংবা গেটের দারোয়ানের পকেট। কিন্তু দেশ বিক্রি হয়নি,কারণ ইউরোপে দেশ বিক্রি হয়না।

আমাদের এই ভূখণ্ডে একটা জেনারেশন বেড়ে উঠেছে এরা এইসব দেখতে পায়না,এদেরকে যে গল্প শোনানো হয়,যে ভিডিও ক্লিপ,কিংবা যা দেখানো হয় সে সবের উপরই এরা খুশিতে গদগদ হয়ে পড়ে। এরাই আবার নিজেদেরকে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবী করে দাম্ভিকতা করে বেড়ায়,সুযোগ খুজে বেড়ায় এই পরিচয় বহন করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে,রাস্তায়,ইভেন ধর্মীয় উপসানালয়েও। অথচ এই সমস্ত বিষয়ে এদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই,আশ্চর্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ১:৪৪
৯টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘র’-এর কৌশল, প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তির প্রকৃতি , পর্ব ২

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:২১

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য দেশ। বর্তমানে এ উপমহাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মার্কিন সাংবাদিক উইলিয়াম ইক্লরোজ 'দি ক্রিটি ক্যাল মাস' বইয়ে মন্তব্য করেছেন, 'এ উপমহাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তপ্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×