somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"আয়নার ওপারে'র শব্দহীন মানুষটি"

১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কিছু কিছু রাত মানুষের ঘুম কেড়ে নেয় না, বরং তার ভেতর থেকে এমন কিছু দরজা খুলে দেয় যেগুলো দিনের আলোয় কোনোদিন খোলা যায় না।

সেই দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকে পুরোনো কিছু দিন। দিনগুলো মৃত,অথচ তাদের স্মৃতিগুলো আশ্চর্য রকম জীবিত।

তারা ফিরে আসে কোনো শব্দ না করে,বসে থাকে বুকের ভেতর, তারপর ধীরে ধীরে পোড়াতে থাকে এমন জায়গাগুলো, যেখানে কোনো ক্ষত দেখা যায় না।

একসময় মানুষ ব্যথার সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।
কিন্তু ব্যথা যখন দীর্ঘদিনের অতিথি হয়ে ওঠে,তখন তাকে আর অতিথি মনে হয় না—মনে হয়, সে-ই বুঝি ঘরের আসল বাসিন্দা।

রাত বাড়ে,শহর ঘুমিয়ে পড়ে।

জানালার ওপাশে আলো নিভে যায় একে একে,অথচ মাথার ভেতর কিছু আলো জ্বলতেই থাকে,অদ্ভুত। অসহ্য কিছু আলো,যেখানে পুরোনো দৃশ্যগুলো বারবার অভিনীত হয়,অথচ পর্দা নামার কোনো উপায় থাকে না।

চোখ বন্ধ করলেই অতীত আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তাই চোখ খোলা রাখি। কিন্তু চোখ খোলা রাখলেও তো নিজেকে এড়ানো যায় না,হাহাহা।

ভোরের দিকে আয়নায় দাঁড়ালে নিজের মুখটাকে কখনো কখনো অপরিচিত লাগে। চোখ দুটো যেন কোনো ঘুমহীন রাতের সাক্ষী নয়, বরং বহুদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা এক অদৃশ্য ইতিহাসের প্রমাণ।

সেখানে লালচে চোখের ভেতর আমি কাউকে খুঁজে পাই।
একজন মানুষকে, যে একসময় খুব সহজে হাসত। যে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবত। যে বিশ্বাস করত,কিছু দরজা বন্ধ হলেও পৃথিবীতে আরও অনেক দরজা খোলা থাকে।

এখন তাকে খুব কম দেখা যায়।

হয়তো সে হারিয়ে যায়নি,হয়তো শুধু ক্লান্ত হয়ে কোথাও বসে আছে,নিজেরই ভেতরেই।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো,মানুষ একদিন নিজের কষ্টকে আর ব্যাখ্যা করতে পারে না। কেন মন খারাপ,কেন ঘুম আসে না,কেন হঠাৎ বুক ভার হয়ে যায়? এসব প্রশ্নের উত্তর ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে যায়,ম্যাটার করেনা পর্যায়ে নেমে আসে।

তারপর একসময় কষ্টেরও কোনো কারণ লাগে না,সে শুধু থাকে,নিঃশব্দে,নিয়মিত,অবিচ্ছিন্নভাবে। আর ঠিক তখন মানুষ নিজের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দেয়। কারণ সে ইতিমধ্যে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে,সে নিজের কাছেই নিজের কোনো গ্রহণযোগ্য উত্তর পাবেনা,অথবা উত্তরেরই আর দরকার নেই।

দিনের বেলায় সে স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করে। মানুষের সঙ্গে কথা বলে,হাসে,প্রয়োজনীয় কাজ করে,পৃথিবীর নিয়ম মেনে চলে,ট্র‍্যাফিক সিগনাল ও। কেউ বুঝতেও পারে না,এই স্বাভাবিক মুখটার পেছনে কতগুলো রাত জেগে আছে।

কেউ জানে না,কিছু মানুষ প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে জীবনের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে নয়,শুধু অভ্যাসের কারণে।

তবু অদ্ভুতভাবে তারা উঠে পড়ে।

হয়তো এটাই মানুষের সবচেয়ে নীরব সাহস,ভেঙে যাওয়ার পরও পৃথিবীকে নিজের ভাঙনের খবর না দেওয়া।

কিন্তু রাত হলে সেই সাহসেরও একটা সীমা থাকে।

তখন মনে হয়,যদি একটু দূরে কোথাও গিয়ে বসা যেত!
যদি নিজের স্মৃতিগুলোকে কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে রাখা যেত! যদি বুকের ভেতর জমে থাকা পুরোনো শব্দগুলোকে একবারের জন্য চুপ করানো যেত!

কিন্তু মানুষের সবচেয়ে বড় কারাগারের কোনো দরজা থাকে না,তার নাম স্মৃতি। সেখান থেকে পালাতে চাইলেই মানুষ যত দূরেই যাক,নিজের কাছেই ফিরে আসে।

তাই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাঝে মাঝে ভয় পাই। ভয়টা চোখের রঙ দেখে নয়,ভয়টা এই ভেবে যে,এই চোখ দুটো কত কিছু দেখেছে, অথচ এখনো কাউকে কিছু বলতে পারেনি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:১৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×