somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এলোমেলো জীবনের সাজানো কথা

১৭ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকাল থেকেই ছেলেটার মনটা ভীষণ খারাপ | কারো সাথেই তার কথা বলতে ইচ্ছা করে না | নিজেকে একাকীত্বের চাদরে ঢেকে রেখে জগতের সাথে চলে তার মান অভিমানের অর্থহীন খেলা |ঘরে বসে থেকে থেকে নানারকম চিন্তাভাবনা তার মাথায় আসে | কিন্তু সে চিন্তাগুলোর কোন অর্থ নেই | চিন্তার সুতাগুলো বড় হতেই থাকে | এর কোন শেষ নাই | মাঝে মাঝে চিন্তাগুলো জট পাকিয়ে যায় | বাস্তবতায় রুপান্তর না হতে পেরে অবাস্তব চিন্তাগুলো তার আপন সত্তাকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়ে যায় | অতঃপর হ্যালুসিনেশন | বোবার মত ঘরের দেয়ালের দিকে বিরামহীনভাবে তাকিয়ে থাকা | চোখ ব্যথা হয়ে আসলে ঘুমের কোলে ঢুলে পরা |

এভাবেই জীবন বয়ে যায় ......................................................................

ক্রমাগত অসহ্য হয়ে উঠা এই জীবনের ভার বওয়া ছেলেটির কাছে অসম্ভব হয়ে উঠে | সে সিদ্ধান্ত নেয় কিছু একটা করার | ঘর ছেড়ে সে বেরিয়ে পড়ে | বাসস্টেশনে এসে সে নাম না জানা একটা জায়গার উদ্দেশ্যে একটা বাসে উঠে পড়ে | বাস চলে | শহর ছেড়ে দূরে কোথাও | বাসের পিছনের সীটে ছেলেটি চুপ করে বসে থাকে | বাইরের প্রকৃতির দিকে তাকায় সে | একটু একটু করে তার মধ্যে প্রকৃতি তার সহজ সরল রুপে সাড়া ফেলে | গাছের পাতা বাসের জানালা ছুয়ে যায় , তার মাঝে অন্যরকম এক অনুভূতি খেলা করে | বাসটা হঠাৎ করে থেমে যায় | এটাই লাষ্ট ষ্টপেজ | ছেলেটি বাস থেকে নেমে পরে | জায়গাটা অচেনা ,চেনার কথাও না | ছেলেটি এদিক সেদিক তাকায় | বাসটি একটি হাটে এসে থেমেছে | লোকজনের মোটামুটি ভিড় আছে |

ছেলেটির হঠাৎ পানির পিপাসা পায় | কাছেই একটা হোটেল দেখে তাতে ঢুকে পড়ে সে | একটা খালি টেবিলে গিয়ে বসে |এখানে তেমন একটা ভীড় নেই | ছোট একটা ছেলে এসে তার কাছে জানতে চায় সে কি খাবে | ছেলেটি চা দিতে বলে | কিছু সময়ের মাঝেই চা চলে আসে | চায়ের কাপ ময়লা , চায়ে দুই - তিনটা পিপড়াও আছে | বাসায় হলে ছেলেটি এই চা কখনোই খেত না | কিন্তু এখন সে নিবিকার চিত্তে চায়ে চুমুক দিল | "ভাইজান কি বেড়াইতে আইছেন ?" , প্রশ্নটা শুনে ছেলেটি চমকে উঠে | সেই চা নিয়ে আসা ছোট্ট ছেলেটা তাকে প্রশ্নটা করেছে | ছেলেটি উত্তরে আনমনে মাথা নাড়ে | ছোট্ট ছেলেটা তখন বলে,"এইদিকে তো তেমন কেও একটা বেড়াইতে আহে না,তয় এই জায়গাটা মেলা সোন্দর | একটা নদী আছে আমাগো | উই যে রাস্তাটা দেখতাছেন না, উইটা ধইরা সোজা চইল্যা যাবেন , নদীটা দেখতে পাইবেন | নদীটা বড়ো ভালা | একবার যাইয়েন কিন্তু উইদিক্যা কইলাম " |এই বলে এর মধ্যে শেষ হয়ে আসা চায়ের কাপ নিয়ে সে চলে যায় | বিল মিটিয়ে ছেলেটি রাস্তায় নেমে আসে | হাটা শুরু করে | মানুষজনের দিকে বেশি তাকায় না সে | মানুষকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় সে মাথা নিচু করে থাকে | হাটতে হাটতে সে বেশ কিছু দূর এসে পড়ে | এদিকটায় তেমন মানুষ নেই | ভালভাবে চারপাশে তাকায় ছেলেটি | সামনেই সে নদীটা দেখতে পায় | তাহলে সে এতক্ষণ অবচেতন মনে নদীর পথেই হাটছিল | কি আশ্চয , খেয়ালই করে নি সে |

আস্তে আস্তে নদীর দিকে এগিয়ে যায় সে | নদীর পাড়ে একটা বাধানো ঘাট আছে | ছেলেটি ঘাটে গিয়ে বসে | নদীর পাড়ে অনেক বাতাস | ছেলেটির চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যায় | ছেলেটি আপন মনের ভাবনায় মগ্ন হয়ে যায় | সে ভাবে জীবনটা কি অদ্ভুত ! এই জীবনে কোন কিছুই তার ভাল লাগে না , কোন কাজেই সে সফল হতে পারে নাই | জীবনে কিসের যেন এক তীব্র হাহাকার |বুকটা মচড়ে উঠে তার | "বাবা , তোমার এত কষ্ট কেন ? কি হয়েছে , আমাকে বলো " , পাশে থেকে এক অতি কোমল কন্ঠস্বরের আওয়াজে ছেলেটি ফিরে তাকায় | এক বৃদ্ধের কন্ঠস্বর সেটা | খুব সুন্দর চেহারার এক বৃদ্ধ | বৃদ্ধটির চোখের দৃষ্টিতে কোমল সহানুভূতি | সেই চোখের দিকে তাকিয়ে ছেলেটির বুকে জমে থাকা কান্না বের হয়ে আসে | হু হু করে কাদতে থাকে ছেলেটি | বৃদ্ধটি তাকে জড়িয়ে ধরে তাকে,মাথায় হাত বুলায় | বলে , "বাবা , আমি বুঝতে পেরেছি তোমার কষ্ট | বোকা ছেলে কোথাকার | এমনভাবে কেউ কাদে | শুন , জীবনটাকে এত সিরিয়াস্লি নেওয়ার কি আছে ? একে সহজভাবে নে | জীবনে আশা থাকবে , স্বপ্ন থাকবে | কিন্তু স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া মানে এই নয় যে স্বপ্ন দেখাটা ভুল ছিল | আবার তুই স্বপ্ন দেখ | তুই পারবি বাছা | জীবনে হতাশ হওয়া মানেই নিজের কাছে নিজের হার মানা | তাই হতাশ হবি না | উঠ বাবা উঠ | মুখটা ধুয়ে নে পানিতে | এবার বাসায় যা | আমার কথাগুলি মনে রাখিস | আর যখনি তোর মন খারাপ হবে , এখানে চলে আসিস | "

ছেলেটি ফিরতি পথ ধরে | পিছনে নদীর বুকে সূয ঢলে পড়ে |চারদিকে রক্তিম আভা কেটে গিয়ে আধার ঘনিয়ে আসছে | এরই মাঝে ছেলেটি দৃপ্ত পায়ে হেটে যায় | তার আর মন খারাপ নেই | চোখগুলি তার নতুন স্বপ্নে বিভোর | সে পারবে , সে পারবে জীবনের পথে হাটতে |
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×