somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঙ্গালীদের নিয়ে আর পারা যায় না !

২১ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাহ্ ! বাঙ্গালীদের নিয়ে আর পারা যায় না ।

হয়ত আমরা এখন বাংলাদেশী কিন্তু টিক্কা খান, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ আর ইয়াহিয়া যদি দাবী মানত তাহলে আমরা আর বাংলাদেশী হতে পারতাম না । বাঙ্গালীই হতাম । এটা তো সবাই মানেন । না কি?

এরা ছিল আস্তা গোয়ার আর বোকা । এদের গোয়ার্তমীদের জন্য বাংলাদেশ পৃথক হয়েছে আর আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি ।

না ভাববেন না, আমি বাংলাদেশের বিপক্ষে কথা বলছি, গোড়া দেশীরা তো বলেই ফেলবেন আমি রাজাকার । বলবেন তাকে বেন্ড পার্টির সাথী হতে ! একশত হাত দূরে অবস্থান করতে !

আমি শুধু তার 'যদি'-র দিক গুলো তুলে ধরেছি ।

যাই হোক ।
যা হওয়ার হয়ে গেছে ।

মূল কথায় ফিরে যাই । উপরোক্ত কথামালা আমার আসল উদ্দেশ্য ছিল না ।

নাম: সাইফুল আজম ।
জন্ম: ১৯৪১ সালে বাংলাদেশের পাবনায় ।
পরবর্তীতে বাসস্থানান্তর: কলকাতায় এবং ১৯৪৭ সালে আবার বাংলাদেশে (মুসলমান হিসেবে)
প্রথম পাকিস্তানে গমন: ১৯৫৫ সালে এবং হাইস্কুলে ভর্তি হয় ।
পরবর্তীতে
Pakistan Air Force (PAF) Cadet College ভর্তি হয় । ১৯৬০ সালে গ্র্যাজুয়েট করে এবং পাফ-এ পাইলট অফিসার হিসেবে যোগদান করে ।


Cessna T-37 টাইপের বিমানের উপর শিক্ষা গ্রহণ করেন । পরবর্তীতে তিনি Luke AFB, Arizona -তে যান আধুনিক ফাইটার এর উপর কোর্স করতে -North American F-86 Sabre । পরবর্তীতে তিনি ফেরত আসেন পাকিস্তানে এবং ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত Sabre টাইপের যুদ্ধ বিমান চালান ।

যুদ্ধ:::

১৯৬৫ সালে 'সাবরে' চালান । সেই সাথে সফলভাবে ভূমিতে আক্রমণের মাধ্যমে 'বাউন্সের সাথে' ভারতীয় ফাইটারের কৌশলে যুদ্ধ করেন । আর আক্রমণকারী ভারতীয় যুদ্ধ বিমান ২টির মধ্যে একটিকে ভূপাতিত করেন । তার বিরত্বের কারণে সিতারা-ই-জুরাত উপাধি পান ।

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরইল যুদ্ধে রাজকীয় জর্ডান বিমান বাহিনীর এডভাইসর এর পদ পেয়েছিলেন এবং
volunteer হিসেবে Hawker Hunter No.1 বিমানটি উড়িয়েছিলেন । ৫-ই জুন ১৯৬৭ সালে জর্ডানের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাটি RJAF Mafraq-এ ইসরাইলী Super Mysteres Jets আক্রমণ করে এবং আজম সাহেব বিরত্বের সাথে একটি ভূপাতিত করেন এবং আরেকটি যুদ্ধ বিমান দুই দু'টি দেশের সীমান্তে পড়ে (ধোয়াঁ সৃষ্টির মাধ্যমে) ।

২ দিন পরে, ৭-ই জুন ১৯৬৭ সালে H-3 যুদ্ধ বিমানের সাথে western Iraq-এর একটি বিমান ঘাটিতে হামলা করে । এই সময় প্রথম তিনি Dassault Mirage III যুদ্ধ বিমানটি ভূপাতিত করেন এবং কিছুক্ষণ পড়েই Sud-Ouest Vautour bomber ভূপাতিত করেন ।

ততকালীন বাঙ্গালী এবং বর্তমান বাংলাদেশী আজম সাহেব আরব এর পক্ষে যুদ্ধ করে ১৯৬৭ সালে মাত্র ৬ দিনে সবচেয়ে সর্বোচ্চ মুসলমান পাইলটের স্কোর করেন ।

তিনি জর্ডানের হুজামে ইস্তেকলাল এবং ইরাকের মেডেল এফ ব্রেভারি এবং দি নথেস শুজা উপাধিতে ভূষিত হন । পরবর্তীতে তিনি ফ্লাইট কমান্ডর হিসেবে PAF Fighter Leader's School নিয়োগ লাভ করেন ।

বাঙ্গালী হওয়া সত্বেও ১৯৭১ সালে বিমান নিয়ে আমাদের পক্ষে যুদ্ধ করেন নি । যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয় এবং স্বাধীন বাংলার বিমান বাহিনী গঠিত হয় । তখন উইং কমান্ডার এবং বেস কমান্ডার হিসেবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে নিয়োগ লাভ করেন । ১৯৮০ সালে গ্রুপ কাপ্তান হিসেবে অবসর লাভ করেন । এরপর তিনি বাংলাদেশ এর ফিল্ম এর ডেভলপমেন্ট এর সাথে জড়িত ছিলেন । বাংলাদেশ সংসদে এখন সদস্য হিসেবে ছিলেন ১৯৯১-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ।

বর্তমানে নাতাশা টেড্রিং এজেন্সি, লি:, ট্রেডিং ইন এয়ারক্রাফট এবং ইত্যাদি কারবারে এ নিয়োজিত । এছাড়া তারঁ একটি ট্রাভেল এজেন্সিও রয়েছে ।
তার ছেলে নিশাত এবং তিনি বাচ্চা আছে ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০০৭ বিকাল ৫:৩৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×