somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১১৮ কিউসেক পানি কোথায় হারিয়ে গেল, কেউ কি জানেন?

০১ লা আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গতকাল প্রথম আলোতে দেখলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছেন। ভারত মিষ্টি মিষ্টি কথা দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে, টিপাইমুখ বাঁধ হলে নাকি বাংলাদেশেরই লাভ। ওরা নাকি কোন পানি প্রত্যাহার করবে না। গ্রীষ্মকালে পানি নাকি কম আসবে, তাতে সিলেট অঞ্চলে বন্যার প্রকোপ কমে যাবে। আবার শীতকালে পানি বেশি আসবে। তাতে নাকি নদীর নাব্যতা বাড়বে। সেচের নাকি সুবিধা হবে।

এবার দেখি বিভিন্ন ঋতুতে পানির প্রবাহের পরিমান নিয়ে তারা কি বলেছে? প্রথম আলোর রিপোর্ট আনুযায়ী বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে ২০২১ কিউসেক এবং শীতকালে ২৮২ কিউসেক পানি আসে বরাক নদী দিয়ে। ভাল কথা, বাঁধ নির্মান হলে গ্রীষ্মকালে ১৬৪৮ কিউসেক আর শীতকালে ৫৩৭ কিউসেক পানি আসবে। এবার আসুন, একটা অংক করি। বাংলাদেশে বরাক নদী দিয়ে এখন মোট পানি আসে (২০২১+২৮২) = ২৩০৩ কিউসেক পানি। আর বাঁধ নির্মান করলে আসবে (১৬৪৮+৫৩৭) = ২১৮৫ কিউসেক পানি। ভারত বলেছে তারা কোন পানি প্রত্যাহার করবে না। তাহলে (২৩০৩-২১৮৫) = ১১৮ কিউসেক পানি কোথায় যাবে? কোথায় উধাও হবে? ভারতের হিসাব যে একটা শুভঙ্করের ফাঁকি তা এই হিসাবই প্রমান করে।

বাংলাদেশের বন্যা সমস্যা নিয়ে হঠাৎ ভারতের এত মাথাব্যথা কেন? বাংলাদেশের বন্যা সমস্যার জন্য তো আগাগোড়া ভারতই দায়ী। বর্ষায় ওরা পদ্মা, তিস্তা নদীর বাঁধ ছেড়ে দেয়। যার পরিনামে পুরো দেশে বন্যা হয়। বরাক নদীর কারনে বাংলাদেশে কখনোই বন্যা হত না। বরং বন্যার সময় পদ্মার পানির চাপে বরাক নদীর পানি সহজে নামতে পারে না বলেই সিলেট অঞ্চলে বন্যা হয়। নইলে প্রাকৃতিক কারনেই সিলেটে হাওড় বাওড় এলাকা বন্যাকে রুখে দিত। বাংলাদেশের বন্যা নিয়ে এত মাথাব্যথা থাকলে ওরা সবসময়ের জন্য ফারাক্কা বাঁধ তুলে দিক। সেটা তো তারা করবে না।

টিপাইমুখ বাঁধ দিলে শীতকালে নাকি বেশি পানি আসবে। তখন নাকি সেচের জন্য বেশি পানি পাওয়া যাবে। বেশি পানি তো আমাদের দরকার নেই। শীতকালে যখন পানি কমে যায় তখন সিলেট হাওড় বাওড় অঞ্চলে বোরো চাষ হয়। পানি বেড়ে গেলে এই অঞ্চল আর বোরো চাষাবাদের উপযোগী থাকবে না। জমি যদি ডুবেই থাকে, তবে বেশি সেচের পানি দিয়ে কি করব?

টিপাইমুখের পরিকল্পনা অনুযায়ী এটা পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম পানি রিজার্ভার হবে। ২/৩ বছর লাগবে এই রিজার্ভ তৈরি করতে। তখন তো সিলেট ব্রাহ্মনবাড়িয়া অঞ্চলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে মরুকরন শুরু হয়ে যাবে। পরে পানির গতি স্বাভাবিক হয়ে গেলেও এই ক্ষতি তো আর পূরন হবে না।

ভারত যখন ফারাক্কা বাঁধ তৈরী করা শুরু করে, তখনও কিন্তু নানান মিষ্টি কথায় বাংলাদেশকে ভুলিয়েছিল। এখনও তারা একি ট্রিকস অবলম্বন করছে। ওদের মিষ্টি কথায় ভুলে গিয়ে বাংলাদেশ সরকার যদি এই বাঁধের কাজে সমর্থন দেয়, তার পরিনাম বাংলাদেশকে ভুগতে হবে যুগ যুগ ধরে।
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধঃপতন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই মে, ২০২৬ রাত ২:৪৪



কারিনা কায়সার এখন জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন। একটা তরুণ মেয়ে। বয়স ত্রিশের আশেপাশে। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। আরেকটা বড় পরিচয় হলো তিনি বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের কিংবদন্তি খেলোয়াড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শততম পোস্টে আমিই একমাত্র ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৩৫

আমার শততম পোস্টে আজ আমিই একমাত্র ব্লগার। জানালা দিয়ে পশ্চিমের স্বচ্ছ আকাশে শুকতারা দেখছি।
নিউইয়র্ক সময় অনুযায়ী এখানে রাত ১০.৪৬ মিনিট, তারিখ ১১ই মে ২০২৬
তাপমাত্রা +৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস
বাংলাদেশ তারিখ ১২ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৪৬ঃ দ্যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং

লিখেছেন কিরকুট, ১২ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:০৬

১৯৪৬ সালের আগস্ট। ব্রিটিশ ভারত তখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কিন্তু স্বাধীনতার স্বপ্নের ভেতরেই জমতে শুরু করেছে বিভাজনের কালো মেঘ। ধর্ম, রাজনীতি ও ক্ষমতার হিসাব এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের দিকে এগোচ্ছিল। সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া, সতেজ, অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×