দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পিতা-পুত্রের নাটকীয় মিলন...
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
ভিয়েতনাম যুদ্ধে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন হাও ট্রুয়ং। ১৯৭৭ সালে একটি জাহাজে শরণার্থী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ট্রুয়ংয়ের স্ত্রী ও সন্তান ছিল ওই জাহাজে। হঠাৎ জলদস্যুদের কবলে পড়ে জাহাজটি। জলদস্যুরা জাহাজ লুটের পর দক্ষিণ চীন সাগরে ফেলে দেয় ট্রুয়ংকে। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। প্রবল ঢেউয়ের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করে একটানা ১৬ ঘণ্টা ভেসে ছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে, একটি মাছ ধরার নৌকার জেলেরা উদ্ধার করেন তাকে। তবে, প্রাণের বিনিময়ে একটি চড়া মূল্য দিতে হয়েছে তাকে। নিজের পরিবারের আপনজনদের ছেড়ে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ ৩৪টি বছর। অবশেষে গতকাল তিনি তার পুত্র খামের (৩৪) সঙ্গে মিলিত হন। আবারও বাকরূদ্ধ হয়ে যান তিনি। তবে এবার আর শোকে নয়, আনন্দের আতিশয্যে। এ খবর দিয়ে বার্তা-সংস্থা এপি জানিয়েছে, জেলেরা তাকে উদ্ধারের পর তিনি থাইল্যান্ডের একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। কয়েক সপ্তাহ পর তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রীকে সমুদ্রে ফেলে দেয় জলদস্যুরা ও তার সলিল-সমাধি হয়। কিন্তু, তিনি সন্তানের আশা ছাড়েননি। তার সবসময় মনে হতো, কেউ তাকে ঠিকই বুকে টেনে নিয়েছে ও মানুষ করছে। কিন্তু, সন্তানের কোন খোঁজ না পেয়ে শোকে মুহ্যমান ট্রুয়ং ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন। তারপর একে একে কেটে গেল দীর্ঘ ৩৪টি বছর। একটি বিস্ময়কর তথ্য অপেক্ষা করছিল প্রবীণ ট্রুয়ংয়ের জন্য। মার্কিন এক সমাজকর্মীর সহায়তায় তিনি জানতে পারলেন, তার সন্তান দিব্যি বেঁচে রয়েছে। কোন দেরি না করেই, নিউ ইয়র্কে মিলিত হলেন পিতা-পুত্র। একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন। কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না। তবে কিছুদিনের মধ্যেই দেশে ফিরে যাবেন খাম। তবে ছেলের সঙ্গে তিনি সবসময় যোগাযোগ রাখবেন বলেও জানান।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ঘুমিয়ে আছে কারা

এখানে ঘুমিয়ে আছে কে?
আমি তো দেখছি সবাই জেগে
চাঁদ সূর্য হতে শুরু করে এ্যমাজন বনের অদ্ভুত প্রজাপতিটিও
ভিনগ্রহের শত বছর আয়ুর বাসিন্দারা
প্রতিটি ধূলিকণা এমনকি অদৃশ্য পবনও
গভীর সায়রের মৎস্যকন্যা হতে শুরু করে বিস্তৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-
... ...বাকিটুকু পড়ুন
সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!
সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন
জলরেখার নীচে
পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।
আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন
জন্মান্তরের ক্ষুধা

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।