somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যাঙ্গা (সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ রিপোস্ট)

১৪ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মায়ের পোষা ব্যাঙের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে গেলাম। রাত দুপুরে বিচিত্র সুরে ডাকাডাকি করে জানিয়ে দিচ্ছে ব্যাঙজীবন তার আর পছন্দ হচ্ছে না। সে বোধহয় এখন কোকিল টোকিল হতে চায়। তার ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ করে ডাকার কথা। কিন্তু তা না করে সে কোয়াক কোয়াক করে ডাকছে। কেমন পাখি পাখি শোনাচ্ছে, তাই কোকিলের কথাটা বললাম। এই ব্যাঙের আমদানি হয়েছে আজ বেশ কিছুদিন হল। এর আমদানিকারক আমার মাতা মহোদয়। মা প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক। সেই সূত্রে ব্যাঙ যে অনেক তেলাপোকা খায়-এই তথ্য তার জানা আছে। শীত চলে গেছে। তেলাপোকারো নড়ে চড়ে আস্তে আস্তে ঘরের চিপাচুপা থেকে বেরোচ্ছে। এই যখন অবস্থা, তখন একদিন মা ঘোষণা দিল যে তার ডিপার্টমেন্টের স্টাফ মিজানকে (যাকে আমি মিজান মামা বলি সে ছোটবেলা থেকে) ব্যাঙ খুঁজতে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। আজ কালের ভেতর সে ব্যাঙ নিয়ে উপস্থিত হবে। অ্যারোসল ইত্যাদি দিলে ফুসফুসের ক্ষতি হয়। তাছাড়া অ্যারোসলে ফ্রেয়ন গ্যাস আছে। সেটা গিয়ে ওজন লেয়ার ফুটা করে দিবে। আর দুই দিন বাদে তেলাপোকারাও দিব্যি রেসিস্ট্যান্ট হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে সদর্পে ঘুরে বেড়াবে। লাভের লাভ কিছুই হবে না। সেখানে ব্যাঙ একটা সহজ সমাধান হতে পারে। ব্যাঙ বাবাজীর পক্ষে এত সাফাই গাওয়ার উদ্দেশ্য হল নিজেকে প্রবোধ দেয়া, যাতে করে ঘরের ভেতর তার উপস্তিতি আমার কাছে কিছুটা হলেও সহনীয় হয়ে আসে।

ব্যাঙ ট্রিটমেন্ট আমাদের বাসায় নতুন কিছু না। তারপরও আমার এই উভচরটার প্রতি এক ধরনের ভীতি কাজ করে। ক্লাস এইটে থাকতে পড়েছিলাম এদের প্যারোটিড গ্ল্যান্ড আছে। রাতের বেলা অন্ধকারে পায়ের তলে ব্যাঙ মিয়ার হাত-পা পড়লে সে যদি পিচিক করে বিষ ছুড়ে মারে তাহলেই হয়েছে। যদিও এই বিষে নাকি বেশি কিছু হয় না। খালি হাত-পা চুলকায়। তবে চোখে গেলে সমস্যা হতে পারে। ব্যঙ্গের বিষ বিষয়ক তথ্যগুলো ক্লাস এইটের বায়োলজি বইতে ছিল নাকি আমি এখন গুল মারছি, নিজেই বুঝতে পারছি না।

যাইহোক, মিজান মামা একটা পলিথিনের প্যাকেটে ব্যাঙ নিয়ে উপস্তিত দিন দুয়েকের মধ্যে। সেই ব্যাঙের নামকরণও হল। আমার কাছে নাম চাওয়া হয়েছিল। দিয়েছিলামও। কিন্তু পছন্দ না হওয়ায় নাম নেয়া হয় নি। আগের সব ব্যাঙের নাম ছিল "ব্যাঙ্গা"। সুতরাং এর নামও হল ব্যাঙ্গা। তাহলে খামাখা নাম দিতে বলা হল কেন আমাকে? আমার কি চার ঠ্যাঙ্গের উভচরের নাম দেয়া ছাড়া আর কোন কাজ নেই? আমার মা আমাকে ভাবেটা কি?? ব্যাঙ্গার সাথে মায়ের এখন ব্যাপক খাতির। মা ভাত খেতে বসলে তার পোষা ব্যাঙ বারান্দার টবের ভেতর থেকে মধুর সুরে ডাক দেয়। আর মা সেই ডাক শুনে মুগ্ধ থেকে মুগ্ধতর হতে থাকে। ব্যাঙ পুত্র ও তার পালক মাতার এই স্নেহের অবতারণাটুকু দেখলে রাগে আমার পিত্তি জ্বলে যায়। কিন্তু মুখে বলি, "আল্লাহ, আম্মা দেখো তোমার ব্যাঙ্গা কি সুন্দর ডাকে! ইসস...কি স্যুইট!!" এই ঘরে তো আমাকেও থাকতে হবে, নাকি? সুতরাং গৃহকত্রীর সাথে অনাবশ্যক বিবাদে জড়িয়ে কাজ কি??

আমার ভাইয়ের বাসায় তেলাপোকার উপদ্রব হওয়ায় তাকেও মা একটা ব্যাঙ যোগাড় করে দিয়েছিলো। তাই নিয়ে কত কাহিনী। সেটা আরেক দিনের জন্যে তুলে রাখলাম। আজকে ব্যাঙ কাহিনীর এখানেই আপাতত ইতি।

-৮।২।১০

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিল, ড. ইউনূস, আমেরিকা-বাংলাদেশ চুক্তি ও এলিট তৈরির কারখানা - আমাদের শিক্ষা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


জাতিসংঘের অধিবেশনে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ট্রাম্পের সাথে করমর্দনের একটা ছবি প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ছবিটি ঘিরে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। বছরের শুরুতে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে চুক্তিগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা গান: অতীত ও বর্তমান- হৃদয়ে টিকে থাকা সুরের খোঁজে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৩২



বাংলা গান: অতীত ও বর্তমান- হৃদয়ে টিকে থাকা সুরের খোঁজে

রেডিওর ক্র্যাকল শব্দ ভেদ করে ভেসে আসা "আমার সোনার বাংলা", কিংবা কোনো বর্ষার সন্ধ্যায় কাজী নজরুল ইসলামের "কারার ঐ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাক স্পর্শ (এটাকে সুর করে গান করার ইচ্ছে আছে)

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪০

কুয়াশার ভেতর ফিরে আসি চেনা সেই শহরের পথে,
বিবর্ণ আলো ঘুমিয়ে থাকে পুরোনো কোনো জানালাতে।
একটা নাম আজও কেন নিঃশব্দে ডাকে......
ধুলো জমা সেই পথটাতে পায়ের শব্দ থেমে যায়,
দেয়ালজুড়ে মুছে যাওয়া কত স্মৃতিরেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি রাজধানী ঢাকাকে মেরে ফেলছি ?

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৯

ঢাকাকে সব কিছুর কেন্দ্র বানিয়ে ঢাকার মাথায় আমরা যে দুর্বহ বোঝা তুলে দিচ্ছি তার ভার কি ঢাকা বইতে পারবে? আমরা যদি খুব চেনা কিছু দেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো রাজধানী... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোয়াইট হাউজে বঙ্গবন্ধু - "I want to survive"

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২৬




জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ করে অক্টোবরের ১ তারিখে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজে এলেন বঙ্গবন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×