somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভয়ংকর এক রাতের কাহীনি।

২৫ শে মার্চ, ২০২০ ভোর ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সেদিন কাজ করে বাসায় আসতে আসতে দেরী হয়ে গিয়েছিল। বাসা থেকে কাজের জায়গায় হেটেহেটে যেতে লাগে ১০ মিনিট আর বাসে করে গেলে লাগে ৩-৪মিনিট। সেদিন অনেক কাজ ছিল তাই রাত ১টা হয়ে গিয়েছিল যখন আমি আমার কাজের জায়গা থেকে বের হই। সামনেই ছিল বাস স্ট্যান্ড। ভাবলাম রাত হয়ে গিয়েছে হেটেহেটে বাসায় না গিয়ে বাসে করেই যাবো। মোবাইলে বাস-ট্রেনের একটা এ্যাপস ডাউনলোড করা আছে যেটা দেখে বুঝা যায় কোন বাস কোন সময় আসবে। ৪ মিনিট পরেই বাস আসার কথা। রাস্তায় তেমন কোনো লোকজন নাই। বলতে গেলে আমি একাই দাড়িয়ে ছিলাম বাস স্ট্যান্ডে। মাঝে মাঝে দু-একটা গাড়ি যেতে দেখছিলাম। আমি আমার মোবাইল ফোনে টুইটারে বিভিন্ন মানুষের টুইট পড়ছিলাম। যেগুলো আবার ভালো লাগে সেগুলো রি-টুইট করছিলাম। ঠিক ঐ মূহুর্তে একজনের একটা টুইট বার্তা দেখে রিতীমতো চমকে উঠলাম। এ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম: curse_me। সে লিখলো যে 'কিসের জন্য রাস্তায় একা একা দাঁড়িয়ে আছো, ভয় ভীতি কি কিছুই নেই?' আমি বার্তাটি পড়েই এদিক সেদিক তাকালাম। রিতীমতো ভড়কে উঠলাম। এদিক সেদিক তাকিয়ে কাউকে দেখলাম না। হঠাৎ দেখি রাস্তার ঠিক উল্টো দিকেই বড় একটি গাছ সেই গাছের নিচে একজনকে দাড়িয়ে আছে।আলো কম ছিল তাই পরিষ্কার করে দেখতে পারছিলাম না চেহারাটা। আর চেহারা দেখবই বা কি করে সে তো ছিল রাস্তার উল্টো পাশে।

কিন্তু সে কি আমাকে টুইট করেছে? আমার পরিচিত কেউ কি সেখানে দাঁড়িয়ে আছে? প্রশ্নগুলো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম লোকটির দিকে। মনে হচ্ছিলো সে কালো শার্ট ও কালো প্যান্ট পড়ে আছে। আমি সঠিক বুঝতে পারছিলাম না। কারণ সে যে গাছের নিচে দাড়িয়ে আছে সেখানে কোনো আলো নাই।

হঠাৎ মোবাইলের ঘড়ির দিকে তাকালাম। ওমা! ৪--৫ মিনিট পর বাস আসার কথা অথচ ২০টা মিনিট পার হয়ে গেলো টেরই পেলাম না। হেটেহেটে গেলেওতো এতক্ষণে বাসায় পৌছে যেতাম। বাসের এ্যাপসটি আবার রিফ্রেশ দিলাম, দেখি ১ মিনিট পরেই বাস। আমি আবার ঐ গাছের দিকে যেই তাকালাম দেখি লোকটি নেই। আমি বেশ ভয়ই পেয়ে গেলাম। আমাকে কে টুইটারে ম্যাসেজ পাঠালো? আমার ঐ সাহস নাই যে রাস্তা পার হয়ে ঐ পারে গিয়ে দেখি লোকটা কই গেলো! অবশেষে বাস আসলো কিন্তু সাধারণত আমার বাসার দিকে যাবার জন্য যে ধরনের বাস আসে সেরকম বাস আসলো না। আর এই বাস স্ট্যান্ডে অন্য কোনো বাসও থামেনা। এটা একটা ছোটখাট বাস দেখলাম পয়েন্টে এসে থামলো। বাসের দরজাটা খুলে গেলো। দরজাগুলো অটোমেটিক।

আমি বাসে উঠার পর বাস ড্রাইভারকে হেলো বললাম কিন্তু কোনো উত্তর মিললো না। তার মুখে কোনো রকম এক্সপ্রেশন নাই। যাক গে! আমি সামনের দুইটা সিট বাদ দিয়ে তৃতীয় সীটে গিয়ে বসলাম। বসার সাথে সাথে আমি জানালা দিয়ে ঐ গাছটার দিকে তাকালাম। কেউ নেই। কেমন জানি একটু অন্যরকম লাগছিলো। বাস চলা শুরু করলো। ১ মিনিট পরেই আমি খেয়াল করলাম যে পুরো বাসটিতে আমি একা। আমি খেয়ালই করি নাই যে বাসের ভিতরে যে কোনো যাত্রী নাই। মনের মধ্যে খটকা লাগলো। আমি আবারো পিছে তাকালাম। এবারে আমি যা দেখলাম তা দেখে আমি এমন ভয় পেয়ে গেলাম যে সেটা আমি মনে হয় ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা। নিচের যে ছবিটি আমি দিয়েছি ঠিক সেরকমই এক মহিলাকে দেখলাম বাসের একদম শেষের সীটে বসে আছে আর আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসছে। এই ছবিটি দেওয়ার কারণ এই যে অনেকটা এরকমই লাগছিলো মহিলাটাকে। আর বাস ড্রাইভারও দেখি ফুল স্পীডে বাস চালানো শুরু করলো। আমি এতই ভয় পেয়ে গেলাম যে ঐখানেই অজ্ঞান হয়ে আমি পরে যাই।



জানি না কতক্ষণ পর আমার সেন্স আসলো তবে যখন সেন্স আসলো তখন দেখি বাসটি থামা অবস্থায় রয়েছে। চারপাশ বেশ অন্ধকার।
কোনো রকম আওয়াজ কানে আসছিলো না। আমি তখনো বাসের ফ্লোরে শুয়া অবস্থায়। মনে পরে গেলো সেই ভয়ঙ্কর চেহারার কথা। আৎকে উঠে আমি বাসের সেই শেষের সীটের দিকে তাকালাম। দেখি কেউ নেই। ধীরে ধীরে উঠে আমি বাসের সামনে গেলাম। ড্রাইভারও নেই। বাসের দরজা খোলা। বাস থেকে নেমে সামনে তাকাতেই দেখি যে আমি একটি খ্রিষ্টানদের কবরস্থান, যাকে আমরা ইংরেজিতে সেমেট্রি বলি, সেটার সামনে আছি। এই কবরস্থানের মেইন যে গেট সেই গেটের পাশে একটা গাছ আছে। গাছটির নিচে একজনকে বসে থাকতে দেখলাম। এক বৃদ্ধ মানুষ। আমি তার সামনে গিয়ে তার চেহারার দিকে তাকিয়ে আমি এতো চিৎকার দিয়ে উঠলাম সেটা মনে হয় বহুদূর পর্যন্ত শোনা গিয়েছিলো। এমন বিদঘুটে চেহারা আমি কখনো দেখিনি। সে আমমাকে বললো যদি বাচতে চাও তাহলে এই কবরস্থানের মাঝখান দিয়ে সোজা যে রাস্তা চলে গিয়েছে সেই রাস্তা দিয়ে চলে যাও। ঠিক ঐ সময়ই আমি বাসের সেই ভয়ংকর হাসির ঐ মহিলাটা কে দেখলাম। ধবদঃবে সাদা কাপড় পরে আছে। তখনও মুখে হাসি। আমি দৌড় দেওয়া শুরু করলাম। কবরস্থানের দু'পাশে বহু বড় বড় গাছ। দেখি সব গাছে মানুষের লাশ ঝুলে আছে। পিছনে আমাকে তাড়া করছে ঐ মহিলা।

হঠাৎ ঘড়ির এলার্মে আমার ঘুম ভাঙলো। কি ভয়ঙ্কর একটা স্বপ্নই না দেখলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০২০ ভোর ৫:৪০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুসলিম এলাকাগুলোতে ধর্মীয় গুজব কেন বেশী?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৮ শে মে, ২০২০ সকাল ১০:৩৯



মুল কারণ, অশিক্ষা ও নীচুমানের শিক্ষা, মিথ্যা বলার প্রবনতা, এনালাইটিক ক্ষমতার অভাব, ধর্মপ্রচারকদের অতি উৎসাহ, লজিক্যাল ভাবনার অভাব। মুসলমানেরা একটা বিষয়ে খুবই দুর্বল, অন্য কোন ধর্মাবলম্বীর ইসলাম গ্রহন... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাদিসের অসাধারণ একটি শিক্ষা

লিখেছেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ২৮ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:১৪

এক মহিলা সাহাবি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি জিনা (ব্যভিচার) করেছি। জিনার কারণে গর্ভবর্তী হয়েছি।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তুমি চলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্রাত্য রাইসুঃ এই সময়ের সেরা চিন্তাবিদের একজন

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৮ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:৪১

ব্রাত্য রাইসুকে আমি কখনো সরাসরি দেখি নাই বা কোন মাধ্যমে কথাও হয় নাই কিন্তু দীর্ঘদিন অনলাইনে থাকার কারনে কোন বা কোনভাবে তার লেখা বা চিন্তা গুলো আমার কাছে আসে এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের সাধারন মানুষ লকডাউন খুলে দেওয়া নিয়ে যা ভাবছেন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে মে, ২০২০ দুপুর ২:৫৫



১। সবই যখন খুলে দিচ্ছেন তো সীমিত আকারে বেড়ানোর জায়গাগুলোও খুলে দেন। মরতেই যখন হবেই, ঘরে দম আটকে মরি কেন? টাকাপয়সা এখনো যা আছে তা খরচ করেই মরি। কবরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুমায়ূন ফরীদি স্মরণে জন্মদিনের একদিন আগে !!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৮ শে মে, ২০২০ রাত ১০:০১

ঘটনাটি এমন। প্রয়াত চলচ্চিত্র পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন বসে আছেন। পাশের চেয়ারটি ফাঁকা। ফাঁকা চেয়ার পেয়ে আমি যখন বসতে গেলাম। পরিচালক খোকন ঘাবড়ে যাওয়া চেহারা নিয়ে বললেন ওটা ফরীদি ভাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×