somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাফি বাংলাদেশ
সবার উপরে মানুষ সত্য

মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ ও বৃটিশ নাগরিক মিস লুসি হল্ট, রাষ্ট্র একটু ভাববেন কি?

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


৭১ এর যুদ্ধে অনেক বিদেশী নাগরীকদের অবদান ছিলো বাংলাদেশের জন্য তার মধ্যো বৃটিশ নাগরিক মিস লুসি হল্ট অন্যতম যিনি প্রায় ৬০ বছর ধরে আছেন বাংলাদেশে। সেটা নিজের পছন্দেই। মানুষটা জন্মগত দিক থেকে ভীনদেশি হলেও, মন ও মননে পুরোপুরি বাঙালি। হয়ত বাংলাদেশে মানুষদের থেকেও একটু বেশি। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের সেন্ট হেলেন শহরে মিস লুসি হল্টের জন্ম। মাত্র ৩০ বছর বয়সে বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনের হাসপাতালে আসেন সেবায়েত হিসেবে। কথা ছিলো দুই বছর বাদে ফেরবার। কিন্তু এখানকার প্রকৃতি, মানুষ, আর মানুষের ভালোবাসা আবৃষ্ট করে তাকে। তাই তো গেল ৫৬ বছর ধরে লাল-সবুজের দেশে মাখামাখি ব্রিটিশ নাগরিক লুসি হল্টের। চলনে-বলনে সবকিছুতেই তার বাঙালিয়ানা।
বিনে পয়সায় কখনো সেলাই শেখানো, তাঁত প্রশিক্ষণ, পথ শিশুদের পাঠদান, আবার কখনো বা হাসপাতালে সেবা দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। আর এসব কাজের শুরুটা বরিশাল থেকে। পর্যায়ক্রমে নওগাঁ, রাজশাহী, যশোর, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, খুলনা হয়ে আবারো বরিশালেই। পরিবার-পরিজন, বৃটিশ আভিজাত্য ফেলে এ বিদেশিনী একা থাকেন অক্সফোর্ড মিশন হোস্টেলের ছোট্ট খাট্টো একটা রুমে। নাম মাত্র উপার্জন তার। পেশা বলতে বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ। কেউ কেউ তার কাছে আসেন ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদের জন্যও। এসব কাজ করেন তিনি হাসিমুখে।
বৃটিশ নগরিক হওয়াতে ৭০ পাউন্ড বা হাজার ছয়েক টাকা পান মাসিক ভাতা হিসেবে। এটা তিনি আবার অসহায়দের মধ্যে বিলিয়ে দেন। একাত্তরের স্মৃতি রয়েছে লুসির চোখজুড়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে বেশ কয়েক মাস যশোরের ফাতেমা হাসপাতালে আহতদের সেবা দেন তিনি।


সাদাসিধে জীবনে অভ্যস্ত লুসির এদেশে রক্তের কেউ না থাকলেও আত্মীয়তা করেছেন অনেক বাঙালীর সাথেই। তার মেয়ে, মেয়ে জামাই, আদরের নাতি-নাতনি রয়েছে। যদিও এরা কেউ-ই রক্তের তো নয়ই, বিদেশীও নয়-সব বংলাদেশী। এই নারী বাংলাদেশকে তার নিজের দেশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তা নয়, এই দেশেই মরতে চান তিনি। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে বরিশালে
লুসি দ্বৈত নাগরিকত্ত্ব চেয়েছিলেন, পাননি। শুধু বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নেবেন তাও সাহস পাচ্ছে না। কারণ বৃটিশ নাগরিক হওয়াতে তিনি ভাতা পান সেখান থেকে। সেটি বন্ধ হবে যদি তিনি সেখানকার নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন।
আর্থিক নিঃস্ব এ মানুষটির সরকারের কাছে আহ্বান, তাকে দ্বৈত নাগরিত্ব প্রদানসহ বছরে ভিসা নবায়নের ৩৮ হাজার টাকা মওকুফের। বলেন, ‘আমি অনেক বছর পর্যন্ত এদেশে আছি। বাংলাদেশকে ভালোবাসি। সরকার চাইলেই বছরের ঐ ৩৮ হাজার টাকা কনসিডার (বিবেচনা) করতে পারে। আমি খুব কৃতজ্ঞ থাকবো যদি টাকাটা কমানো হয়। পেনশনের যে টাকা পান তাতে খুব কষ্ট হয় । তার কাছে ফিক্সড কোন টাকা নাই।
ব্রিটিস এই নাগরীক লুসির দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রাদানসহ বছরের ৩৮ হাজার টাকা বাংলাদেশ সরকার মওকুফ করবেন। তাকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সনদ ও সম্মাণনা দিবেন এই অনুরোধটুকু একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে দাবি করছি। সেই সাথে দাবী করছি এই মানুষটিকে ভালো ভাবে বেঁচে থাকার জন্য সরকারী ভাবে সহায়তা প্রদান করা। আর আমি বিশ্বাস করি এটা আমাদের এবং বাংলাদেশ সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
পত্রিকা নিউজ লিংক http://www.dhakatimes24.com
http://dailyjagoran.com
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:১৪
১৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×