somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আব্দুল্লাহ্ আল মামুন
আমার লেখা আপনাদের কথার সাথে মিলবেনা এটাই সত্য। কারন কেউতো একজন থাকা চাই যে আলাদা ভাবে দুনিয়াকে দেখবে। আপনি পজিটিভ ভাবে আমার লেখা পড়লে আপনাকে স্বাগতম। আর নেগেটিভ ভাবনা নিয়ে পড়লে আমার কিছু করার নাই। ভালো চিন্তা করুন। দেশ, জাতি, আর ধর্মকে ভালোবাসুন।

আজকের দিন বর্তমান, যা ফেলে এসেছো তা অতিত, বর্তমান গড়বে ভবিষ্যৎ

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের ব্লগের সনামধন্য লেখক জনাব সাইন বোর্ড সাহেবের রান্নাঘর পড়ে আমারো একটা কাহিনী মনে আসলো, তাই লিখতে বসলাম



সেটা অনেক দিন আগের কথা, হালিমার বিয়ে হয়েছিলো আজিজ এর সাথে। সে তখন মাদ্রাসায় পড়ে, তার ভাই ছিলো শিক্ষক, তাই তার শিক্ষার ব্যবস্থা হয়েছিলো। বড় বোন ছিলো হাফেজা। হালিমা ছিলো ২য়, সবার বড় ভাইয়ের পর তার জন্ম। সবার আদরের আর বুদ্ধিমতী মেয়ে।
হালিমা শশুর বাড়িতে এলো, দেখলো তার শাশুড়ি একটু কৃপণ টাইপের মহিলা। তার অন্যান্য ননদ ঝাদের সাথে একটু ত্যারা ভাবেই কথা বলে। তবে হালিমাকে তার খুব পছন্দ, কারন সে সুন্দরী আর শিক্ষিত। সেই যুগে ওই টুকুই বেশি। তার উপর ধর্ম জ্ঞান জানা আছে ।

হালিমা ছিলো চালাক আর খুব দ্রুত সব পরিস্থিতি বুঝে যেতো। তাই কয়দিনেই শাশুড়ির মন জয় করে নিলো । যা অন্য কোন বউ পারেনি এই বাড়িতে আগে এসেও।

হালিমার শাশুড়ির অভ্যাস ছিলো, মানুষকে খাওয়ানো । সে কোন গরীব মানুষকে দুঃখী দেখতে পেতোনা। কেউ কাছে এসে কোন দুঃখ কষ্টের কথা বললে সে গলে যেতো। মমতাময়ী হয়ে উঠতো। এই গুণটা হালিমার স্বামীও পেয়েছে। তবে সে তার দাদার মতো একটু মিতব্যয়ী কিপটাও বলা যায়। তবে তার অভ্যাস হল প্রতিদিন দুপুরে কোন না কোন মানুষকে খাওয়াবে। অনেক দূর থেকে আসা কোন লোক যদি পথ হারিয়ে ফেলে। তাহলে সে তার বাড়ির বাহিরের বৈঠক ঘরে ঘুমাতে দেয়। আজিজ সাহেব লোকটাও নরম মনের মানুষ , তার ছোট এক ভাই মারা গেছেন। আরেক ভাই আছে। সেও খুব সহজ সরল আর রসিক ।


হালিমা তার শাশুড়িকে মাজান (আম্মা) বলে ডাকে। তাই তাকে খুব আদর করে । (আসল কথা হল, অনেক সময় পরিশ্রম করে সেবা করার চাইতে সম্মান দেখানোর বিষয়টাও বেশি বড় হয়ে যায়)

বাংলাদেশের অনেক নারীর অভিযোগ শাশুড়ি ভালোনা। আসলে তারাও অনেক ক্ষেত্রে সম্মান টা দেয়না। এটা কারো চিন্তায় আসেনা


এদিকে হালিমার এক ছেলে জন্ম নিলো। তার পর আরেক মেয়ে। এভাবে ৫ জন । তার শাশুড়ি একদিন মারা গেলো ।
সে তার সন্তানদের বিয়ে করালো। সেও শাশুড়ি হল।

তিনি কিন্তু নিজেকে আরো গুছিয়ে নিলেন, কারন তিনি জানেন কিভাবে তার শাশুড়ি তার সাথে আচরণ করেছে। আর যে আর ভুল কোনটা সঠিক কোনটা।
তার সব বউদের সাথে তার আচরণ অনেক ভালো। আর সেটা অন্য দশটা পরিবার হতেও বেশি৷


তবে সে খেয়াল করলো তার শাশুড়ির অনেক অভ্যাস তার ভিতরে ঢুকে গেছে। সে মাঝে মাঝে হেসে হেসে তার পুত্র বঁধুদের বলে ।
এতো বছর সাথে থাকতে থাকতে মা সাবের (শাশুড়ীর) অনেক অভ্যাস কিভাবে যেনো আমার ভিতরে বাসা বেধে নিয়েছে । সেই কাজ গুলো যেনো আমারো ভালো লাগে। আমার পছন্দ হয় করতে, ওই কাজ গুলো যেটা তোমাদের দাদি শাশুড়ি করতো।

আল্লাহর কি লিলা খেলা, কাল আমি বউ ছিলাম, আজ আমি শাশুড়ি। কালকে তোমরা এই জায়গায় আসবে ।
তাই এটা মনে রেখো, আজকের কাজ গুলোই তোমার আগামীকাল গড়ে দিবে।
তুমি তখনি সম্মান আশা করতে পারবে। যখন তুমি কাউকে ভালোবাসা দেখাবে৷ ভালোবাসা না দেখালে কেউ সম্মান পায়না।
মানুষকে মানসিক ভাবে আপন করে নেওয়াটা আসল। আর সেটার জন্য শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়না। প্রয়োজন হয় মুখের একটু সুন্দর ভাষা আর শ্রদ্ধাশীল আচরণ। তাহলে সেই আচরণ মানুষকে মানুষের কাছে করে তোলে প্রিয়।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:২০
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×