somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি না পাওয়ার গল্প !

১২ ই জুন, ২০১২ রাত ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন । দিনটি ঠিক আমার মনে নেই কারন এটা আমার কোন ঘটনা নয়।ঘটনাটি আমার এক বন্ধুর জীবনে ঘটে যাওয়া । তবে সেদিন ছিল প্রথম বর্ষের নবীন বরন । ক্লাসে ঢুকে অনেক অপরিচিতদের মাঝে একজন পরিচিত বন্ধুকে খুজে পায় আমার বন্ধুটি । পরে সে মনে মনে একটু হাফ ছেড়ে বাঁচে এই ভেবে যে যাক অন্তত একজন পরিচিত বন্ধুকে তো পাওয়া গেল। নবীন বরন অনুষ্ঠান শেষ।সবাই ক্লাস থেকে বের হচ্ছে এমন সময় আমার বন্ধুকে অপর বন্ধু নিলয় বলল দোস্ত আমার তো একটা মেয়েকে অনেক ভাল লাগছে । তখন আমার বন্ধুটি ও নিলয়কে বলল যে, দোস্ত আমার ও তো একটা মেয়েকে ভাল লাগছে ! নিলয় বলল কোন মেয়েটাকে দোস্ত! আমার বন্ধুটি বলল যে আগে তুই বল তোর কোন মেয়েটাকে ভাল লাগছে ! তারপর নিলয় একটা মেয়েকে দেখিয়ে দিয়ে বলল যে আমার এই মেয়েটাকে ভাল লাগছে । মেয়েটাকে দেখে আমার বন্ধুটির একটু খারাপ-ই লাগলো কারন এই মেয়েটিকে তার ও ভাল লেগেছে । এবার নিলয় আমার বন্ধুটিকে বলল দোস্ত তোর কোন মেয়েটিকে ভাল লাগছে বললি না তো ! তখন আমার বন্ধুটি বলল আচ্ছা দোস্ত বাদ দে পরে দেখায় দিব। এরপর নিলয় আমার বন্ধুটিকে বলল যে তাহলে চল দোস্ত একটু খোজ খবর নিয়ে আসি।পরে তারা মেয়েটির নাম জানতে পারে এবং সেদিনের মত বাসা চলে যায় । এর কিছুদিন পর আমার বন্ধুটি এক স্যার এর কাছে প্রাইভেট ঠিক করতে যায় ব্যাচ করে এবং স্যারকে বলে যে তারা সকাল নয়টায় পড়বে । তখন স্যার বলেন যে ওই সময় তো একটা মেয়েদের ব্যাচ আছে তাহলে তোমরা এক কাজ কর, তোমরা ওদের সাথেই পড় । আমার বন্ধুটি বলে যে স্যার ঠিক আছে আমাদের কোন সমস্যা নেই। পরেরদিন যথারীতি স্যার সকাল নয়টায় পড়ানো শুরু করেন কিন্তু আমার বন্ধুটি যেতে পারে না কারন তার জ্বর থাকে সেদিন। তারপর ও সে টানা ৪-৫ দিন প্রাইভেটে যেতে পারে না। জ্বর ভাল হওয়ার পর যখন সে প্রাইভেটে যায় তখন সে দেখে যে ওই মেয়েটি তাদের এই ব্যাচেই । সে পুরা হতবাক হয়ে যায় ।
কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাচের অনেক মেয়ের সাথে তার খুব ভাল বন্ধুত্ব হয় । এমনকি ওই মেয়েটির সাথেও ! এর একটা কারন ছিল যে সে পরীক্ষাগুলোতে খুব ভাল নম্বর পেত এবং স্যার তাকে খুব পছন্দ করত। এরমাঝে নিলয় আমার বন্ধুটিকে ওই মেয়েটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে যে সে কোন খোজ খবর পেয়েছে কিনা। তো তখন আমার বন্ধুটি একটু মিথ্যে কথা বলে যে না সে কোন খোজ খবর জানে না। আস্তে আস্তে মেয়েটির সাথে আমার বন্ধুটির ফোনে কথা বলা শুরু হয়। খুব বেশি কথা হতো না কিন্তু নিয়মিত কথা হতো। আর এসএমএস দেয়া নেয়া হতো বেশ ভালই। একটা সময় মেয়েটি বুঝতে পারে যে আমার বন্ধুটি তাকে অসম্ভব পরিমান পছন্দ করে কিন্তু যেহেতু আমার বন্ধুটি তাকে সরাসরি কিছু বলে না সুতরাং সেও বুঝতে দেয় না যে সে কিছু বুঝে। একদিন বিকেল বেলা আমার বন্ধুটি তার অন্য কিছু বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিল আর সিগারেট খাচ্ছিল । ঠিক এরকম সময়ে মেয়েটি পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল এবং আমার বন্ধুর হাতে সিগারেটটা দেখল। সে না দেখার ভান করে চলে গেল। আমার বন্ধুটি বাসায় এসে রাতের বেলা তাকে ফোন দিল কিন্তু সে ফোন ধরল না। বেশ কিচ্ছুক্ষন ধরে সে ফোন দিল কিন্তু কোন কাজ হল না। বলে রাখা ভাল আমার বন্ধুটি আর একটি কাজ নিয়মিত করত আর তা হল রাত ৮. ০১ মিনিট এ মেয়েটিকে একটা এসএমএস পাঠানো । সে যথাসময়ে একটা এসএমএস পাঠিয়ে দিল প্রতিদিনকার মত কিন্তু আজ আর কোন রিপ্লে আসলো না। আমার বন্ধুটি বুঝতে পারলো যে তাকে সিগারেট খাওয়া দেখে মেয়েটি রাগ করেছে । এর দুই তিন দিন পর্যন্ত মেয়েটি আমার বন্ধুটির সাথে কোন কথাই বলল না এবং কোন ফোন রিসিভ করল না। এরমধ্যে গ্রীষ্মের বন্ধ শুরু হয়ে গেল। মেয়েটি তার বাসায় চলে গেল। বাসায় যাওয়ার পর আমার বন্ধুটি তাকে ফোন দিয়ে দেখে যে তার ফোন বন্ধ। প্রতিদিন সে ফোন দিত কিন্তু ফোন বন্ধ থাকতো । মেয়েটির ফোন বন্ধ থাকলেও আমার বন্ধুটি তার রোজকার মতন ঠিক ৮. ০১ মিনিটে একটা এসএমএস পাঠিয়ে দিত। আর মেয়েটিও একবার ফোন অন করে এসএমএসটি পরে আবার ফোন বন্ধ করে রাখতো। আমার বন্ধু এসএমএস এর ডেলিভারী রেপোরট দেখে বুঝত যে মেয়েটি তার এসএমএসটি পড়েছে । এভাবে বেশ ১০-১৫ দিন কেটে যায় কিন্তু মেয়েটির সাথে আমার বন্ধুটির কোন কথা হয় না। এরপর একদিন আমার বন্ধুটি তার অন্য আর এক বান্ধবীকে ফোন করে মেয়েটির সম্পর্কে খোজ খবর নেয়ার জন্য । তখন ওই বান্ধবীটি আমার বন্ধুকে জানায় যে মেয়েটির বিয়ে হয়ে গেছে ১সপ্তাহ আগে ! এটা শুনে সাথে সাথেই আমার বন্ধু কলটি কেটে দেয় এবং তার ২ মিনিট পর আবার ফোন দেয় । তখন সে বান্ধবীটাকে জিজ্ঞেস করে যে দোস্ত আমি কি তোকে একটু আগে ফোন দিছলাম ? আমার বন্ধুর কথা শুনে তার বান্ধবী ঘটনাটি বুঝতে পারে এবং তাকে বলে যে হ্যাঁ সে তাকে ফোন দিয়েছিল এবং সে যা শুনেছে তার কাছ থেকে তা সম্পূর্ণ সত্যি। এরপর আমার বন্ধুটি সারা রাত আর ঘুমাতে পারেনি। শুধু সেদিন এর রাত নয় এখনকার প্রতিটি রাতই তার নির্ঘুম কাটে !!! একা একা অনেক কান্না কাটি করে সবার অগোচরেই ... । চেপে রাখা কষ্ট তার দিনকে দিন বেরেই চলছে কিন্তু তার ভালবাসাকে স্পর্শ করে এমন সাধ্য নেই।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে

লিখেছেন অর্ক, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×