বৃষ্টিবিলাসে একা থাকেন সোবহান সাহেব। অঢেল সম্পত্তির মালিক। বাড়ির সামনে আছে চিড়িয়াখানা, পুকুর, পাহাড়, টিলা। সবুজ গাছগাছালিতে ঘেরা চারপাশ। কিন্তু এতো সুন্দর একটা জায়গায় সোবহান সাহেবের ছেলেমেয়েদের মধ্যে কেউ থাকেন না। দুই মেয়ে এক ছেলে সবাই থাকে ঢাকায়। মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসে সোবহান সাহেবের কাছে।
হঠাৎ একদিন সোবহান সাহেবের মনে হয় একা বেচে থাকার মধ্যে কোনো মানে নেই, কোনো সার্থকতা নেই। ম্যানেজারকে ডেকে পরামর্শ চান তিনি। ইচ্ছা ব্যক্ত করে বলেন, বাড়িটিতে যেন প্রাণ নেই। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ঘুরে বেড়াবে, নাচবে-গাইবে তবেই না মনে হবে আনন্দময় বাড়ি। ম্যানেজার তাকে আশ্বাস দেন। বলেন, স্যার আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। বাচ্চা-কাচ্চা জোগাড় হয়ে যাবে। একদিন সকালে সোবহান সাহেব অবাক হয়ে দেখেন তার বাড়ির চারপাশে অসংখ্য ছেলেমেয়ে কিলবিল করছে। ম্যানেজার গ্রাম থেকে ভাড়া করে এনেছে শখানেক শিশু। তারা সোবহান সাহেবের বাড়িতে ঢুকেই যে যেখানে পারে হই চই করছে, ফুল ছিড়ছে, গাছের পাতা ছিড়ছে। চিড়িয়াখানার প্রাণীকে অহেতুক জ্বালাতন করছে, পুকুরে সাতার কাটছে। বিব্রতকর এক পরিস্থিতি। অধৈর্য হয়ে ওঠেন সোবহান সাহেব। বন্দুকের ফাকা আওয়াজ করেন। ছেলেমেয়েরা ভয়ে পালিয়ে যায়।
এবার সোবহান সাহেব তার আপন ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনিকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। কিন্তু তারা তো সহজে আসবে না। ছেলেমেয়েদের মোবাইলে খবর দেয়া হয় বাবা মারা গেছে। খবর শুনে ঢাকা থেকে সবাই ছুটে আসে গ্রামে। বাধ্য হয়ে ছলচাতুরির আশ্রয় নেন সোবহান সাহেব। খাটে শুয়ে আছেন সোবহান সাহেব। তিনজন মৌলভী লাশের পাশে বসে দোয়া দরুদ পড়ছে। একে একে জামাই সন্তানসহ দুই মেয়ে আসে। সোবহান সাহেবকে মৃত ভেবে কান্নাকাটি করে। হাস্য কৌতুকের মাঝে একটি শ্বাসরুদ্ধকর অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
একদিন দুই জামাই সিদ্ধান্ত নেয় শ্বশুরকে বিয়ে দিলে আর নিঃসঙ্গতায় ভুগবেন না। পাত্রী খোজা শুরু হয়। সোবহান সাহেব বিয়ে করতে যাচ্ছেন এ খবর জেনে ছোট মেয়ের কাজের মেয়ে এক রাতে স্বপ্নে সোবহান সাহেবকে বিয়ে করে ফেলে এবং পরের দিন থেকে সে নিজেকে বৃষ্টিবিলাসের মালিক ভাবতে শুরু করে। এ নিয়ে শুরু হয় নানা রহস্য কৌতুকময় ঘটনা।
এক সময় কাহিনীতে প্রবেশ করে নন্দিনী নামে এক আধুনিক তরুণী। সে গান জানে, নাচ জানে। তার প্রতি আগ্রহী দুই জামাই। বলা বাহুল্য, দুই মেয়ে সন্দেহপ্রবণ হয়ে নিজ নিজ স্বামীকে শায়েস্তা করার জন্য ফন্দি ফিকির শুরু করে। দুই জামাইকে রাতে গাছের ডালে রাত কাটাতে বাধ্য করা হয়। এক জামাই গাছ থেকে পড়ে যায়। কাহিনীর এক পর্যায়ে দেখা যায় নন্দিনীর সঙ্গে বিয়ে হয় সোবহান সাহেবের একমাত্র ছেলের। কাহিনী জুড়ে আছে দম ফাটানো হাসির খোরাক।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



