যদিও রাতে একটু দেরী করেই শুয়েছিলাম তবুও ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিলো বেশ সকালেই। ৭টার দিকে ব্লগার রিয়ন ফোন করে জানালো যে, সে পিকনিকে যেতে ইচ্ছুক। বললাম, ফার্মগেট কামার বাড়ির সামনে সকাল ৮টার মধ্যে আসতে। উল্লেখ্য, সারিয়া আপুকে আগেই বলে রেখেছিলাম যে, আমার সঙ্গে একজন গেস্ট থাকতে পারে। কারণ আগের দিন রাতেই রিয়ন আমাকে বলেছিলো যে, সে যাবে না। রাতের ব্যবধানে ওর ইচ্ছাও যে পাল্টে যেতে পারে তা আগেই ভেবে রেখেছিলাম। হাজার হোক ছেলেবেলার বন্ধু আমার!
যা হোক, ফার্মগেট যখন পৌঁছলাম তখন ঘড়িতে ৭ টা ৪২ মিনিট। ভাবলাম সবাই বোধ হয় এসে পড়েছে, আমিই লেট। কারণ সারিয়া আপু আমাকে সাড়ে ৭টার মধ্যেই আসতে বলে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমিই যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হবো ফার্মগেটে তা ভাবিনি!
খামার বাড়ির সামনে দেখলাম দু'টি দোতলা বাস। ভাবলাম বেশি ব্লগার হওয়াতে হয়তো দোতলা বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে! কিন্তু একটি বাসের কাছে উপস্থিত সকলেই চাকমা' সম্প্রদায়ের হওয়াতে মনে হলো সামহোয়ারইনে এতো চাকমা ব্লগার আছে বলে তো জানতাম না! আর তারাও সকলে পিকনিকে যাচ্ছে।
যা হোক, সারিয়া আপুকে ফোন দিলাম শিউর হবার জন্য কোন বাসটিতে উঠতে হবে। অথচ সারিয়া আপু বললেন তারা এখনও রওনা দেন নি। আসকে কিঞ্চিত দেরী হবে। রঞ্জু (ক্যামেরাম্যন) ভাই নাকি ফার্মগেটে রয়েছেন। তাই এদিক ওদিক তাকালাম রঞ্জু ভাই এর সন্ধানে। আইল্যান্ডের মাঝে তিনজন বিভিন্ন সাইজের ব্যক্তিকে দেখে ধারণা হলো এরা হয়তো ব্লগার! কিন্তু চেনা নেই, বিধায় যেচে ওনাদের কাছে যেতে পারছিলাম না। একটু পর দেখলাম উদাসী স্বপ্ন ২ জন ছেলে ও ২ জন মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে খামার বাড়ির সম্মুখভাগ দিয়ে টহল দিচ্ছেন। উ.দা'র ফটো আগেই ব্লগে দেখেছিলাম বলে তাকে চিনতে বিশেষ বেগ পেতে হয় নি। কিন্তু মেয়ে বেষ্টিত উ.দা'র সঙ্গে তাৎক্ষণিক আলাপ না করাটাই অধিক সমীচীন মনে করলাম!
এ সময় দেখলাম আমাদের বিশিষ্ট ব্লগার একরামুল হক শামীম আরো দুজনকে নিয়ে নাচতে নাচতে (নাকি লাফাতে লাফাতে?) রাস্তার অপর পাশে রঞ্জু ভাইয়ের কাছে যাচ্ছে। এবার শিউর হয়েই যোগ দিলাম সকলের সঙ্গে। এবার অপেক্ষার পালা। সকলে কখন আসবে।একটু পর স্ত্রীর সঙ্গে সবুজ একটি পিকআপে ব্লগার কালপুরুষ আসলেন। তার পর সুন্দরী এক (পাগলী?) কে নিয়ে যোগ দিলেন ব্লগার লুলু পাগলা। আইরিন সুলতানা এলেন সিএনজি'র কালারের সঙ্গে ম্যাচিং করা ড্রেসে। আহমদ মুজতবার হয়তো সখ ছিলো ফার্মগেট এলাকা চিনবে! তাই ভাসানী নভো থিয়েটারের কাছে নেমে পেছন দিয়ে বিস্তৃর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে সে আসে খামার বাড়ির সামনে!!........হাসি তামাসাতে সকলে বেশ ভালোই সময় কাটাচ্ছিলেন। সারিয়া আপু'র সাথে সাথে পিকনিকে যাবার বাসও এলো।
সকলে উঠে বাসে করে যাত্রা শুরু করলাম। বাসে উঠেই আয়োজকরা ব্যস্ত কে কি ভাবে কখন বাসে উঠবেন তা ফোন করে জানতে। এমেচার এবং জয়িতা উঠবে টেনিস কমপ্লেক্স এর সামনে থেকে। আর পথিক এবং সুখী মানুষ উঠবে শনির আখড়া থেকে। ব্লগার সুনিলসমুদ্র নাশতা নিয়ে হাজির ছিলেন অভিসার সিনেমা হলের সামনে। বাস আর পিকআপ নিয়ে আমরা হাজির হলাম রমনা টেনিস কমপ্লেক্স এর সামনে। এমেচার দেখলাম হাজির, জয়িতার ওঠার কথা থাকলেও সে নাই। বাস নিয়ে আমরা চলে গেলাম অভিসার সিনেমা হলের দিকে। আর ক্যামেরাম্যান ও কালপুরুষ পিকআপ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকলেন জয়িতার জন্য।
অভিসার সিনেমা হলের সামনে নায়ক মান্নার কি যন একটা ছবির পোস্টার লাগানো ছিলো। দেরী দেখে অরুণ ভাই (ব্লগার সুখী মানুষ) ফোন করে জিজ্ঞেস করলেন কোথায়। সিনেমা হলেন কথা বলতেই তিনি জিজ্ঞেস করলেন ছবি শেষ হবে কতক্ষণে। কারণ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তার ও ব্লগার পথিকের নাকি মাথার সব চুল পড়ে যাচ্ছে।
যা হোক, বাসেই পরিবেশন করা হলো নাশতা। দেশবন্ধু রেস্তোরার পরোটা আর ভাজি, সাথে একটা করে সন্দেশ।
হালকা পাতলা জ্যাম এড়িয়ে অবশেষে শনির আখড়া থেকে আমাদের সঙ্গে যোগ দিলেন ব্লগার পথিক ও সুখী মানুষ। এর পর ৩৫-৪০ মিনিটের জার্নি শেষে পৌঁছলাম নির্দিষ্ট স্পট মুড়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ। শুনলাম এটিই ধারাবাহিক নাটক অয়োময়ের শুটিং হওয়া সেই বিখ্যাত জমিদার বাড়ী। বিশাল এলাকা। বিশেষ করে সামনে ও পেছনের পুকুর দুটো বেশ সুন্দর। প্রথমে ঘুরে দেখা ও ছবি তোলার ব্যাপার। এরপর শুরু হলো পরিচয় পর্ব। পরিচয় পর্বের পর সারিয়া আপু বের করলো একটা বক্স্। খেলার নিয়মকানুন জানান হলো। বাক্সটা প্যাক করা হয়েছে অনেকগুলো কাগজ দিয়ে। প্রতিটা কাগজে একেকজন ব্লগারের শারীরিক কিংবা অন্য কোন ধরণের বর্ণনা আছে । সেটা পড়ে সেই ব্লগারকে বের করে উপরের কাগজটা ছিড়ে বক্সটা তার হাতে দিতে হবে। সে আবার দিবে পরবর্তী জনকে। এভাবে শেষ পর্যন্ত বক্সটা যে পাবে সেই পাবে বক্সের ভেতরের উপহারটি। শেষ পর্যন্ত উপহারটা পেয়েছিল প্রাপ্তি। খেলাটা জমেছিল দারুণ।
এরপর সুনীল'দা প্রাপ্তির উপর আবেগঘন একটা লেখা পড়ে শোনালেন। ক্যামেরাম্যান রাহেলার উপর বললেন। অন্যরাও টুকটাক কিছু বললেন। এরপর অপেক্ষা দুপুরের খাবারের জন্য। খাবার এলো। খুবই ফাস্ট ক্লাস একটি আয়োজন। কাচ্চি বিরিয়ানির জন্য কালপুরুষদা'র আগামী ১ ডজন পোস্টে + দেবো বলে ঠিক করলাম!
যা হোক খাবারের পর সামান্য বিশ্রাম। এরপর রেফেল ড্র'র আয়োজন। ১০ টি সান্তনা প্রাইজের মধ্যে ১০ নম্বরটি পাওয়াতে বেশ সান্তনা পেয়েছিলাম! আর তাই সেরা তিনটি প্রাইজ না পাওয়াতে অন্যদের তুলনায় আফসোস কম ছিলো।
এরপর আমাদের রিটার্ন যাত্রা শুরু হলো ঢাকার দিকে। পথিমধ্যে অনেকেই একে একে নেমে যেতে শুরু করলেন। এভাবেই এক সময় নেমে যাবার সময় আসলো ও বুঝলাম যে, যাত্রা শেষ+পিকনিক শেষ। তবে এর আমেজ ও আনন্দ রয়ে যাবে অনেক অ-নে-ক দিন।
পুনরায় ধন্যবাদ জানাই এ রকম একটি সফল পিকনিক আয়োজনের জন্য সারিয়া আপু, কালপুরুষদা, সুনীল সমুদ্র, ক্যামেরাম্যান ওরফে রঞ্জু ভাই ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে। ২০০৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি স্মরণীয় হয়ে থাকার কৃত্বিত্তও কেবলই তাদের।
ফটো ক্যাপশন :
১. এটিই সেই অয়োময়ো নাটকের জমিদার বাড়ি।
২. ফার্মগেটে অপেক্ষা করছি।
৩. খাবারের আয়োজন ছিলো ফাটাফাটি।
আলোচিত ব্লগ
চলতি পথের গল্পঃ দুই

‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।
এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক
‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।