somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"সংগীতের বিবর্তন: ভিডিও বনাম গান"

২০ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



খুব বেশি দিন আগের কথা না। ক্যাসেটের যুগের কথা বলছি। তখন ক্যাসেটের দুই পিঠ মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ টি গান থাকতো। একটি ৬০ মিনিট ব্যাপ্তির ক্যাসেটে ১২টি গান থাকবে এটাই যেন স্বাভাবিক হিসেবেই ধরা হতো। আবার কখনো কখনো ৭০ মিনিটের ক্যাসেটও প্রকাশ হতো। সেখানে তখন ন্যূনতম ১৪টি গান থাকতো। এরপর ক্যাসেট যুগের সমাপ্তি ঘটলো। এলো সিডি/ ভিসিডি/ ডিভিডি/ মেমোরী কার্ডের যুগ। আর এখন তো গান শোনার ক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্ধী মাধ্যম হলো ইউটিউব।

অনুরূপভাবে গানের সংখ্যার ক্ষেত্রেও আমুল পরিবর্তন এলো। অ্যালবামে গানের সংখ্যা কমতে কমতে এখন ১টি-তে এসে পৌঁছেছে। আগে একটি অ্যালবামে ১২টি গানের মধ্যে দেখা যেত ৩/৪ টি গান পছন্দের তালিকায় এসে যেত। এখন সেই বাছাইয়ের সুযোগ কোথায়! ১টি বা ৩টি গানের অ্যালবামে দেখা যায় একটি গানও ভালো নাও লাগতে পারে। ফলে কোন অ‌্যালবামের এই অল্প কয়টি গানের কোনটিই যদি শ্রোতার মনোঃপুত না হয়, তবে শ্রোতার মনে অটোমেটিক ভাবেই সেই শিল্পীর প্রতি একটি নেগেটিভ ইমপ্রেশন গড়ে ওঠে। সেই শিল্পীর আরেকটি অ্যালবামের গান শোনার প্রতি পরে আর আগ্রহ নাও জন্মাতে পারে।

সেজন্য প্রশ্ন উঠতেই পারে, প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিল্পীদের জনপ্রিয়তা কি আসলেই বেড়েছে? নাকি প্রতিযোগীতাটা এখন আরো কঠিন আর অসম হয়ে গেছে?

অ্যালবামে গানের সংখ্যা না বাড়ানোর পেছনে যুক্তি হলো, এতে নাকি অ্যালবামের খরচ বেড়ে যায়। অথচ এখন লাখ টাকা দিয়ে ভিডিও নির্মাণ না করলে নাকি আর দর্শক-শ্রোতাদের কাছে গান জনপ্রিয় করা যায় না! অথচ ভিডিও পেছনে যে টাকা খরচ হয় সেটি দিয়ে তো গান আরো কয়টা করা যায়। তাহলে সকলে গানের চেয়ে ভিডিও'র পেছনে এতো জোর দেয় কেন? উপরন্তু ক্যাসেটের যুগে ভিডিও তেমন ছিল না বললেই চলে। তখন কি গান হিট হয় নি, শিল্পীরাও কি জনপ্রিয় হয় নি?

প্রযুক্তির এডভানটেজ ও ডিজএডভানটেজ উভয়ই আছে। তাই প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলাই স্মাটনেস নয়, বরং নিজের স্বকীয়তা টিকিয়ে রেখে চলার মাঝেই হলো আসল স্মাটনেস। ইউটিউবে গিয়ে পুরনো অ্যালবামগুলোর ভিউ দেখুন, তাহলেই বুঝবেন শ্রোতারা আসলে কি পছন্দ করে। তাই সংগীতাঙ্গনের বর্তমান দুরাবস্থার জন্য প্রযুক্তির মিসইউজ দায়ী কিনা সেটাও বোধহয় এখন ভাববার সময় এসেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১১:৩৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭



জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই বাড়িটি বয়ে বেড়াচ্ছে কিছু স্মৃতি।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৪:০৫



ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগ্রীহিত।

মনে করুন, সময়টি ১৯৮০ সালের। গ্রামের এক সামর্থ্যবান ব্যক্তি এই বাড়িটি নির্মাণ করেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাচ্ছিলেন। সময়ের সাথে সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সাতকাহন

লিখেছেন বিষাদ সময়, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:০১

অনেকদিন হল জানা আপার খবর জানিনা, ব্লগে কোন আপডেটও নেই বা হয়তো চোখে পড়েনি। তাঁর স্বাস্খ্য নিয়ে ব্লগে নিয়মিত আপডেট থাকা উচিত ছিল। এ ব্লগের প্রায় সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (চতুর্থাংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৯:২৭


আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (তৃতীয়াংশ)
আমার ছয় কাকার কোনো কাকা আমাদের কখনও একটা লজেন্স বা একটা বিস্কুট কিনে দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। আমাদের দুর্দিনে তারা কখনও এগিয়ে আসেননি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×