somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট গল্প-কালো বিড়াল

২০ শে মে, ২০১৫ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১।
আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা
কালো বিড়াল দেখলো সাফিন।
কালো বিড়াল নাকি অশুভ কিছুর
লক্ষণ, দিনটা কি খারাপ যাবে
নাকি!
তবে ভাবার বিষয় হল তাদের এই
আলিশান বাংলো তে বিড়াল এলো
কিভাবে?
এনিয়ে ভাবার আগেই সাফিনের
মোবাইল বেজে উঠল।
নীলার মেসেজ!
নীলাকে কালকে প্রপোজ করেছিল সাফিন, একদিন সময় চেয়েছিল নীলা এবং সাফিনও খুশিমনে সময় দিল তাকে।
আজকে কি এটার উত্তর দিল নাকি?
ভাবতে ভাবতে মেসেজটা খুলল সাফিন।
'The answer is yes '
নীলার এই মেসেজটা দেখে খুশিতে মনটা ভরে গেল সাফিনের।
জীবনে অনেক মেয়ের সাথে ভালোবাসার নাটক করলেও নীলাকে সত্যিকারের ভালোবেসেছে সে।
কালো বিড়াল তো আমার জন্য শুভ হল, এবং আজকে ১৩ তারিখ সেটাও তো দেখছি শুভ হলো আমার জন্য, ভাবলো সাফিন।

২।
সেদিন দুপুরবেলা।
নীলার ভার্সিটির সামনে দারিয়ে আছে সাফিন।
আসছে না কেন এই মেয়েটা, ক্লাস শেষ হয়েছে তো আরো ১৫ মিনিট হয়েছে!!!
ভার্সিটির ভেতরে ডুকবে কিনা ভাবছে, এমন সময় নীলাকে ভার্সিটির গেটের পাশে দেখতে পেল সাফিন।
পিছনে কয়েকটা ছেলে টিজ করছে তাকে।

সাফিনকে দেখেই দৌড়ে এসে কাঁদতে লাগল নীলা।
এমনিতেই নীলাকে টিজ করতে দেখে মাথা গরম হয়ে গেছিল সাফিনের, আবার নীলার কান্না দেখে নিজেকে আর থামাতে পারলনা। সামনে গিয়ে লিডারের মত দেখতে ছেলেটাকে চড় মেরে বসল।

সাথে সাথেই আশেপাশের ছেলেগুলা উঠে সাফিনকে ঘিরে ধরল।
৬ জনের বিরুদ্ধে একজন, শুধুমাত্র সিনেমাতেই জিততে পারে বাস্তবে না-এর বাস্তবিক প্রমান পেল সাফিন।
তার দু-একটা ঘুসি-লাথি সুদ সহ ফেরত দিচ্ছে তারা।
ফলাফল, ১ মিনিটের মদ্ধে ধরাশায়ী হল সে, এবং জ্ঞান হারাল।
জ্ঞান থাকলে হয়ত দেখতে পেত সেখান দিয়েও হেটে যাচ্ছে একটা কালো বিড়াল।

৩।
জ্ঞান ফিরতেই একটা বদ্ধ ঘরে নিজেকে শয়নরত অবস্থায় পেল সাফিন।

এই ঘরে সে আগে এসেছিলো মনে হচ্ছে, কিন্তু জায়গাটা চিনতে পারছে না।

'আমি এখানে এলাম কি করে!,
নীলা কই? '
এসব চিন্তা এসে আকড়ে ধরল সাফিনকে।

এমন সময় নীলাকে ঘরটাতে ডুকতে দেখল সাফিন।
-কি সাফিন সাহেব, জ্ঞান ফিরলো তাহলে।
এই মার খেয়ে আমার তো মনে হয়েছিল আপনার জ্ঞান আজকে ফিরবেই না।

-তুমি এভাবে কথা বলছ কেন?

-এখনো বুঝতে পারছেন না!!! এই ঘরটার কথা মনে পরে???

এতক্ষণ এই ঘরটাকে চেনা চেনা লাগছিলো সাফিনের কাছে, নীলার কথা শুনে একটু ভাবতেই চিনতে পারল,
আরে এটা তো নিধিদের বাসা।
সেই নিধি যাকে সাফিন পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।কিন্তু নীলা নিধির ব্যাপারে জানল কিভাবে?

-তুমি কে??, তুমি নিধির বোন নাকি?

-আমিই নিধি।

-তুমি নিধি হতে পারো না, নিধিকে আমি...
কথা বন্ধ করে দিলো সাফিন।

-কি হল, বলেন আপনি আমাকে কি করেছেন?

-নিধিকে আমি নিজ হাতে খুন করেছি।

-কই, আমি তো বেচেই আছি।

-তুমি নিধি না, আমি নিধিকে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছি।

-হ্যা, তুমি পাহাড় থেকে আমাকে ধাক্কা দিয়েছিলে কিন্তু আমি মরিনি, তাতো দেখতেই পাচ্ছো আমি নতুন চেহারা নিয়ে ফিরে এসেছি, তোমার উপর প্রতিশোধ নিতে।

পালানোর জন্য বিছানা থেকে উঠার চেষ্টা করতেই বিস্ময়ের সাথে সাফিন লক্ষ্য করল, তার হাত-পা সে নাড়াতে পাচ্ছে না। এবং সেগুলা বিছানার সাথে শক্ত করে বাধা।
এবং আরো দেখতে পেল জানালা দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে সেই কালো বিড়ালটা।

৪।
-স্যার আমাদের মিশন সফল হয়েছে হয়েছে,সাফিন তার অপরাধ স্বীকার করেছে।
-ধন্যবাদ নীলা, তোমার অভিনয় সুন্দর হয়েছে। আজ তোমার জন্য আমরা এই ভয়ংকর অপরাধী সাফিনকে প্রমানসহ ধরতে পারলাম।
-আপনাকেও ধন্যবাদ, স্যার আমাকে এই কাজটা করার সুযোগ দেয়ার জন্য।

'যাক অবশেষে এই সাফিনকে ধরা গেল',
নিজের কালো বিড়ালটাকে আদর করতে করতে ভাবল জেনারেল আহসানুল হক।

জেনারেল আহসানুল হক (অবঃ) একটি সিক্রেট এজেন্সি চালান যেটা আইনের চোখ ফাকি দিয়ে অপরাধ করে এমন অপরাধী দেরকে প্রমানসহ আটক করে।
সাফিন তাদের অন্যতম শিকার!!!
এই সাফিনকে ধরার জন্য গত ১ মাস জাল বিছিয়ে রেখেছিলেন তিনি, আজ তার ফলাফল পেলেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০১৫ দুপুর ১:৫৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×