
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড পাইলট কর্মসূচি–এর আওতায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে B1/B2 (ব্যবসা ও ভ্রমণ) ভিসা পেতে অতিরিক্তভাবে ভিসা বন্ড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে এই ভিসা বন্ড শর্ত প্রযোজ্য হবে। ভিসা ওভারস্টে–সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (DHS) বাংলাদেশসহ ৪০টির বেশি দেশকে এই কর্মসূচির আওতায় এনেছে।
বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ডের অর্থ কী
এই পাইলট কর্মসূচির আওতায়, বাংলাদেশি নাগরিকরা যদি B1/B2 ভিসার জন্য অন্য সব দিক থেকে যোগ্য বিবেচিত হন, তাহলে তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার বন্ড জমা দিতে হতে পারে। কোন আবেদনকারীকে কত অর্থের বন্ড দিতে হবে, তা ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভিসা বন্ড জমা দিলেই ভিসা পাওয়া যাবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া কেউ যদি বন্ডের অর্থ জমা দেন, সে ক্ষেত্রে ওই অর্থ ফেরতযোগ্য হবে না।
নির্ধারিত প্রবেশ ও প্রস্থান বন্দর
ভিসা বন্ডের শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশি ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট বিমানবন্দর দিয়েই প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হবে। নির্ধারিত বন্দরগুলো হলো—
বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (BOS)
জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউইয়র্ক (JFK)
ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (IAD)
এই শর্ত লঙ্ঘন করলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বাতিল হতে পারে বা প্রস্থানের তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত নাও হতে পারে, যার ফলে বন্ড বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
কখন বন্ড ফেরত পাওয়া যাবে
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে ভিসা বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল ও অর্থ ফেরত দেওয়া হবে—
ভিসাধারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশবন্দরে গিয়ে প্রবেশের অনুমতি না পেলে
বন্ড বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (DHS) যদি মনে করে যে কেউ ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ করেছেন, তাহলে বিষয়টি ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)–এ পাঠানো হবে। বন্ড ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—
অনুমোদিত সময়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করা
অনুমোদিত সময়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাওয়া
নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা থেকে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন, যার মধ্যে আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদনও অন্তর্ভুক্ত
২০২৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকা বাংলাদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী ও পারিবারিক ভিজিটরদের জন্য এই নতুন নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
News sources: view this link
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




