somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একা মেয়ে

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
[img|http://cms.somewhereinblog.net/ciu/image/172969/small/?token_id=a669767057bad537e5746d9a881227bf





‘মা, তোমার নীল শাড়িটা কই?’
‘আলমারিতে। আর এই ভরদুপুরে শাড়ি দিয়ে কী করবে?’ মায়ের প্রশ্ন।
‘আমি দেখছি, আমার কোনো বিষয়ই তোমরা মনে রাখো না। আজ ইমরানের জন্মদিন, বিকেলে দেখা করছি।’ অনুপার উত্তর।
‘এই গরমে সিল্ক না পরে গত ঈদের জামদানিটা নিতে পারো।’
‘মা, তোমাকে নিয়ে আর পারি না। কতবার বলব, নীল শাড়ি ইমরানের খুব প্রিয়।’
‘ভাবি, তোমাকে না কতবার বলেছি মুখের সাজ এত গাঢ় করবে না। ইমরান একদম পছন্দ করে না। দেখো তো, কেমন পেত্নীর মতো লাগছে। এই মেকআপ তুলে আবার নতুন করে লাগাতে হবে। ধুর, দিলা তো মুডটা নষ্ট করে!’
‘হ্যালো আসিফ, কই তুই?’
‘আপা, আমি ফুলের দোকানে। আসছি।’
‘আমি কি তোকে নীলপদ্ম আনতে বলছি? এক গাছি বেলিফুল আনতে এত সময় লাগে? তোরা কেউ আমাকে গুরুত্ব দিস না।’
‘আফা, আইজকা কি চুলে শ্যাম্পু করছুইন?’
‘চুলে শ্যাম্পু করেছি কি না, সেটা দিয়ে তোমার কোনো কাজ নেই, বুয়া। খোঁপা করে দিতে বলেছি করে দাও। তোমার ইমরান ভাই বলে, নীল শাড়িতে চুলে বেলিফুল দিলে আমাকে নাকি পরির মতো লাগে।
এদিকে আসিফ ফুল নিয়ে এখনো এল না। মা আবার কোথায় গেল? এই ফ্যামিলির সবাই পাগল! এদের যন্ত্রণায় আমিও পাগল হয়ে যাচ্ছি।’
‘আফা, ইমরান ভাই এহন আর বাসায় আহে না ক্যান?’
‘লজ্জা, বুঝেছ বুয়া, তোমার ইমরান ভাই লজ্জায় আসে না। বলেছে, একবারে বিয়ের সময় বর সেজে আসবে।’

খানিক পর মায়ের কথোপকথন।
‘হ্যালো, অনুপার আব্বা, কই তুমি?’
‘অফিসে।’
‘জলদি বাসায় আসো।’
‘কেন, কোনো সমস্যা?’
‘সে রকম কিছু না। অনুপার পাগলামিটা আবার বেড়েছে। তুমি তো জানোই, এই দিনটা এলেই ও আরও বেশি...’
‘চিন্তা কোরো না। আমি আসছি...।’
ওপাশে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফোনটা রাখলেন অনুপার বাবা।
কাজী মেহেদী হাসান
টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Click This Link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"মেলা সুন্দর হতো আমাদের শৈশবে, যখন বই ছিল স্বপ্নের প্রতিশব্দ" ~ বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া আমার সাক্ষাৎকার

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



প্রশ্ন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

সাজিদ উল হক আবিরঃ গত বছরখানেক ধরে দুটো বইয়ের কাজ করছিলাম। একটা আমার দ্বিতীয় উপন্যাস, সরীসৃপতন্ত্র; দ্বিতীয়টি, মিলান কুণ্ডেরার উপন্যাস দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৬ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×