somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্যাসের মুল্য বৃদ্ধি এবং এ সম্পর্কের সম্পর্ক

১৯ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আবার গ্যাসের দাম বাড়ছে।
সরকারি বেতন দিয়ে অনেক আমলা রাখা আছে ভাই,
যারা আমাদের চেয়ে ভালো বোঝে ও জানে।
তবে সরকার প্রধানের (যিনি শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন)
নাগরিকের ব্যাপারটা মাথায় রাখা উচিৎ বলেই আমি মনে করি।



তারও আগে কিছু কিছু বিষয় আমার মনেহয় খোলাসা হওয়া দরকার।
বিশেষ করে গ্যাস ডিস্টিবউশন এর ব্যাপারে।
আমাদের দেশে গ্যাস কোথায় কোথায় আর কোন কোন খাতে ব্যাবহার হয় তা জানা দরকার।
আমদের দেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী গ্যাসের ব্যাবহার নিন্মের চারটি রুপে -

- শিল্প কারখানায়
- যানবাহনে
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে
- বাসা বা বাবহারিক কাজে

একটা কথা বলে রাখা দরকার, একটা দেশের জালানী সহজ লভ্যতা
সেই দেশের উৎপাদন ও বিপনন দুই বিষয়ের উপর বেশ জোর একটা প্রভাব খাটায়।
একটা দেশের উন্নয়ন তার উৎপাদন আর বিপননের উপরি বেশিরভাগ নির্ভর করে।

যেখানে উৎপাদন থাকবে, সেখানে থাকবে শিল্প কারখানা।
যেখানে শিল্প কারখানা থাকবে, সেখানে বেকার সংখা থাকবে নিয়ন্ত্রনে।
সেখানে উৎপাদন হবে, তা বিপনন করতে লাগবে যানবাহন, পন্য ডিস্ট্রিবিউশনের জণ্য জনবল দরকার।
তাতেও সেই বেকার লোকি কাজ পাবে।
উন্নত হবে এলাকার রাস্তাঘাট, চারিপাশ।
বেকার সমস্যার সমাধান হবে।
দারিদ্রতা কমে আসবে।
জীবনযাত্রার মান কিছুটা হলেও উন্নত হবে।
এভাবে একটা দেশের উন্নয়ন হবে।
বিষয় গুলো এক না হলেও খুব কাছাকাছি এদের অবস্থ্যান।

এবার আসল কথায় আসা যাক।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে শিল্পকাখানার পাশাপাশি যানবাহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেভাবে গ্যাসের ব্যাবহার হচ্ছে-
সেক্ষেত্রে শুধু গাসের দাম বাড়লেই দেশের প্রতিটি সেক্টরে এর সুদুর প্রসারিত প্রভাব পড়বে, আর এটাই স্বাভাবিক।
আবার অন্যদিকে গ্যাসের মত জালানী এর দাম কখণই বাড়বে না এমন
প্রত্যাশা করাও আজকের যুগে বোকামি ছাড়া কিছু না।
বিশ্ব অর্থনীতিতে যেকোন জানালীর দাম উঠা-নামা বা কমবেশী সব সময় বিদ্যমান।
সেদিকে লক্ষ্য দিয়ে সরকারও নিজ দেশের অভ্যন্তরে জালানীর দাম কমবেশ করবে এটাই স্বাভাবিক।
তবে সেই কমবেশীর পার্থক্য কতটুকু হবে তা সঠিক ও সময়পোযী নির্ধারন করে অবশ্যই সহনশীল পর্যায়ে রাখতে হবে।
একেবারে অসাভাবিক মুল্য বৃদ্ধি করলে উৎপাদন শিল্প থেকে শুরু করে ত্রেতার হাতে এসে পৌছানো পর্যন্ত
প্রতিটি পর্যায়ে মুল্য বাড়তে থাকবে।

ধরুন, আপনি মুড়ি খেতে পছন্দ করেন, ১ কিলো মুড়ি আপনি কিনেন ১২ টাকা কেজি করে।
এখানে মুড়ি ব্যাবহার করলাম কারন আমরা বাংগালী আবার মুড়ি খেতে খুব ভালোবাসি,
আর কথায় কথায় একে অপরকে মুড়ি খাওয়াই ;)

ধাপ ১: তো ধরুন এখন বগুড়ায় একটা আপানার মুড়ি কারখানায় প্রসেসিং হচ্ছে।
খরচ ০২ টাকা = প্রতিকেজি প্যাকেট (উৎপাদন থেকে প্যাকেট পর্যন্ত)
ধাপ ২: এবার বগুরার খোলা বাজারে ঐ ফাক্টরী মালিক বিক্রি করলো।
খরচ: ০২ টাকা + ফাক্টরীর লাভ ০১ = ০৩ টাকা, + খোলাবাজারে আনতে গাড়ি ভাড়া ০১ টাকা = ০৪ টাকা।
খোলাবাজারি ৪ টাকা দরে কিনলো ৫ টাকা দড়ে বিক্রি করার জন্য।
ধাপ ৩: এবার বগুড়ার খোলা বাজার থেকে ঢাকার কাওরান বাজারের ব্যাবসাহী কিনে নিয়ে গেলো।
খরচ: ০৫ টাকা+ ঢাকাতে পরিবহন খরচ ০৪ টাকা + এই ব্যাবসাহির লাভ ০১ টাকা = ১০ টাকা।
ধাপ ৪: এইবার আপনার লোকাল এরিয়ার দোকানদাড় কাওরান বাজার থেকে ১০ টাকা দড়ে কিনে নিলো।
তার পরিবহন খরচ পরলো ০১ টাকা। সুতরাং ১০+০১ টাকা = ১১ টাকা + দোকান দারের লাভ ১ টাকা = ১২ টাকা।

তাহলে এই হচ্ছে আপনার ১২ টাকা কেজি যা দিয়ে আপনি কিনেছেন বা কিনে নিয়ে বাসায় হেটে যাচ্ছেন।
এখণ দেখুন শুধু জালানীর দাম বাড়ানোতে এই ১২ টাকার জিনিস এ কি ইফেক্ট হতে পারে।
চিন্তা করে দেখুন। বেশী ভিতরে যাবো না।
মোটামোটি একক হিসেবে যদি উৎপাদন জ্বালানী
প্রতি কেজিতে ১ টাকা বাড়ে আর পরিবহন সেক্টরে ২ টাকা বাড়ে তাহলে দেখুন -

ধাপ ১: উৎপাদন থেকে প্রসেসিং = আগের ২ + বর্ধীত ১ = ০৩ টাকা
ধাপ ২: অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যায় বর্ধিত দুই টাকা যোগ হয়ে = ৭ টাকা
ধাপ ৩: এবার বগুড়ার খোলা বাজার থেকে ঢাকার কাওরান বাজারের ব্যাবসাহী কিনে নিয়ে গেলো।
খরচ: ০৭ টাকা+ ঢাকাতে পরিবহন খরচ আগের মতে ০৪+ বর্ধীত টাকা ২ =০৬ এই ব্যাবসাহির লাভ ০১ টাকা = ১৪ টাকা।
ধাপ ৪: এইবার আপনার লোকাল এরিয়ার দোকানদাড় কাওরান বাজার থেকে ১৪ টাকা দড়ে কিনে নিলো।
সুতরাং ১৪ টাকা + পরিবহন খরচ পরলো আগের ০১ + বর্ধীত ০২ = ০৩ টাকা। দোকান দাড়ে লাভ ১ টাকা = ১৮ টাকা

উপরের হিসাব থেকে সহজেই বোঝা যাচ্ছে উৎপাদন থেকে ক্রেতা পর্যন্ত হাত বদলের কারনে একটা প্রডাক্ট এর সিংভাগ
দাম তার পরিবহনের উপর নির্ভর করে। সেজন্য পরিবহন সেক্টরে খরচ বাড়লে সমাজের প্রতিটি স্তরে খরচ বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
এর সাথে আছে উৎপাদন ব্যায় বাড়ার সম্ভাবনা। সেই সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যায় বেড়ে আরও একবার প্রোডাক্ট উৎপাদন ব্যায়ও বাড়তে থাকবে।
সেইসব বর্ধীত দাম ক্রেতার উপরেই বর্তাবে।

সেজন্যে সরকারের উচিৎ পরিবহন সেক্টরে এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি বিস্তর পর্যালোচনা করে বাড়ানো যাতে দেশের অভ্যন্তরীন বাজারে খুব বেশী একটা প্রভাব না ফেলতে পারে। প্রয়োজন হলে ভর্তুকি দিয়ে হলেও অভ্যন্তরিন বাজারকে নিয়ন্ত্রনে রাখা হবে বুদ্ধীমানের কাজ। আর সেই ভর্তুকির টাকার যোগান অর্থনিতীর অন্যান্য বিষয় থেকে করা যেতে পারে।
যেমন ছোট/প্রাইভেট গাড়ি শিল্পের আমাদানির ট্যাক্স বৃদ্ধি করে বা অন্যান্য উপায়ে। যাতে করে ভর্তুকির জন্য সরকারী কোষাগারের উপর চাপ কম হয়।

আবার অন্যদিকে বাসা বাড়ির গ্যাস লাইনের কথা বলতে গেলে বলতে হয় সরকারি মুল্যের চেয়ে আমরা এ দেশের অমুল্য সম্পদের বেশ অপচয় করি। যেসব এলাকায়/ বাসায় বাসায় গ্যাসের লাইন আছে তারা তো একে বারে মগের মু্লুক পেয়ে বসে আছে।
অবস্থ্যা এমন যে শীত কালে বাসা গরম করতে সারা দিন এই জাতীয় সম্পদ জালিয়ে মুগুর ফোটায়। কাপড় শুকানোর জন্য
সারাদিন রান্না ঘরের গ্যাস জালিয়ে রাখে। যেখানে গ্যাসের যোগান নিয়ে দেশের বড় বড় মাথাদের ত্রাহি অবস্থ্যা সেখানে
আপনার আমার মত সাধারন জনগন বাসায় দিব্যি গাসের চুলা জালিয়ে শীত কালে গরম অনুভব করতে চান।
এটার কারন আপনি নির্দিষ্ট একটা টাকা দিয়ে অগনতিক অর্থাৎ পানির মত বাধা বিহিন গ্যাস পাচ্ছেন। যদি গ্যাসের ব্যাবহার
ইলেক্টিসিটির মত ইউনিট হিসেবে করতে হতো তাহলে এক দিকে দেশের সম্পদও বাচতো আর অন্যদিকে অপচয় রোধের কারনে গ্রাহকের মাসিক খরচটিও নিয়ন্ত্রিত থাকতো। সেজন্যে প্রত্যেক বাসা / ফ্লাট বা বাড়ির গ্যাস লাইনে ইউনিট প্রথা চালু করা উচিৎ এবং তা এখনি। এতে গ্যাসের অপচয় রোধ পাশাপাশি বর্ধীত গ্যাসের দাম গ্রাহকের উপর খুব বেশী একটা প্রভাব ফেলতে পারবে না বলেই মনে করি। কারন তখন গ্রাহক সীমিত ব্যাবহার করবে। নিজের প্রয়োজন মাফিক। যা অপচয় রোধ করবে। সাথে দেশের এই অমুল্য সম্পদকে বাচাবে। যেসব এলাকায়/ বাসায় বাসায় গ্যাসের লাইন আছে সেখানে সরকারের উচিৎ গ্যাস সরবরাহ রেগুলেটর করা।
যতটুকু গ্যাস ইউস করবে ঠিক ততটুকু পেমেন্ট করতে হবে।


তবে একটা কথা, সরকারের উচিৎ এখন দেশের সব নাগরিকের আয় দুই তিন গুণ বাড়িয়ে দেওয়া।
সবিই তো বাড়ছে, তো নাগরিকের একটু আয় বাড়ানোর ব্যাবস্থ্যা করলেই তো সব প্রবলেম খতম ।
আমার মনে হয় এ নিয়ে সংসদে আলোচনা করা দরকার।
সবকিছুর পাশাপাশি আমাদের সরকারকে নাগরিকের ভালমন্দের উপরে নজর দিতে হবে।
নাগরিকের আয় রোজগার বাড়ানোর জণ্য সব পদক্ষেপ এর দাবি রেখে শেষ করলাম আজকের এই সম্পর্কের সম্পর্ক।


সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১:০২
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭১-কখনোই ৫০/৫৫বছরের পুরোনো কোনো ঘটনা নয় ।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:০১




৭১-হলো আমাদের বাংলাদেশের বাঙালি জাতির প্রতিদিনের এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা । ৭১ আমাদের অস্তিত্ব,একাত্তর আমাদের আত্মপরিচয়ের ইতিহাস । একাত্তর যদি মলিন বা বিলীন হয়,তখন আমি আর আমি,আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ সকাল। আসসালামু আলাইকুম।

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪



ভোর থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে!
অবশ্য বর্ষাকাল চলছে, বৃষ্টি তো হবেই। ছাতা ছাড়াই বাসা থেকে বের হলাম। ছাতা নেই। ভেঙে গেছে। এক বছর হয়ে গেলো। কিনবো কিনবো করে আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি

লিখেছেন ইসিয়াক, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৬




বিরহকাতর মেঘদল
অবশেষে সকল অভিমান ভুলে
ঝরছে একটানা বাদলধারায়।

অবসন্ন মৃত্তিকা
বহু প্রতীক্ষিত আলিঙ্গনে
আহ্লাদে আকুলায়।

শীতল অবগাহনে চক্ষে নামে আনন্দাশ্রু
স্বাগতম স্বাগতম হে ধারাপাত!
ঝরো অবিরাম।
বৃষ্টির জলধারা বয়ে চলুক নিরন্তর !

পূর্ণ আবেগে
সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মেতে উঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভুল, অনুতাপ ও ভালোবাসা

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮


আজকে একটু তাড়াতাড়ি ফিরবা? আমি রান্নাঘর থেকে মাথা বের করে আনিসকে বললাম। সে জুতোর ফিতা বাঁধতে বাঁধতেই ছোট্ট করে উত্তর দিল,
- চেষ্টা করব। আমি হেসে বললাম,
- তোমার এই চেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা, পরিকল্পনা কোথায়?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৯



শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিচ্ছেন, সময় পার হয়ে গেলে আবার নতুন ডেট দিচ্ছেন। তিনি কি আসলেই ফিরবেন? নাকি নিজের দলকেই কনফিউজ করে রাখছেন? অথবা শুধু জাশির ঘুম হারাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×