আমাদের এই মানব দেহ নিয়ে এমন অনেক অত্যাশ্চর্য বিষয় রয়েছে যা আমাদের অনেকেরই অজানা৷
প্রথমে ধরা যাক মসত্মিষ্কের কথা৷ প্রতিটি মানুষের মসত্মিষ্কের ওজন কমবেশি ৩ পাউন্ড৷ মানুষের মাথায় গড়ে প্রায় দশ হাজার চুল থাকে৷ একটা উচ্চ ৰমতাসম্পন্ন কম্পিউটার যে পরিমাণ খবর জমা রাখে মানুষের মসত্মিষ্কে তার চেয়ে এক লৰ গুণ বেশি খবর ধারণ করতে পারে৷ মাথার চুল সম্পর্কে মজার তথ্য এই যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই চালু হতে যাচ্ছে টিস্যু এক্সপান্ডার৷ খুলির চামড়ার নীচে বসানো এই এক্সপান্ডার ছালকে প্রসারিত করবে বেলুনের মতোই৷ ছালের টাক অংশ সরিয়ে সম্প্রসারিত ধার দুটো এক করে সেলাই করে দেয়া যাবে৷ ফলে আবারো গজাতে শুরম্ন করবে চুল৷
এবারে ত্বক প্রসঙ্গ৷ একজন পরিণত বয়সের মানুষের ত্বকের মোট ওজন ৬ পাউন্ড৷ একজন মানুষের শরীরে যে পরিমাণ ত্বক রয়েছে তার আয়তন ২০ বর্গফুট৷ আমাদের শরীরে যতো শিরা উপশিরা রয়েছে তার সবগুলো একসঙ্গে জড়িয়ে লম্বা করলে তা ষাট হাজার মাইল দীর্ঘ হবে যা দিয়ে গোটা পৃথিবী তিনবার প্রদক্ষিণ করা যাবে৷
মানুষের মুখ থেকে দৈনিক ২-৩ পাইট লালা নিঃসৃত হয়৷ মানুষের হাসির জন্য ১৭টি পেশী দায়ী এবং রাগ করার জন্য প্রয়োজন তেতালিস্নশটি পেশী৷ মানুষের চোয়াল এতোই শক্তিশালী যে এটি ২৭৯ কেজি ওজন বল প্রয়োগ করতে পারে৷ মানুষের জিহ্বাতে রয়েছে ৩ হাজারের বেশি স্বাদ কুড়ি ৷ একজন মানুষের নাক দিয়ে রোজ গড়ে ১৪ কিউবিক বাতাস ফুসফুসে পৌছে৷
সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে এই মানুষের অনুভূতি শক্তি এতই প্রবল যে কমপক্ষে সে দশ হাজার রকমের বিভিন্ন গন্ধ অনুভব করতে পারে৷ মানুষের হাঁচির শব্দের বেগ ঘন্টায় ১৬০ কিঃমিঃ৷ মানুষের সর্দি কাশির জন্য প্রায় ২০০ রকমের ভাইরাস দায়ী৷ মানুষের শরীরে যে পরিমাণ চর্বি আছে তা দিয়ে সাতটি বড় মাপের কেক তৈরি করা যাবে৷ যে পরিমাণ ফসফরাস আছে তা দিয়ে ২২০০ দিয়াশলাই জ্বালানো যাবে৷ যে পরিমাণ বিদ্যুত্ আছে তা দিয়ে ২৫৬ পাওয়ারের একটি বাল্বকে কমপক্ষে পাঁচ মিনিট জ্বালিয়ে রাখা যাবে৷ যে পরিমাণ কার্বণ আছে তা দিয়ে প্রায় ৯ হাজার পেন্সিলের সীস তৈরি করা যাবে৷ যে পরিমাণ আয়রণ আছে তা দিয়ে ৪টি পেরেক তৈরি করা যাবে৷
পূর্ণবয়স্ক একজন মানুষের দেহে মাংসপেশী যে পরিমাণ তাপ উত্পন্ন করে তা দিয়ে ঘন্টায় ১ লিটার পানি উত্পন্ন করা যেতে পারে৷ মানব দেহের হৃত্পিন্ডের দৈর্ঘ্য ৪ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ৩ ইঞ্চি৷ মানুষের হৃত্স্পন্দন প্রতি মিনিটে ৭২ বার৷ সেই হিসাবে প্রতিদিন ১০৪,০০০ এবং এক বছরে ৩৮,০০০,০০০ বার৷ এর ফলে প্রতি হৃত্স্পন্দনে ৮২ মিলিলিটার রক্ত অর্থাত্ প্রতিদিন ৮১৯৩ লিটার রক্ত দেহে ছড়িয়ে পড়ছে৷ আমরা হৃত্পিণ্ডের এই কার্যক্রমকে যদি কাজের এককে পরিণত করি তাহলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ টন৷ যা কোন জিনিসকে ৪১ ফুট বা ১২.৫ মিটার ওপরে ওঠানোর সমান৷
শরীর সম্পর্কিত এমনি আরো নানা মজাদার তথ্য রয়েছে যা এই স্বল্প পরিসরে আলোচনা করা সম্ভব নয়৷ স্বল্প পরিসরের আলোচনাতেই প্রমানিত হয় যে মানুষ আসলেই সৃষ্টির সেরা জীব। প্রত্যেকটি সাধারন মানুষেরই রয়েছে অসাধারন এসব কার্যক্ষমতা। যার অপব্যবহারই বেশী করে থাকে মানুষ। যারা এই লেখাটি কষ্ট করে এতক্ষন পড়লেন, এখন থেকে নিজেকে আর দুর্বল ভাববেন না আশাকরি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



