somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সৈয়দ হাসানুজ্জামান (নয়ন)
জীবন চলার পথে অনেক কিছু দেখেছি জেনেছি । অনেক দিন থেকেই লেখার চেষ্টা করছি কিন্তু সাহস পাই না । অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম ভাল, খারাপ যাই হোক লিখব । ব্লগের সকলের সহযোগিতা চাই ।n

ধর্মান্ধ ওয়েব পেইজ

৩০ শে মে, ২০১৬ দুপুর ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, উগ্র মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বলে মার খেয়েছি, মৃত্যুর হুমকি পেয়েছি । পুলিশের কাছে গিয়েছি নিরাপত্তার জন্য । পুলিশের বক্তব্য, সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় । পারলে দেশ ছেড়ে চলে যান । তাই প্রানে বাচার তাগিদে আজ আমি দেশের বাইরে ।
যত দিন যাচ্ছে, ততই যুক্তিবাদী আর প্রগতিশীল মানুষ খুল হচ্ছে । এক সময় ধর্মান্দ্ধতা আর ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে কথা বললে মৌলবাদীরা পথে নামতো, যুক্তিবাদীদের ফাসি দাবী করতো । এখন ধারালো ছুরি দিয়ে কেরবানির গরু ছাগল যেভাবে জবাই করে, সেভাবে যুক্তিবাদীদের জবাই জরে । গরু ছাগল যেমন সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে জবাই করে, মানুষগুলোকেও তাই করে । খুনির সংখা অবিশ্বাস্যরকম বেড়ে গেছে দেশে । মানুষ কি করে বাংলাদেেশ নিজেদের নিরাপদ মরে করে ? আপস করে চললে অথবা মুখ বুঝে চললে অথবা সন্ত্রাসে সমর্থন জানালেই সম্ভবত নিরাপত্তা মেলে । দেশে যখন ছাত্র, শিক্ষক, লেখক, প্রকাশক, সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী, ব্লগার একের পর এক খুন হচ্ছে, তখন মানুষ কিন্ত খুনের প্রতিবাদ করছে না, রুখে দাড়াচ্ছে না, বরং যে যার জীবন যাপন করে যাচ্ছে , যেমন করছিল ।
শাহাবাগের আন্দোলন আমাকে উজ্জিবতি করেছিল ।
কিন্ত বর্তমান সরকার যেভাবে লেখক, সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করছে তাতে ভয় আরও বেড়ে যায় । বাংলাদেশের শত শত মানুষ শ্যামলকান্তি ভক্ত নামের এক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের হেনস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে । কিন্ত এই যে প্রতিবাদ, তা কি নির্যাতিত প্রধান শিক্ষকটিকে বাচাতে পারবে ? ভয়ন্কর আরও যেসব খবর পাচ্ছি, আমার তো মনে হয়না বাচাতে আদৌ পারবে । ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা হচ্ছে শ্যামলকান্তির । মেডিকেলে ঢুকে শ্যামলকান্তিকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করছে কিছু জঙ্গি দল। এবং করছে প্রকাশ্যেই । ফেইসবুকে, সবাইকে জানিয়েই । এখন হত্যাকান্ড গুলো ঘটাতে সন্ত্রাসীরা আর রাতের আধারের অপেক্ষা করে না । ছুরি ধারিয়ে নিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দেখিয়েই কারও বাড়ীতে ঢুকে কাউকে কুপিয়ে বুক ফুলিয়ে হেটে হেটে সবার সামনে দিয়ে চলে যায় । তাদের রোধ করে কার সাধ্য বাংলাদেশে ?
খবরে পড়লাম, শ্যামলকান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে "ইসলাম বিদ্ধেস ও ইসলামকে গালিগালাজ" করার অভিযোগ এনে তাকে হত্যার টার্গেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তা কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তার প্রাথমিক পরিকল্পনা করে ফেসবুকে একাধিক পেজে দেওয়া হয়েছে । শুধু তাই নয়, "সালাহউদ্দিনের ঘোড়া" ও নবী সা. এর কটুক্তির শাস্তি মৃত্যুদন্ড নামের পেজ ইভেন্ট খুলে শ্যামলকান্তিকে হত্যার টার্গেট লক করে দেয়া হয়েছে । শ্যামলকান্তি ভক্ত এখন ঢাকা মেডিকেলে আছে, কে আছো শ্যামলকে ঢাকা মেডিকেেলের ভিতরই বিজ্ঞানী বানাবে ?
"সালাহউদ্দিরে ঘোড়া" নামের পেজ থেকে শ্যামলকে হত্যা করার ১১টি পদ্ধতি উল্লেখ করা হয় । "নবী সা. এর কটুক্তির শাস্তি মৃত্যুদন্ড: থেকে শ্যামলকান্তির নাম পরিচয় দিয়ে, অপরাধ হিসেবে ইসলাম বিরুদ্ধে ও ইসলামকে গালীগালাজ কারী উল্লেখ করা হয় এবং তাকে বিজ্ঞানী বানানো হোক । তারা হত্যা করার সংকেত-শব্দ হিসেবে "বিজ্ঞানী বানানো" ব্যবহার করে থাকেন ।
আমার এক পরিচিত ব্লগারের কিছু কথ আমাকে বেশ ভাবাচ্ছে । উনি বলেছেন, "সালাহউদ্দিনের ঘোড়া" নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে শিক্ষক শ্যামলকান্তি ভক্তকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে । এখন সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রালয় কি ভূমিকা নিয়েছে এই ব্যপারে । আইসিটি এ্যাক্ট ৫৭ ধারা নিরব কেন ? এই ব্যাপারে সরকার নিরবই থাকবে । কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করবে না । এই বিষয়ে কিছু পুরোনো বিষয় আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করছি ।
নয়ন চ্যাটার্জি, অনিমেষ রায়, বখতিয়ারের ঘোড়া, সালাহউদ্দিনের ঘোড়া, দস্তার রাজদরবার, বাশের কেল্লা এই রকম ডজন খানেক পেইজ ফেসবুকে আছে যেগুোলো থেকে ক্রমাগত সাম্প্রদায়ীক ও মৌলবাদী উস্কানী দেওয়া হয় । বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য এসব পেইজ থেকে যাদের বিরুদ্ধে প্রোপাকান্ডা চালানো হয়েছিল তাদের সবাই-ই খুন হয়েছেন । বাশের কেল্লা পেইজ থেকে অভিজিত রায়ের বিরুদ্ধে প্রপাকান্ডা চালানো হয়েছিল তিনি ইসলাম বিদ্ধেসী বলে । প্রপাকান্ডা চালাণো হয়েছিল চট্টগ্রামের নার্সিং কলেজের শিক্ষিকা অন্জলী দেবীকে নিয়েও । এই দুইজনকেই নৃৃশংস ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ইসলামী মৌলবাদীরা ।
ঠিক একই কাজ বর্তমানে করছে "নয়ন চ্যাটার্জি" ও অনিমেষ রায়" নামের দুটি পেইজ থেকে । সম্প্রতি অনিমেষ রায় পেইজটি থেকে আদিবাসীদের নিয়ে বেশ কয়েকটি উসকানিমুলক পোষ্ট দেওয়া হয় । তার পরপরই বান্দরবনের নাইক্ষংছরিতে বৌদ্ধ ভিক্ষু নিহত হন । কি জানি এইসব পেইজের সাথে এই হত্যাকান্ড গুলো সম্পর্কিত কিনা ? সব সম্ভবের বাংলাদেশে সবই সম্ভব ।
এরকম নিরবিচ্ছিন্ন একের পর এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার পরেও, কোন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া কিংবা হত্যার জন্য প্রররাচিত করার পরও এই পেইজগুলোর বিরুদ্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি । উপরন্ত মৌলবাদীদের রক্ষার জন্য সরকার বিভিন্ন স্থানে সংখা্যালঘুদের উপর হামলাকারীদের " মানসিক ভারসম্যহীন" আখ্যা দিয়েছে সরকার এবং প্রশাসন । বীপরিতে আল্লাহ কিংবা নবী রাসুল নিয়ে দেশের কোন গলিতে বসে কে পেইজ চালাচ্ছে তাদের ঠিকই গ্রেফতার করা হয়েছে । এমনকি ফেসবুকে মন্তব্য করার জন্যও গ্রেফতার হয়েছেন সংখ্যা লগু সম্প্রদায়ের মানুষ । শ্রেফ পাশের বাড়ীর শয়তানকে ঢিল মারার কথা লিখে ৫৭ ধারায় গ্রেফতার হয়েছেন মোহন কুমার মন্ডল । শয়তান এবং ঢিল লিখলেও অপরাধী ! অথচ প্রকাশ্যে মানুষকে হত্যার হুমকি দেওয়া, সাম্প্রদায়ীক উস্কানী দেওয়া, নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালানোর পেইজ গুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না ।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১৬ দুপুর ১২:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×