somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সৈয়দ হাসানুজ্জামান (নয়ন)
জীবন চলার পথে অনেক কিছু দেখেছি জেনেছি । অনেক দিন থেকেই লেখার চেষ্টা করছি কিন্তু সাহস পাই না । অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম ভাল, খারাপ যাই হোক লিখব । ব্লগের সকলের সহযোগিতা চাই ।n

নতুন বছরের শপথ

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নতুন বছরে সকলকে স্বাগতম ।
২০১৬ শেষ হয়ে গেল । ভাল মন্দ, হাসি কান্না, সুখ দুঃখ সবই এখন অতীত । ভাল মন্দ, ভূল ভ্রান্তি নিয়েই মানুষ ।
২০১৭ হবে আশা আকান্খার বছর । গত বছরের ভূল গুলো বাদ দিয়ে, ভাল কাজ গুলো সাথে নিয়ে নতুন বছর শুরু করব । যেন নিজের ভুলের জন্য অন্যের ক্ষতি না হয় । মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ব । জাতী হিসেবে শ্রেষ্ঠ জাতী হওয়ার প্রতিযোগীতায় নিজেদের নাম লেখাব । (নাম লেখাব এই জন্যই বললাম প্রতিযোগিতায় নামার আগে নিজেকে তৈরী করতে হয়) ।

মনে করুন একজন মানুষের বয়স ত্রিশ বছর, সে তার এই বয়সে বেশীর ভাগ সময়ই খারাপ সঙ্ঘে কাটিয়েছেন । হঠাৎ করে তার ভাল ভাল হওয়ার শখ হল । এটা কি সম্ভব ?
যে দীর্ঘ সময় সে খারাপ প্রেকটিস করেছে তার অর্ধেক সময় হলেও তাকে ভাল প্রেকটিস করতে হবে যদি তার ইচ্ছা শক্তি থাকে প্রবল ।
প্রত্যেক পিতা মাতাই চায় নিজের সন্তানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে গড়ে তুলতে । কিন্ত তারাই সফলকাম হয় যারা সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে ।

আমার এক বন্ধু Bangladesh Bureau of Educational Information and Statistics এ ডাটা এন্ট্রির কাজ পেয়েছে । বিল উঠানোর দিন সে আমাকে সাথে নিয়ে গেল । আমরা একাউনটেন্টের রুমে বসলাম । একাউনটেন্ট সাহেবের সাথে আমার বন্ধুর খুব ভাল পরিচয় । উনি আমার সাথে পরিচিত হলেন (মুখ ভর্তি সুন্নতি দাড়ি) এবং বললেন ভাই একটু বসেন নামাজটা পড়ে আসি । বন্ধু আমাকে বলল গত সপ্তাহে উনি হজ্ব করে এসেছেন । কাজের বিল চেকে দেওয়ার নিয়ম । একাউনটেন্ট সাহেব নামাজ শেষ করে এসে বিল দিলেন চেক নয় ক্যাশ । অফিসের জন্য ৩০% রেখে বাকি টাকাটা বন্ধুকে দিলেন ।
এই একাউনটেন্ট সাহেবের চেহারা (দাড়ি টুপিতে) একজন ইমাম সাহেবের চাইতেও সুন্দর । উনারও স্ত্রী, পুত্র, আত্মীয় স্বজন আছেন । তারা অবশ্যই জানেন উনার অবৈধ উপার্জনের কথা কিন্তু কারও মধ্যে কোন হীনমন্যতা নাই। এটা কোন অপরাধ না, এটা আমাদের দেশের সিস্টেম ।
একজন খারাপ মানুষের সংগে যখন আমার সম্পর্ক থাকবে তখন অবশ্যই ভাবতে হবে আমিও খারাপ নয়ত কোন খারাপ স্বার্থের কারনে খারাপের সাথে আমার সম্পর্ক সর্ম্পকীত ।

আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মানুষই জানেন তাদের বাবা, মা, বন্ধু বান্ধব, আত্নীয় স্বজন কোন না কোন ভাবে অবৈধ উপার্জন করছেন, কিন্তু এতে কারও কোন সমস্যা নেই । বরং আত্মীয়তা করার সময় অবৈধ উপার্জনের কথা জানলে আমরা আরও নিশ্চিন্ত বোধ করি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা ভেবে ।

আমাদের দেশে সততার বড় অভাব । কিন্তু বাংলাদেশীদের আছে কর্ম স্পৃহা । বাংলাদেশেরই একজন নীতিহীন মানুষ যখন প্রবাসে আসেন, সে কোন চুরি বা চিটারির কথা চিন্তা করেন না কারন সেখানে সেই সুযোগ খুবই কম। সে শুধু খুজে কাজ ।
বর্তমানে বাংলাদেশের যতটুকু উন্নতি হয়েছে তার বেশীর ভাগ প্রবাসীদের শ্রম আর ব্যক্তি মানুষের আকান্খা । সরকারের কোন অবদান নেই । এখন বাংলাদেশে অনেক বড় বড় প্রকল্পের কাজ হচ্ছে, এগুলো যতট না দেশের জন্য তার চেয়ে বেশী সরকারের নিজের নিরাপত্তার জন্য ।
মনে করুন, আপনার মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে, পাওয়ারে থাকা দলের একটা বখাটে ছেলে আপনার মেয়ের শ্লীলতাহানী করল । আপনি কি এর বিচার পাবেন ?

আমাদের দেশের নেতারা্ই দেশ চালান । সেটা আওয়ামী লীগ হোক আর বিনপি হোক বা অন্য কোন দলের লোক হোক ।
সারাদেশে এখন আর কোন দলের কোন সমর্থক নাই, সবাই নেতা । আর রাজনীতি চলে চামচামীর উপর । চামচামীর উপর প্রমোশন নির্ভর করে । নেতা যা বলবে সেটাই ঠিক । ভূল হলেও ঠিক । কেউ নেতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে অন্য কেউ তাকে সমর্থন করবে না । প্রতিবাদী ব্যক্তির রাজনীতি শেষ হয়ত জীবনও শেষ । ব্যক্তি চামচামী এখন রাষ্ট্রীয় চামচামীতে পৌছেছে ।

এগুলোকেই বলে নীতি হীনতা । একটা জাতীর উন্নতির প্রথম শর্ত হল নৈতিকতা ।
আর এ কারনেই আমাদেরকে নতুন একটা নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষীত প্রজন্ম তৈরী করতে হবে য়ারা অন্যের সাহায্য ছাড়া নিজেরাই দেশকে গড়তে পারবে নিজেরাই নিজেদের দায়িত্ব নিতে পারবে ।
অসৎ মানুষের দ্বারা কোন সৎ কাজ হতে পারে না ।

ব্লগার ভাইয়েরা, আপনারা কেউ কবিতা লেখেন, গল্প লেখেন, সম সাময়ীক বিষয়ের উপর লেখেন । আপনাদের লেখনীর মাধ্যমেই পারেন নতুন একটা সৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে যারা আমাদের জাতীকে বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠ প্রমান করতে পারবে ।
একমাত্র একটা সৎ নতুন প্রজন্মই পারে আমাদের এই বিশৃংখল জাতীকে সুশৃংখল জাতীতে পরিণত করতে ।






সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৭ ভোর ৪:১৫
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×