somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিরশিরে শিহরন এই জীবাশ্ম শরীরে

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোমার চিবুক ছুঁয়ে যে স্পর্শরা স্পর্ধাকে বশ্যতা স্বীকার করিয়ে প্রবাহিত হয়েছে অনবরত- তারা জল। চোখকি কখনও ছুঁয়ে দেখেছে চোখ দিয়ে চোখ! মাঝে মাঝে আমার জানতে ভীষন ইচ্ছে হয়। সে চোখের রঙ ধূসর। কেন এমন হয়; জানিনা। পৃথিবীর অন্য সকল প্রান্তে মানুষের প্রানান্ত ছুটে চলা আর এক শব্দ ফেরিওয়ালার জীবন রেখাচিত্র- জানে আমার নিজস্ব এক নদী। সেখানে সাঁতার না জানা ডুবে যাওয়া এক মানুষের গল্প।

ছইওলা একটা নৌকো ফুল দিয়ে সাজিয়ে রেখেছি; একদিন দেখে যেও ধূসর চোখ মেলে। রূপোয় বাঁধানো রূপক এক বৈঠা, রুমাল ও আলতা রেখেছি। ফুলের মুকুট ও কমলা রঙের নরম রোদ। ঐ যে দূরে করমচা গাছ সেখানে এক জোড়া কাকাতুয়া; ওদের জন্য পাঠিয়েছি কিছু বেলি। নৌকোটা ভেসে আছে রাজহাঁস হয়ে। ওর চোখের রাস্তাটা ভীষণ পিচ্ছিল কিন্তু ; সাবধানে এসো!

এই নগরীর সুনসান অন্ধকারে অদ্ভুত সুন্দর হয়ে শুধু বারবার ফিরে ফিরে আসে চাঁদ। ঠিক এই পথ ধরে হেঁটে গেছে কত পথিক- কত যুগ ধরে- আমরাও। তুমি বলেছিলে- শোন, শোন; কান পেতে ঐ যে, ঐ তো ঝিঁঝিঁ ডাকছে! আমি অবাক বিস্ময়ে সেটুকু অনুভব জমিয়ে রেখেছি। মানুষের অবিশ্রান্ত ছোটাছুটি, কোলাহল কোলাজে এখানে এইটুকু আমার অরণ্য; রাতভর এখানে ঝিঁঝিঁ ডাকে। যে পিপাসায় নাড়িভুড়ি শুকিয়ে আসে; সেটা আসলে চোখে। ভেতরে বাস করা রাজহাঁস-নৌকো।

করাতে কেটে নিচ্ছি যন্ত্রণা; প্রতিনিয়ত। এখন ক্লান্ত লাগে। হাসি-কান্নার ব্যবধান রাখিনি তোমার কাছে। মাঝে মাঝে রাতভর শব্দে ভাসি, ভাসাই। অভিমান বা দুঃখ বিষয়ক গ্রন্থিরা যথেষ্ঠ সজীব শুধু পেঁচক প্রাণের নির্জীবতা অনুশীলন অথবা ধ্যান! কেবল এইটুকু নিজের সাথে এক অনবদ্য সংগ্রাম। কেবলই না বলা কথাদের না বলা রেখে গলতে দিয়ে হিমালয় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা।

একদিন নিশ্চই আমরা মাছরাঙ্গা দেখতে যাব; প্রশান্ত সে নীলাভ রঙ্গ। ভেতরে একটা আকাশ হয়েছে সেই একই রঙ্গের। ক্ষরণ দেখা যায় না এখন; শুধু চোখ দিয়ে ছোঁয়া যায়। এই সীমানা বিবর্জিত নীলিমায় উড়তে এসো ভাসিয়ে রাখবো। ইচ্ছে হলে নিয়ে যেও কিছু নীল।

ফুল দিয়ে সাজিয়ে রেখেছি ছইওলা একটা নৌকো; একদিন দেখে যেও ধূসর চোখ মেলে। একতারা হাতে গানওয়ালা এসে বলে গেছে- কুয়াশার চর থেকে সে একটা নতুন গান ও কিছু ঘাসফুল নিয়ে আবার ফিরে আসবে। আমি বকুল ও জারুল এনে রেখেছি। ঠিক এখানটায় একটা শিউলি গাছ একা দাড়িয়ে থাকে। রাজহাঁসের ডানার নিচের ওম নিয়ে তুমি বৃষ্টি দেখ। ইচ্ছে হলেই ভিজতে পার অথবা ভিজতে ভিজতেই উড়ো।

এখানে এখন কোনো সকাল-বিকাল নেই; নেই সময়োচিত সময়যাপন। কেবল প্রতিক্ষা। আবার বৃষ্টির শরীর ছোঁয়া মায়সন্ধ্যা ও রূপালী রাত নিয়ে আমরা চলে যাব স্তুপিকৃত আলো-অন্ধকারের শরীরে বেয়ে জীবনের নেশায় শহরের অন্য প্রান্তে...
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:২৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×