somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাহরুখ খান, জুলিয়ান এ্যসাঞ্জ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন জনপ্রিয় এবং মেধাবী অভিনেতা হিসেবে শাহরুখ খানের যে পরিচিতি রয়েছে তা নিয়ে হয়তো কেউ সন্দেহ পোষণ করবেন না। বেশ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান, মঞ্চকাঁপানো নৃত্যভঙ্গিমা আর ঝলমলে পোষাকের দ্বারা তিনি এবং তার দল অবশেষে বঙ্গবিজয় পর্ব সমাধা করলেন। পত্রিকান্তরে আমরা জানতে পারলাম- এই সোনার বাংলা থেকে সোনা নয়, তিনি এযুগের ঈশ্বর টাকা নিয়েছেন এবং এর সত্যিকারের পরিমাণটি নেহাৎ কম নয়। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কল্যাণে পঁচিশ হাজারী থেকে তিন হাজারী কোন ধাপের প্রবেশ পত্রই যারা হস্তগত করতে পারেননি তারাও অনুষ্ঠানটির স্বাদ বঞ্চিত থাকেননি।

শাহরুখ খানের জনপ্রিয়তা এদেশে বলিউডের অন্য যেকোন নায়ক-নায়িকার চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি, তার অভিনীত সিনেমাগুলোর নিবিষ্ট দর্শকের সংখ্যা এদেশে উল্লেখযোগ্য আর এ জনপ্রিয়তা একদিনে তৈরি হয়নি, হয়েছে দীর্ঘদিনে- ক্রমে ক্রমে। কিন্তু আমরা কি আয়নায় আমাদের নিজেদের মুখ দেখবনা! মুক্ত বাতায়নের অর্গল ভেদ করে শয্যাপার্শ্বে নাপাম বোমা এসে পড়লেও যদি আমরা বিন্দুমাত্র বিচলিত না হই, তবে ধরে নেয়া যায় মানুষ হিসেবে আমাদের স্থূল, সুক্ষ্ম সবধরনের বোধেরই অপমৃত্যু ঘটেছে।

আপন অস্তিত্ত্ব রক্ষার সংগ্রামে অন্য সকল প্রাণীর ন্যায় মানুষও যথাযথ কাণ্ডজ্ঞানের পরিচয় দিয়েছে বলেই প্রস্তর যুগ থেকে আজ অবধি মানুষ টিকে আছে। সভ্যতার কালপরম্পরায় জৈবিক দেহটির অস্তিত্ত্ব রক্ষার পাশাপাশি চিন্তা, সৃজনকর্ম, মূল্যবোধ, ভাষা, সংস্কৃতি প্রভৃতির জন্য সংগ্রামটিকেও সে আপন অস্তিত্ত্বরক্ষার সংগ্রামের সাথে যুক্ত করে নিয়েছে। অনাগত কালে হয়তো এ তালিকায় আরও অনেক বিষয় যুক্ত হবে যেগুলোর নামও এখনকার মানুষ জানে না।
বাংলাদেশের আষ্টেপৃষ্ঠে দারিদ্র বাসা বেঁধে থাকলেও প্রতিভাবান এবং প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেতা-অভিনেত্রীর অবস্থিতি এ দেশে নিতান্ত নগণ্য নয়। তাদের অনেকেই রয়েছেন যারা যথার্থভাবেই গুণী অভিধা পেতে পারেন যদিও ধনী অভিধাটি হয়তো তাদের ভাগ্যে কোনদিন জুটবে না, শাহরুখ খান এই দিকটিতেও ছক্কা হাঁকিয়েছেন। হিন্দি সিনেমা দেখা কোনও পাপকর্ম নয় যেমন পাপকর্ম নয় তামিল, কানাড়া, ইংরেজি, উর্দু বা ফরাসি সিনেমা দেখা। কিন্তু এ ধরনের ব্যাপক পরিসরের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে গিয়ে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র, আয়োজকবৃন্দ, সর্বোপরি আবেগাপ্লুত দর্শককুল বাংলাদেশের গুণী শিল্পী-অভিনেতা প্রমূখের বহুদিনের প্রচেষ্টায় তৈরি শোভন, রুচিশীল এবং দেশজ সাংস্কৃতিক হৃদপিণ্ডটিতে একটি সূঁচালো পেরেক ঠুকে দিয়েছেন, যার ফলে শুরু হওয়া রক্তক্ষরণের প্রভাব আমাদের বয়ে বেড়াতে হবে সুদীর্ঘকাল।

শাহরুখ খানকে এত বিশাল মাত্রার একটি বাণিজ্যিক লাভালাভের সুযোগ করে দিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ স্থানান্তরের হিসেবটুকু হয়তো অঙ্ক কষে বের করা যাবে কিন্তু ভোগস্পৃহায় উন্মত্ত উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানসলোকে যে সর্বনাশের বীজ রোপিত হল তার পরিমাণ কখনো হিসেব কষে বের করা যাবে না। এক ডজন জাগরণের গানের এ্যালবাম,বদলে যাও বদলে দাও ধাঁচের দুই ডজন স্লোগান আর শীতার্তদের সহায়তা কামনায় করা তিন ডজন আবেদন এই বিশেষ শ্রেণীটিকে যতখানি মানবতার প্রতি, দেশের প্রতি, নিজেকে উপলব্ধি করার প্রতি সজাগ করে তুলেছিল এই ধাঁচের একটিমাত্র অনুষ্ঠান তার চেয়ে দ্বিগুণ বেগে তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

উল্লেখিত দেশজ সংস্কৃতির হৃদপিণ্ডটিকে রক্ষা প্রকারান্তরে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের সাথেই যুক্ত, সমধর্মী আরেকটি সংগ্রাম যেমন করে যাচ্ছেন জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জ। অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের সাথে তিনি যুক্ত করেছেন তথ্য জানার অধিকারের সংগ্রামকে। তার এ সংগ্রামকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় যেভাবেই আমরা সমর্থন জানাইনা কেন, তা হয়ে দাঁড়াবে সেই চিরায়ত মানব-সংগ্রামের অংশ ; যে সংগ্রামের দ্বারা মানুষ বাঁচে, আরও ভালোভাবে বাঁচে। পক্ষান্তরে শাহরুখ খানের এ ধরণের একটি অনুষ্ঠানকে সমর্থন দেয়ার মানে হল আমরা নিজেদের অস্তিত্বরক্ষার সংগ্রামের ধারণাটিতে বিশ্বাসী নই - আমরা আত্মহন্তারক জাতিতে পরিণত হতে চাই।
---------------

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:২৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×