পিলখানা ট্র্যাজেডির দুই বছর
ঘটনার দিন বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে পিলখানায় বসেছিল বার্ষিক দরবার। সকালে আনন্দমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছিল দরবারের নিয়মমাফিক কর্মসূচি। দরবার হলে সবাই সারিবদ্ধভাবে বসেছিলেন। সামনে ছিলেন বিডিআর ডিজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। হঠাত্ এক জওয়ান দাঁড়িয়ে উত্তেজিতভাবে কথা বলতে শুরু করেন। অস্ত্রহাতে ১৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সিপাহী মঈন ও কাজল এগিয়ে যান মঞ্চের দিকে। ডিজিসহ কয়েজন সেনা কর্মকর্তা তাদের থামাতে দৌড়ে আসেন। নিরস্ত্র করে মাটিতে শুইয়ে দেন। এ অবস্থায় দরবারে অবস্থানরত জওয়ানদের একজন জাগো বলে চিত্কার করে ওঠে। মেগাফোনধারী মুখোশ পরা সশস্ত্র ৫ যুবক দরবার হলে প্রবেশ করে। ব্রাশফায়ার শুরু করে। হঠাত্ গুলির শব্দ। এরপর ক্ষণিকের নীরবতা, সবাইকে থামানোর চেষ্টা করেন ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমদ। তার কথায় কেউ কর্ণপাত করেনি। গুলি চলতে থাকে অবিরাম। সব উত্সব-অনুষ্ঠান ম্লান করে দিয়ে প্রায় দুই দিন ধরে চলে বিদ্রোহ। নারকীয় তাণ্ডবে মেতে ওঠে একদল বিডিআর জওয়ান।
পিলখানা হত্যার সেই বীভত্সতা সমগ্র জাতির কাছে কলঙ্কিত এক ইতিহাস। শতাধিক সেনা পরিবার বিডিআরের বিপথগামী ঘাতকদের হিংস্র পৈশাচিক থাবায় ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতিম হয় অনেক শিশু। অর্ধশতাধিক নারী হয়েছিলেন বিধবা। বহু পিতা-মাতার বুক খালি হয়। এই অভিশাপ কেবল ভুক্তভোগী পরিবারগুলোরই নয়; গোটা দেশ ও জাতির।
২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে পিলখানা বিডিআর সদর দফতরে নজিরবিহীন নৃশংসতার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকালের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। দু’দিনের বিভীষিকা থামিয়ে অস্ত্র সমর্পণ করে বিদ্রোহীরা। আগেই পালিয়ে যায় প্রকৃত খুনিরা। এরপর থেকে শুধু স্তব্ধ স্তম্ভিত আর বাকরুদ্ধ হওয়ার পালা।
প্রায় ৩৬ ঘণ্টা বিদ্রোহের পর পিলখানা পরিণত হয় একটি মৃত্যুপুরীতে। পিলখানায় শুধু লাশ আর লাশ। রক্ত আর রক্ত। পোড়া গাড়ি, পোড়া বাড়ি, ভাঙা গ্লাস, ঘাসের ওপর তাজা গ্রেনেড; চারদিকে শুধু ধ্বংসচিহ্ন। সেনা কর্মকর্তাদের কোয়ার্টারগুলোর তছনছ অবস্থা। বিভিন্ন স্থাপনায় জ্বালাও-পোড়াওয়ের ধূসরিত দৃশ্য। ড্রেনের ম্যানহোল থেকে আসে রক্তের উত্কট গন্ধ। প্রথম দফায় কামরাঙ্গীরচরে একটি স্যুয়ারেজ লাইন থেকে কয়েক দফায় ৯ সেনা কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিডিআর হাসপাতালের পেছনে একটি গণকবর থেকে তোলা হয় একসঙ্গে ৩৯টি লাশ। একটি গ্যারেজ মাঠের পাশের গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ৯টি লাশ। এ বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, একজন সৈনিক ও দু’জন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীসহ ৬১ জন নিহত হন। সেনা কর্মকর্তাদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান ৭ বিডিআর জওয়ান। বিভিন্ন গেট থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়ায় আশপাশের আরও সাতজন পথচারী নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫-এ।
সব কি আমরা ভুলে গেলাম?
আজ পিলখানার ঘটনা মুছে ফেলার জন্যই কি গতকালের বেহায়াপনা?
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১০টি মন্তব্য ১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!
প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।