অনেকদিন আগের কথা। আমাদের গ্রামের বাড়ী তখন আজকের মত এরকম পাকা ছিল না, মাটির ঘর। একদিন রাতে আমাদের একটা টেপ রেকর্ডার চুরি হয়ে যায়। চোর শেষে ধরাও পড়ে। তারপরে জনতা ভীষণ উত্তম মাধ্যম দেয়, অতপর সোজা হাসপাতালে। ঘটনায় আমার দাদা বেশ কষ্ট পান। শেষে, তার খরচে চোর আবার সুস্থ হয়ে উঠে।
২৮ অক্টোবরের ঘটনার সাথে এ ঘটনার সম্পর্ক কি? কোন সম্পর্ক নাই। উপরের ছবিটির দিকে খুব ভাল করে খেয়াল করুন তো, কি একে অপরাধী মনে হয়? ছবিটি মুজাহিদের। মুজাহিদ ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির, ফয়সাল ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের, হাফেজ শিপন ছিলেন ঢাকা কলেজের ফিজিক্সের আর মাসুম ছিলেন সরকারী তিতুমীর কলেজের ছাত্র (বাকীদের ছবি কোথাও খুঁজে পাইনি, কেউ জানালে খুশি হব)।
রাস্তার উপর পিটিয়ে স্পটেই মেরে ফেলা হল এদের। ঘটনার দিন গ্রামের বাড়ীতে ছিলাম, টিভি নিউজে দেখলাম। এরকম দৃশ্যও যে দেখতে হতে পারে, কল্পনাও ছিল না। সম্ভবত চতুর্দিক হতে যখন একের পর এক লাঠির বাড়ি পড়ছিল, তখন কোন একটি মুহুর্তও পিঠ হতে লাঠি মুক্ত ছিল না।
যাই হোক, ঘটনা বেশ পুরানো। ঘটনার দিন থেকে আমি অনেক ভেবেছি, মানুষ কখন আরেক মানুষের উপর এরকম ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা করে? উত্তর পাইনি।
আমি আসলে সবসময়ই একজন আশাবাদী মানুষ, বাস্তবতা বুঝতে না চাওয়া একজন মানুষ। বহু মানুষের সাথে তর্ক করি, দুঃখ, কষ্ট, ঝেড়ে ফেলে সোজা সাপ্টা লাইফ চালানোর পরামর্শ দেই, অনেকেই আমলে নেয় না তারপরও আমার কাজ আমি করেই যায়।
সেরকম, দেশকে নিয়েও আমি আমার মত করে ভাবি। ভাবি আমাদের দেশটা কত সুন্দর! কত সম্ভাবনাময় এ দেশ! দেশটিকে আমার ঐ সুন্দরী কিশোরীর মত মনে হয়, যে কিশোরীর জন্ম হয়েছে গ্রামের খুবই দরিদ্র পরিবারে, আর তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানান রকম খেলা। সবাই তাকে বহু কিসিমের ভালবাসার কথা শুনায়, কিন্তু প্রকৃত ভালবাসা সে পায় না- সবই ছলনা।
কেউ যদি প্রশ্ন করে, আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা কি? আমার পক্ষ থেকে উত্তর হবে, বিভক্তি আর বিদ্বেষ। অপরকে, অপরের মতামতকে সহ্য করতে না পারার ঘৃণ্য মানসিকতা। আমার মনে হয়, এদেশে দুইটি জিনিসের ব্যবসা খুব ভাল চলে। একটি ধর্ম, আরেকটি আমার দেশের স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার ইতিহাস এবং ধর্ম দুইটিরই স্বচ্ছতা সবসময়ই কামনা করি। তা নাহলে ব্যবসায়ীরা অস্বচ্ছতাকে জিইয়ে রেখে এবং একে পুঁজি করে অনেক কিছূই ঘটিয়ে ফেলতে পারে। স্বাধীনতার এত বছর পরও দ্ব্যর্থহীনভাবে দাবী করি স্বাধীনতা চলাকালীন সময়ে যারা দেশের মানুষকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দিয়েছে, দেশের সম্পদকে অন্যায়ভাবে নষ্ট করেছে তার প্রকৃত পরিচয় উম্মুক্ত হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক এবং এভাবে ব্যবসাপাতি বন্ধ হোক।
দেশের মধ্যে যখন বিভক্তি কাজ করে, তখন সে দেশকে নিয়ে খেলা করা সহজ হয়, ইরাক তার সাক্ষী। আমি একে ভীষণ ভয় করি, দেশের স্বাধীনতা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি।
আসুন, আমরা যে যেই বিশ্বাসকেই লালন করি না কেন পরস্পরকে শ্রদ্ধা করতে শিখি। সুন্দর দেশ গড়ি, আর যাতে ২৮ অক্টোবরের জন্ম হতে না পারে সে ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হই।
ভিডিওটি দেখতে পারেন।বিদ্বেষ ছড়ানো উদ্দেশ্য নয়, দুঃখিত হোন, দেশের প্রতি মমত্ব বোধ জাগিয়ে তুলুন- এটিই উদ্দেশ্য।
কি পরিমাণ বিদ্বেষ থাকলে ২৮ অক্টোবরের জন্ম হতে পারে?
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে ফিরে আসো

সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?
আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন
“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।
দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।
ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন
গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল, মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন
মারণঘাতক অটো রিক্সা

মারণঘাতক অটো রিক্সা এই ভিডিউটি দেখুন। এটি রাজধানী ঢাকা সহ সমগ্র দেশের প্রতিদিনের চিত্র। কি পরিমাণ মানুষ হত্যার সাথে জড়িত এই মারণঘাতক নামক অটো রিক্সা তার সঠিক পরিসংখ্যান জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।