somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই ঈদে অন্তত: একজন দুর্দশাগ্রস্তের কথা শুনুন

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৯:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আর অল্প দিন পরই ঈদ। বিশ্বাসীদের জন্য মহা আনন্দের এক ক্ষণ। তাগিদ থাকে, সকলে ভুলে যাবে পুরাতন দুখের কথা, বিভেদের কথা। তাগিদ থাকে, আগামী একটি বছরের জন্য শুরু থেকে শুরু করার। থাকবে না অন্যায়-জুলুম, বিভেদের দেয়াল হবে চূর্ণ; মানুষ হবে মানুষের বন্ধু-ভাই।

ইসলাম যেমন তাগিদ দেয়, তেমনি বাস্তব কর্মপন্থাও রেখেছে তার সৌন্দর্যে। ইসলাম বলে, তুমি মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি অন্যের জন্যে তাই পছন্দ করবে যা নিজের জন্য করো। ঈদুল ফিতরে ইসলাম ফিতরার ব্যবস্থা রেখেছে। সামর্থবান প্রত্যেককে এই ফিতরা দিতে হয়, সমাজের প্রত্যেকে যাতে স্রষ্টার বরাদ্দকৃত ঈদের এই আনন্দে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে। কিন্তু পেটে ক্ষুধা রেখে, শরীরে ময়লা কাপড় রেখে তাদের খুশীর তাগিদ দেয়া এক ধরনের রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সমাজের বাস্তব চিত্র বড় করুণ। একদিকে বিত্তবানেরা সামগ্রীর দামের প্রতিযোগীতায় বেশী লিপ্ত থাকে, সে উঁচু শ্রেণীতে উঠতে চায়। নিচু শ্রেণী যদি তার নাগালে এসে পড়ে তবে তার দাম থাকে না! অন্যদিকে অভাবীরা কেবল ধনীদের এই আস্ফালন দেখে নিজেদের অভাবকেই বাড়িয়ে নেয়। বড়ই ফালতু জীবন বোধ আমাদেরকে কাবু করে রেখেছে। আমরা ভুলে গিয়েছি জীবনকে প্রকাশই স্বাধীনতা নয়, জীবনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারায় স্বাধীনতা।

ঈদ আমাদের যান্ত্রিকতাকে থামিয়ে দেয়। আমরা সবাইকে নির্মল আনন্দে ভাসিয়ে দিতে চাই। আমাদের অনেকের হয়ত দুর্দশাগ্রস্তের কষ্টকে দুর করার মত সামর্থ নেই, কিন্তু তার কষ্টকে শোনার মত মহানুভবতা কি আমরা দেখাতে পারি না? প্রত্যেকেই যে পরিমন্ডলে ঈদ উদযাপন করবেন খুঁজলেই হয়ত এমন এক দুইজনকে পাবেন। তাদের কথা শোনার মত একটু সময় কি আমরা পেতে পারি? এমনও তো হতে পারে, তার কথা শোনার পর আমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ খরচের তালিকায় তার জন্যও ছোট্ট একটু বরাদ্দ এসে যেতে পারে, আর এভাবে আমি পেতে পারি মহান স্রষ্টাকে খুশী করতে পারার এক অনাবিল আনন্দ।

ধরলাম, আপনার ছোট শিশু অথবা ছোট ভাই বা বোন, ভাতিজা, ভাগ্নে বা এরকম নিকটজনের বন্ধু থাকতে পারে যাকে দেয়ার মত তার বাবা, চাচা, মামা, ভাই নেই। তাহলে প্লিজ, আপনি আপনার ছোট শিশু, ভাই বা বোন, ভাতিজা, ভাগ্নেকে এ কাজে শামিল করুন। তার হাত দিয়ে একজন অভাবীর কষ্টকে দুর করতে সহায়তা করুন। ছোট শিশুটি দেওয়ার মাধ্যমে আনন্দ পাওয়ার এই সুন্দর প্রচেষ্টার সাথে নিজেকে এখনই জড়িয়ে নিক।

ছোটবেলা থেকেই আমাদের শিশুরা এটা জেনে বড় হয়ে উঠুক- আমাদের জীবন স্বার্থপরতার নয়, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোর্টাল – ২ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৭


তখন বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে। সেপ্টেম্বরের রাত।
বরফ পড়া শুরু হয়নি। মন্ট্রিয়লের রাস্তা জনাকীর্ণ। বাড়ি থেকে বের হলে কো-দ্যেনিশ রাস্তার শেষ প্রান্তে একটা লাইব্রেরি আছে। তার পরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×