somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আহা সিগারেট !

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দেশ থেকে আনা এক কার্টুন বেনসন এন্ড হেজেস আজই শেষ হলো। দেশীয় বেনসনলাইটস ছাড়া সিগারেট পান করে কোন তপ্তি পাই না। আগামীদিনগুলি মালবোরো লাইটসের উপর ভর করে চলতে হবে। লন্ডন হলে দেশী বেনসন বাংগালী পাড়ায় খুজে পাওয়া যেত। প্যারিসে তা সম্ভব নয়। তাছাড়া এখানে সিগারেটের দাম অত্যাধিক বেশী। এক প্যাকেট বেনসন বা মালবোরো ৯ ইউরো। বাংলাদেশী টাকায় প্রায় সাড়ে অাটশত টাকা। কি আর করা!
২.


সিগারেট শেষ। ছুটিরদিনের সাত সকালে লা পমিয়ের একটাও তাবাকের দোকান খোলা নাই।
মেজাজ চরম বিলা!
আহা সিগারেট।!
প্রায় সাতশ ফুট ঢালু রাস্তা বেয়ে উপরেরদিকে উঠে দেখি তাবাকের দোকান বন্ধ। এদিক ওদিক তাবাকের দোকান একটাও খোলা নেই। দুই কিলোমিটার হেটে হেটে পোর্তো দো লীলায় এরাবিক মহল্লায় একটা তাবাকের দোকান খোলা পেলাম। বেনসন নাই, শুধুই মালবোরো। তাই সই, সিগারেট বলে কথা।


নয় ইউরো করে ১৮ ইউরো দিয়ে ২ প্যাকেট মালবোরো লাইটস কিনে বাসায় আসতে আসতে ৩টা সিগারেট শেষ। এর মধ্যে আমি ২টা। ১টা সিগারেট চেয়ে নিলো মধ্যবয়স্ক এক আলজেরিয়ান সুন্দরী । ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অনেকবারই আমার কাছে সিগারেট চেয়েছে নারী -পুরুষ অনেকেই। কিন্তু দেশের বাইরে আমি কাউকেই সিগারেট দেই না। কারন আমার সিগারেট দেশ থেকে নিয়ে আসা, বেনসন লাইটস। আজ এই আরব নারী যখন সিগারেট চাইলো তখন না করতে পারিনি। মনে পড়ে গেল কিছুদিন আগে দেশে ফেরার পথে কুয়েত এয়ারপোর্টে আমার সিগারেট শেষ হয়ে গেলে আমি ডিউটি ফ্রি শপ খোঁজ করছিলাম। এসময় কাতার প্রবাসি এক বাংলাদেশী যুবক নিজ থেকেই এগিয়ে এসে তার বেনসন প্যাকেট এগিয়ে দেয়। সেই মুহুর্তে অই প্যাকেটের ১টি সিগারেট আমার কাছে হাতে চাঁদ পাওয়ার মতন ছিলো। একথাটি মনে পড়ে যাওয়ায় এই আরব নারীকে ১টা সিগারেট দিতে কোনো কুন্ঠা বা জড়তা কাজ করেনি।
সিগারেট ধরিয়ে এক গাল ধোয়া ছেড়ে আরব নারী ধন্যবাদ দিয়ে গেলো, মেকছি।

৩.
মার্চ মাসে অামি প‌্যারিস থেকে দেশে ফিরছি ইত্তেহাদ এয়ারলাইনে ।অামার ট্রানজিট অাবুধাবি এয়ারপোর্টে ৬ঘন্টা । স্হানীয় সময় ভোর ৬টায় প্লেন ল্যান্ড করে। প্রায় ৯ঘন্টার জার্নি । ইমিগ্রেশন ও কানেক্টিং ফ্লাইট শিডিউল চেক করে স্টারবাকসে কফি খেয়ে স্মোকিংজোন খুঁজতে গিয়ে চমকে উঠলাম । বিশাল এই এয়ারপোর্টে মাত্র ৩টা স্মোকিংজোন । ৩টাতেই বিশাল লম্বা লাইন ।কোন কোন লাইনে ৮০ থেকে ৯০ জন দাঁড়িয়েছে । সবাই স্মোকিংজোনে ঢুকে ধুমপান করবে। ধুমপানের জন্য বিশাল লাইন অামার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা !


হ্যান্ড ল্যাগেজ নিয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা দুটোর ব্যাথায় কাতর হয়ে পড়েছিলাম। ১ঘন্টা পর যখন স্মোকিংজোনে ঢুকলাম তখন অামার অবস্থা কাহিল। জোনের ভিতর মাত্র ৬জন একসাথে দাঁড়িয়ে ধুমপান করতে পারে। অনেককেই দেখলাম একটা সিগারেট শেষ করে অারেকটা জ্বালাতে। পরপর দুটো সিগারেট শেষ করে বের হচ্ছে । এর কারন বুঝলাম ,দীর্ঘ লাইন পার হয়ে এসে একটা সিগারেট টেনে পোষাচ্ছে না । এদের দেখােদখি অামিও দুটো সিগারেট টেনে বের হই ।
অাবুধাবি এয়ারপোর্টে লাইন দিয়ে সিগারেটপান করার চরম অভিজ্ঞতা অামার সারাজীবন মনে থাকবে ।

সিগারেট নিয়ে ভ্রমনের সময় অসংখ্য গল্প অাছে।সব একদিনে বলে শেষ করা যাবে না।গত কিছুদিন অাগে দেশর একটি ঘটনা দয়ে লেখাটি শেষ করছি।
৪.


সাধারনত আমি বাসায় লুকিয়েও সিগারেট খাই না। ফলে রাতে বাসায় ফেরার আগেই বাইরে সর্বশেষ সিগারেট খেয়ে আসি।কিন্তু আজ অনেক রাত জেগে একটা বইয়ের খসড়া করতে হবে। কাজ করতে করতে রাত ১২টার পরেই হঠাত মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো সিগারেটের জন্য। বাসার সবাই মোটামুটি ঘুমিয়ে পড়েছে। সন্তর্পনে পা টিপে টিপে বাসার বাইরে এসে বাহির থেকে লক করে সিগারেটের খোঁজে মহল্লার মোড়ে এসে দেখি সব দোকান বন্ধ। রাত সোয়া একটা বাজে। কি আর করা!
এক সিগারেটের জন্য আপডাউন ৩০ টাকা রিক্সা ভাড়ায় চাষাড়া থেকে ৫ সিগারেট কেনা হলো।
৫.
রাত এখন দুইটা।
চা ও সিগারেটের জন্য ধোপাপট্টি মোড়ের দোকানে। রাত জেগে কাজ করা শ্রমজীবি কিছু মানুষ ছাড়া এখানে কেউ নেই। পরিশ্রান্ত এ মানুষগুলি কি পরিতৃপ্তি সহকারে চা, বিড়ি খাচ্ছে, দেখে কেউ বলবে না এরা মাত্রই গার্মেন্টসের শিপমেন্টের কার্টুন কাভারভ্যান বোঝাই করে এসেছে।


এদের একপাশে বসে চা, সিগারেট খেতে খেতে শুনলাম বন্যা নিয়ে তাদের দু:শ্চিন্তার কথা।শিপমেন্ট হলেই ভোরে বাড়ি যাবে। জমানো টাকা আর সুদে নেয়া টাকা সম্বল করে বাড়ি যাবার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের কথায় বারবার উঠে আসে সুদের টাকা কিভাবে যে শোধ হবে, ছেলে মেয়ে, সংসার নিয়ে কিভাবে আগামীদিনগুলি কাটবে সেই দু:শ্চিন্তা। তবে এই মুহুর্তে পানি নেমে গেলেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িঘর মেরামত করাই তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৫২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×