somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নৈতিকতা ও অামরা

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
গ্লামার্ জগতের মানুষের কমিটমেন্ট নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন । অনেকে অভিযোগ করেন,'' অমুক শিল্পী দেরী করে সেটে অাসায় অামি ফেঁসে গেছি । অার্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি ।''
দু'চারটি ঘটনা যে ঘটেনি বা ঘটে না তা নয় । এজন্য সব শিল্পী,কলাকুশলীকে ঢালাও দায়ী করা সমচীন হবে না।যারা অভিযোগ করেন তারা একবার ভেবে দেখুন , শ্যুটিং চলাকালে কোন শিল্পী তাঁর অসুস্থ মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়েও তাকে কান্নাচেপে দৃশ্যটা শেষ করতে হয় । শুধুমাত্র প্রযোজকের অার্থিক ক্ষতি এবং পরিচালকের ফেঁসে যাবার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য । অথচ এই শিল্পীর প্রাপ‌্য সম্মানীটুকু দিতে পরিচালক বা প্রযোজক ভুলে যান । দিনের পর দিন দিচ্ছি ,দিবো করেন।
কি অদ্ভুত অামাদের মানসিকতা!
২.
আমার একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতার কথা বলি।
২০০৮ সাল । অাগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় ।
একজন বিখ্যাত নাট্যকার, অধ্যাপক বারডেম হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায়। ৪দিন যাবৎ ক্লিনিক্যাল ডেথ। কেন যেন তাঁর মৃত্যু সংবাদ ঘোষনা করতে দেরি হচ্ছে ! গণমাধ্যমে প্রতিদিন তার সর্বশেষ শাররীক অবস্থার বিবরন দিয়ে নিউজ হচ্ছে । তাঁর অানুস্টানিক মৃত্যুর দুইদিন আগে আমার স্টেশনের বস ডেকে বললেন,' রনি আপনি তার মরার ঘোষনার আগেই শ্রদ্ধাঞ্জলি নাম দিয়ে এক্ষুনি একটা প্রোগ্রাম বানান। যখন তাকে মৃত ডিক্লিয়ার করা হবে, সাথে সাথে মরার তারিখ বসিয়ে আমরা সব চ্যানেলের আগে তার উপর নির্মিত প্রোগ্রাম অন এয়ার করবো। "
একজন মানুষ তখনো মারা যায়নি , বাঁচবে কি না বলাও যায় না, অথচ কে কার আগে অনুস্টান দেখাবে তার প্রতিযোগিতাও আমরা করি !
হায় কি অদ্ভুত আমাদের মিডিয়ার মানসিকতা!
৩.
এবারের ঈদে সদরঘাটের একটি ঘটনা ।
বাড়িফেরা মানুষের ভীড়ে টার্মিনালে তিলধারনের ঠাঁই নেই।লন্চে উঠা নিয়ে প্রতিযোগীতায় কোন এক অসর্তক মুর্হুতে মায়ের হাত ফঁসকে এক শিশু বুড়িগঙ্গায় পড়ে যায়। ঠিক এইরকম সময় কোন এক চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান ও রিপোর্টার সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন । অামরা টেলিভিশনের পর্দায় দেখলাম , বাচ্চাটি কিভাবে পানিতে পড়লো এবং পানিতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। শতশত মানুষ দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য উপভোগ করছে! কারো মাঝে লক্ষ্য করা গেল না বাচ্চাটিকে উদ্ধারের কোন প্রচেস্টা !
কি অদ্ভুত অমানবিক দৃশ্য অামাদের টিভি কতৃর্কপক্ষ প্রচার করে টিঅারপির শীর্ষে অবস্থান নিতে চান!
শেষ পর্যন্ত বাচ্চাটিকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সদরঘাটের কুলি ।
প্রশ্ন হচ্ছে , ক্যামেরাম্যান বা সংবাদকর্মীর কি সেই মুর্হুতে নিউজ সংগ্রহ করা দায়িত্ব ছিল ? নাকি মানবিক কারনে বাচ্চাটিকে উদ্ধার প্রক্রিয়া অংশ নেয়া বা সহায়তা করা?
৪.
২০০৯ সালের কোন একদিনের ঘটনা ।
দুপুর ১২টায় অামার লাইভ অনুস্টান 'একুশে দুপুর' মাত্রই শুরু হয়েছে ।অামি ও সুমনা অাপা পিসিঅারে বসা । স্টুডিওতে অামাদের সাথে সহকারী হিসেবে ছিল অমি ভাই এবং সুধীর দা । হঠাৎ এ সময় অমিভাইয়ের মোবাইলে ফোন অাসে, তাঁর মা স্ট্রোক করেছেন । মা অন্তপ্রান অমিভাইয়ের বাড়ি রাজবাড়ি সদরে। সেখানে তাঁর মা ও এক ছোটভাই থাকেন।এ খবর পেয়ে অমিভাই বুঝতে পারছিলেন না তিনি অনুস্টান রেখে স্টুডিও ছেড়ে যাবেন কিনা ! সুধীরদা'র কাছে শোনামাত্রই চেয়ার ছেড়ে অামি অমিভাইয়ের কাছে যাই । তাঁর দু'চোখ ছলছল করছে ,কথা বলতে পারছেন না ।সুমনা অাপা বললেন, রনিভাই অামি অাছি , অাপনি ওকে বাড়ি যাবার ব্যবস্থা করেন।
অামি অমিকে নিয়ে দ্রুত সাততলায় একাউন্টসের সিনহা সাহেবের কাছে যাই।রিকোয়েস্ট করি, অমির বেতন থেকে কিছু টাকা াগ্রীম যেন দেয় ।
মুখের উপর সিনহা সাহেব না করেন ,টাকা দেয়া যাবে না ।বেতন হলে পাবেন।
মেজাজটা যতদুর সম্ভব ঠান্ডা রেখে ঘৃনায় অামাদের ফ্লোরে চলে অাসি । দ্রুত অামার ড্রয়ার থেকে চেক বই বের করে দশহাজার টাকার একটা চেক কেটে অমির হাতে দিয়ে বলি, এই টাকা তুলে এক্ষুনি বাড়ি যান । যদি কিছু প্রয়োজন পড়ে অামাদের জানাবেন কিন্তু অফিসকে না।
এধরনের অারো বেশ ক'টি ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী ছিলাম বলেই প্রতিস্টানকে নয়, তাই নিজের কাজটাই ভালবাসি ।
যে অফিসের জন্য কর্মীরা জান দিয়ে কাজ করেন ,সেই অফিস যদি কর্মীবান্ধব না হয়, অফিস থেকে কর্মীর বিপদে সাহায্য বা সহযোগিতা পাওয়া না যায় , সেই প্রতিস্টানের প্রতি কর্মীর দরদ কতটুকু থাকবে ?





সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×