somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হোক

১৪ ই মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আসামীকে জিগাসাবাদের নামে নিরাপত্তা হেফাজতে পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতন ও জেলখানায় সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো গত ১২মার্চ ,সোমবার। নিহত ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন সুমনের পরিবারের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।রিমান্ডের নামে ৩ দিন পুলিশ জাকিরকে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। রিমান্ড শেষে অসুস্থ জাকিরকে কোর্ট হতে জেলখানায় পাঠানোর একদিনের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
আইন শালিশ কেন্দ্রের হিসেব অনুযায়ী ২০১৪ সাল হতে ২০১৭ পর্যন্ত ৪ বছরে ২৬০জন নিরাপত্তা হেফাজতে মারা গেছে্ন।২০১৬ সালে মারা গেছেন ৭৮ জন। এ পরিসংখ্যান জনমনে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা সৃষ্টি করায় যথেস্ট!
অথচ এ সরকারের পূর্ববর্তী আমলে নবম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাস হয় " আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু ( নিবারন) বিল ২০১৩ ।এতে সুস্পস্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ' সরকারের হেফাজতে থাকাবস্থায় কারো ওপর নির্যাতন চালানো অপরাধ। এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির বিধানও করা হয়।
২০১৬ সালে সুপ্রীমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক রায়ের পূর্ণ ভাষ্যের বিষয় ছিলো ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারার বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপীল খারিজ ।এরমধ্যে ১৬৪ ধারার বিষয়ে সুস্পস্টভাবে বলা হয়েছিল যে, সরকারের হেফাজতে থাকাবস্থায় কারো ওপর নির্যাতন করা যাবে না।'৫৪ ধারার বিষয়েও উল্লেখ করা হয়,পরিচয় না দিয়ে কাউকে আটক করা যাবে না। এ ধারাতো এখন প্রতিনিয়ত লংঘিত হচ্ছে।সর্বশেষ ঘটনা গত ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির মানববন্ধন শেষে জাতীয়তাবাদী সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে সাদাপোষাকধারীরা পরিচয় না দিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে আটক করে ।যা ৫৪ ধারার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশেরই লংঘন। বিগত সময়ে এই সাদাপোষাকধারীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মীদের তুলে এনে প্রথমে অস্বীকার এবং ১/২ মাস পর কোর্টে চালান করছেন কোন না কোন মামলার আসামী বানিয়ে । কি অদ্ভুত তাদের এই দ্বিচারিতা !আইনের মানুষ যদি কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ,তবে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক তাদের এ ধৃষ্টতার উৎস কি?
মনে পড়ে ১৯৯৮ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রুবেল হত্যাকান্ডের কথা। নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতনকারী এসি আকরামের বর্বরতার কথা মানুষ ভুলে যায়নি। রুবেল হত্যাকান্ডের পর ফুঁসে উঠেছিল মানবাধিকার সংগঠনগুলো।সে বছর ২৯ নভেম্বর হাইকোর্ট কাউকে সন্দেহবশতঃ আটক,গ্রেফতার ও তদন্তের নামে রিমান্ডে এনে আসামিকে শাররীক নির্যাতন করা থেকে নিবৃত্ত করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না-এ মর্মে সরকারের ওপর রুল জারি করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা হেফাজতে নিপীড়ন অনেকাংশ কমেছিল।কিন্তু বিগত বছরগুলোতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় সদস্যের বেপোরোয়া আচরন সরকারকেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তাদের আইন না মানার এ বোপোরোয়া আচরনে নিরাপত্তা হেফাজতে নিপীড়ন বেড়েছে,বেড়েছে মৃত্যুর মিছিলও।
আজকে সরকার ও তার সমর্থকদের কাছে বিরোধীদলের কর্মীদের নিরাপত্তা হেফাজতে জিগাসাবাদের নামে নিপীড়ন স্বাভাবিক মনে হচ্ছে ।কিন্তু এমন একদিন হয়তো আসবে ক্ষমতার বাহিরে থাকাবস্থায় তা তখন অস্বাভাবিক মনে হবে। তাই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বেপোরোয়া আচরনকে সংযত করা সবার জন্য স্বস্তিকর এবং আইন মেনে চলা এবং বাধ্যবাধকতায় পরিনত করা জরুরী।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ কোরিয়ার 'নতুন গ্রাম আন্দোলন'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:২৭



বাংলাদেশের উন্নতি হতে হলে, গ্রামগুলোর উন্নয়ন ছাড়া উপায় নাই। গত ৫৬ বছরে আমাদের দেশের গ্রামবাসীদের উন্নয়ন খুবই কম হয়েছে। সেখানকার মানুষ অবহেলার সম্মুখীন হয়ে নিম্ন সেলারির জব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কল্প-গল্প : প্রমিথিউসের শেষ রাত

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১১



“স্যার, কিছু কয়েন দেন!” মোলায়েম স্বরে বলেই হাত কচলায়।

কয়েনটি যিনি চাইলেন, তিনি একজন ভিক্ষুক। ব্যস্ত শহরের এই চৌরাস্তায় বসে নিয়মিত কয়েন আবদার করাই তার একমাত্র কাজ। মালদার পার্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×