
কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর হামলার প্রতিবাদে অভিভাবকদের ডাকা সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। এসময় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও মানবাধিকার কর্মী রেহনুমা আহমেদ এবং সাবেক ছাত্রনেতা বাকি বিল্লাহকে আটক করে নিয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ফাহমিদুল হক আটককৃতদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে পুলিশি লাঞ্ছনার শিকার হন , পুলিশ তার গায়েও হাত তুলেছে ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সাথে পুলিশের এ কোন ধরনের আচরন? ছাত্র নির্যাতনের কি কোন প্রতিবাদ করা যাবে না? সরকার নিজেকে গনতান্ত্রিক বলবেন আবার ভিন্নমত প্রকাশ করলে বাঁধা দিবেন , এ কেমন গনতন্ত্র?
কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করা কি অপরাধ? প্রকাশ্যে দিবালোকে যারা ছাত্র পেটায় , মানুষ মারে অামাদের পুলিশ কি তাদের দেখে না?
নাকি তাদের চোখ অন্ধ ?

উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের মতন আমরাও উদ্বিগ্ন। আমাদের সন্তানরা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিরাপদ নয়। আমরা চাই আমাদের সন্তানদের ওপর সরকার ও রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে, নির্দেশে বা অনুমোদনে যে হামলা ও নির্যাতন পরিচালিত হচ্ছে সে বিষয়ে অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক। যাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে ও গ্রেফতার করা হয়েছে সেসব মামলা প্রত্যাহার করে তাদের শীঘ্রই মুক্তি দেওয়া হোক। যাদেরকে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং যারা নিখোঁজ তাদেরকে অবিলম্বে অভিভাবকদের কাছে ফেরত দেওয়া হোক। আহতদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক এবং হল ক্যাম্পাসে যে দলীয় সন্ত্রাস ও ভীতির রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে তার চিরতরে অবসান ঘটানো হোক।
গণবিরোধী শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশকে পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে! তবুও, সংঘটিত হচ্ছে প্রতিবাদ! চলছে প্রতিরোধের প্রস্তুতি!একদিন এদের পতন হবেই জনতার উত্থানে।
এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




