নৈতিকতা মূল্যবোধের স্তর ক্রমশ নীচে নামছে কেন এ প্রশ্নটির উত্তর হয়তোবা কোনদিনও খুজতাম না যদি আজকের সকালটা একটু ভিন্নতর হত। বাইরে হালকা বৃষ্টির রিনিঝিনি, হোটেলের আলো আধারিতে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিতেই দুজন শিক্ষকের কথোপকথন কানে এলো। দেশে জরুরী অবস্থার জন্যে নটা-পাচটা স্কুলে থাকতে হবে এ নিয়ে কথা বলছিলেন। ওনাদের কথা বলার ধরন দেখে আমি আমার নিজ কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ওনারা বলার চেষ্টা করছিলেন এটি একটি গুরুতর অন্যায় তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। আমি নিজেও ছাত্র ছিলাম তাই একজন শিক্ষকের প্রতি সামান্যতম অসম্মান না করেও বুকের ভেতর কেমন যেন এক ধরনের অস্বস্তি অনুভব করছিলাম। যে শিক্ষক নিজেই নৈতিকতার প্রতি এতটা অবজ্ঞাবান তিনি একজন শিক্ষার্থীকে নৈতিকতা, মূল্যবোধ জীবনবোধ আর কতটুকুই বা শেখাবেন। আমি স্বীকার করছি না সকল শিক্ষকই এই শ্রেণীর, তবে এর বাইরে কতজন আর সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় তাদের অংশীদারিত্বই বা কতটুকু?
আমরা আমাদের সমগ্র জীবনব্যাপি যাদের কাছ থেকে শিক্ষালাভ করি তার একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বাবা মা-পরিবার, পারিপার্শ্বিকতা, শিক্ষক এবং রাজনীতি বা রাজনৈতিক নেতা। অন্যদের বিষয় না হয় আর একদিন আজ শিক্ষকদের বিষয়ে আরেকটু আলোকপাত করা যাক।
আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাটাকে এমনভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্থ করে দেয়া হয়েছে যে আজ সব চাইতে গুরুত্বপূর্ন এই বিভাগটিতে মেধাবী মননশীল মানুষেরা আসতে চান না। হাতে গোনা দু’ দশটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অবশিষ্ট সবগুলোতেই চাকুরী পাবার প্রথম শর্ত-মেধা নয় ‘ডোনেশন’। আমার এক বন্ধু বেসরকারী একটি কলেজের শিক্ষকতা করতেন। তিন বছরের মাথায় অন্য কোন চাকুরী জোগাড় না করেই কলেজের চাকুরীটা ছেড়ে দিলেন। আমি তো হতবাক। ‘কীরে অন্য কোন কাজ জোগার না করেই চাকুরীটা ছেড়ে দিলি?’ শোকাহত মানুষের মত কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, ‘জানিস রাস্তায় বরুলেই আমার মাথা নীচু হয়ে আসে, সবসময় মনে হয় রাস্তার পাশে যে লোকটি দাড়িয়ে বা বসে আছে সে হয়তো ভাবছে এ লোকটি কিছু টাকা দিয়ে একটা চাকুরী কিনে নিয়েছে। এ লজ্জা ঢাকতেই চাকুরীটা ছাড়লাম।’ যদিও আমি জানি আমার এই বন্ধুটি কোন ‘ডোনেশন’ ছাড়াই চাকুরীতে ঢুকেছিল। আমার বন্ধুর এই আত্মদংশন বোধকরি নিরানব্বই ভাগ শিক্ষকের আত্মদহনেরই একটি অংশ। নৈতিকতা পরিপন্থি এই আত্মদহন বুকে নিয়ে আর যাই করা যাক কাউকে নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া যায় কী?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



