somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপমৃত্যুর পথে উত্তরের আতিথেয়তা

২৫ শে জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“কদ্দিন পর আইসলেন(এলেন) বাহে, এক ফাক(টুকরো) গুয়া(সুপারী) খেয়া(খেয়ে) না গেইলে বাড়ীর অমঙ্গল হইবে।‍‍‍”-এই বছর পাচেক আগেও উত্তরাঞ্চলের যে কোন বাড়ীতে গেলেই কিছু মুখে না দিয়ে ফিরতে চাইলে গৃহকর্তা আগত অতিথিকে এভাবেই ঐ বাড়ী থেকে কিছু খেয়ে যাবার ব্যকুল অনুরোধ করতেন। কোনভাবেই কোন গৃহকর্তা আগত অতিথিকে বাড়ী থেকে খালিমুখে ফিরতে দিতেন না। বলা যায় এই নির্মল আতিথেয়তা উত্তরাঞ্চলের সংস্কৃতির একটি অংশই হয়ে ছিল এতদিন। যা আজ অতীতের গল্প।
আমার জন্ম, শৈশব আর কৈশোর কেটেছে উত্তরাঞ্চলের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। তখন এখানে বিজলী বাতি ছিল না, পাকা রাস্তা ছিলনা, ছিলনা প্রযুক্তির এই বানিজ্যিক ছোয়া। তবে মানুষের হৃদয়গুলো ভালবাসায় ভরা ছিল আর ছিল মমত্ববোধ। জ্ঞান হবার পরই দেখেছি সেই কাকডাকা ভোরে মা সব কিছু বাদ দিয়ে একটা ব-ড় কেটলিতে চা বানাচ্ছেন। গ্রামে ভোর হয় অনেক সকালে। আর ভোর মানেই বি বি সির সংবাদ। গোটা গ্রামে ঐ আমাদের একটাই মাত্র রেডিও। বলা চলে গ্রামের সকল মানুষই চলে আসতেন বি বি সি শোনার নেশায়। এতে এক তীরে দুই পাখি মারার মত সকালের হাটাও হত আর উপরি পাওনা হিসেবে থাকতো আমার মায়ের হাতে বানানো ‘বিশ্ববিখ্যাত’ গরম চা। এক লাইনে বসে ১০/১৫জন মানুষ গরম চায়ে চুমুক দিচ্ছেন আর মনোযোগ দিয়ে বিবিসি শুনছেন এই দৃশ্যটি ছিল আমার শৈশবে ঘুম ভেংগে দেখা নিয়মিত একটি দৃশ্য।
শুধু আমাদের বাড়ীতেই নয় গোটা উত্তরাঞ্চলের যে কোন বাড়ীতেই দুপুরে বা রাতে নির্দিষ্ট পরিমান ভাত রান্না করা হত না। বাড়ীর জনসংখ্যার চেয়ে কম করে হলেও অতিরিক্ত পাচ ছ’জনের রান্না হত। দুপুরে বা রাতে খবার সময় যেই আসুক না কেন অবশ্যম্ভাবীরুপে তাকে খেয়ে যেতে হত। আর ভোর থেকে রাত দশটা অব্দি চায়ের কেটলি চুলোতেই থাকতো কখন কে আসবে এই অপেক্ষায়।
এখন সময় পাল্টে গেছে। এখন আর এখানকার কোন বাড়ীতেই চায়ের কেটলি চুলোয় থাকে না, কোন অতিথি এলে তাকে খুব আন্তরিকভাবে এক টুকরো সুপারী মুখে দিয়ে যাবার অনুরোধ করা হয় না। সম্ভবত এ অবস্থা শুরু হয়েছে যখন আমাদের এখানকার সবচাইতে বড় কাচা সড়কটি পাকা হয়েছে। পশ্চাদপদ উত্তরাঞ্চলের সাথে অপেক্ষাকৃত তথাকথিত উন্নত এলাকাগুলোর সাথে বেড়েছে যোগাযোগ। তাদের আর আমাদের সংস্কৃতি মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। আমরা পেয়েছি অনেক। আমাদের কাজের পরিধি বেড়েছে অনেক। এখন আর আমাদের মংগাপিড়ীত মানুষরা না খেয়ে মরে না। আমরা এখন ঘরে বসে স্যাটেলাইট চ্যানেলে ঝাকানাকা গান দেখি। এত কিছুর সাথে আর এটা বড় জিনিষ আমরা পেয়েছি। হৃদয়ভরা ভালোবাসাকে দুরে সরিয়ে আমরা পেয়েছি একটি ‘বানিজ্যিক’ হৃদয়। যে হৃদয় সব সময় লাভ খোজে, ভালবাসা খোজে না, খোজে না আন্তরিকতা, মমত্ত্ববোধ।


“কদ্দিন পর আইসলেন(এলেন) বাহে এক ফাক(টুকরো) গুয়া(সুপারী) খেয়া(খেয়ে) না গেইলে বাড়ীর অমঙ্গল হইবে।‍‍‍”-এই বছর পাচেক আগেও উত্তরাঞ্চলের যে কোন বাড়ীতে গেলেই কিছু মুখে না দিয়ে ফিরতে চাইলে গৃহকর্তা আগত অতিথিকে এভাবেই ঐ বাড়ী থেকে কিছু খেয়ে যাবার ব্যকুল অনুরোধ করতেন। কোনভাবেই কোন গৃহকর্তা আগত অতিথিকে বাড়ী থেকে খালিমুখে ফিরতে দিতেন না। বলা যায় এই নির্মল আতিথেয়তা উত্তরাঞ্চলের সংস্কৃতির একটি অংশই হয়ে ছিল এতদিন। যা আজ অতীতের গল্প।
আমার জন্ম, শৈশব আর কৈশোর কেটেছে উত্তরাঞ্চলের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। তখন এখানে বিজলী বাতি ছিল না, পাকা রাস্তা ছিলনা, ছিলনা প্রযুক্তির এই বানিজ্যিক ছোয়া। তবে মানুষের হৃদয়গুলো ভালবাসায় ভরা ছিল আর ছিল মমত্ববোধ। জ্ঞান হবার পরই দেখেছি সেই কাকডাকা ভোরে মা সব কিছু বাদ দিয়ে একটা ব-ড় কেটলিতে চা বানাচ্ছেন। গ্রামে ভোর হয় অনেক সকালে। আর ভোর মানেই বি বি সির সংবাদ। গোটা গ্রামে ঐ আমাদের একটাই মাত্র রেডিও। বলা চলে গ্রামের সকল মানুষই চলে আসতেন বি বি সি শোনার নেশায়। এতে এক তীরে দুই পাখি মারার মত সকালের হাটাও হত আর উপরি পাওনা হিসেবে থাকতো আমার মায়ের হাতে বানানো ‘বিশ্ববিখ্যাত’ গরম চা। এক লাইনে বসে ১০/১৫জন মানুষ গরম চায়ে চুমুক দিচ্ছেন আর মনোযোগ দিয়ে বিবিসি শুনছেন এই দৃশ্যটি ছিল আমার শৈশবে ঘুম ভেংগে দেখা নিয়মিত একটি দৃশ্য।
শুধু আমাদের বাড়ীতেই নয় গোটা উত্তরাঞ্চলের যে কোন বাড়ীতেই দুপুরে বা রাতে নির্দিষ্ট পরিমান ভাত রান্না করা হত না। বাড়ীর জনসংখ্যার চেয়ে কম করে হলেও অতিরিক্ত পাচ ছ’জনের রান্না হত। দুপুরে বা রাতে খবার সময় যেই আসুক না কেন অবশ্যম্ভাবীরুপে তাকে খেয়ে যেতে হত। আর ভোর থেকে রাত দশটা অব্দি চায়ের কেটলি চুলোতেই থাকতো কখন কে আসবে এই অপেক্ষায়।
এখন সময় পাল্টে গেছে। এখন আর এখানকার কোন বাড়ীতেই চায়ের কেটলি চুলোয় থাকে না, কোন অতিথি এলে তাকে খুব আন্তরিকভাবে এক টুকরো সুপারী মুখে দিয়ে যাবার অনুরোধ করা হয় না। সম্ভবত এ অবস্থা শুরু হয়েছে যখন আমাদের এখানকার সবচাইতে বড় কাচা সড়কটি পাকা হয়েছে। পশ্চাদপদ উত্তরাঞ্চলের সাথে অপেক্ষাকৃত তথাকথিত উন্নত এলাকাগুলোর সাথে বেড়েছে যোগাযোগ। তাদের আর আমাদের সংস্কৃতি মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। আমরা পেয়েছি অনেক। আমাদের কাজের পরিধি বেড়েছে অনেক। এখন আর আমাদের মংগাপিড়ীত মানুষরা না খেয়ে মরে না। আমরা এখন ঘরে বসে স্যাটেলাইট চ্যানেলে ঝাকানাকা গান দেখি। এত কিছুর সাথে আর এটা বড় জিনিষ আমরা পেয়েছি। হৃদয়ভরা ভালোবাসাকে দুরে সরিয়ে আমরা পেয়েছি একটি ‘বানিজ্যিক’ হৃদয়। যে হৃদয় সব সময় লাভ খোজে, ভালবাসা খোজে না, খোজে না আন্তরিকতা, মমত্ত্ববোধ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসলমানের সন্তানের নাম জিকো কীভাবে হতে পারে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৫


ছোটো মামার মুখে একটা নাম প্রায়ই শুনতাম, জিকো। তখন বুঝতাম না এটা কে, শুধু জানতাম এই মানুষটা নাকি ফুটবল মাঠে জাদু দেখাতেন। পরে জেনেছি তার আসল নাম আর্থার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×