somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষক রাস্তায় !! শিক্ষকের সাহায্যে এগিয়ে আসুন !

০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখন যে লিখছি , এটা কোন না কোন শিক্ষকের অবদান । যারা লেখাটা পরছেন , এটাও কোন না কোন শিক্ষকের অবদান । আমরা যারা শিক্ষিত ( খাতা কলমে ) তারা সবাই একথা স্বীকার করবেন । শিক্ষকরা আমাদের মনে অনেক সম্মানের একটা যায়গায় বসবাস করে । তাদের দেখলেই মনের ভিতর থেকে একটা শ্রদ্ধা বোধ কাজ করে । অনেক সময় ছোট বেলার অনেক শিক্ষককে দেখলেই নিজেকে কেমন জানি ছোটবাচ্চা ছোটবাচ্চা মনে হয় । মনে পরে যায় ছোট বেলায় স্যারের হাতে মার খাওয়ার দৃশ্য । আরো ভালো লাগে যখন ঐ স্যার নাম ধরে ডেকে জিজ্ঞাস করে “ কেমন আছিস , কি পড়ছিস ?” তার উপর শ্রদ্ধা যেন কয়েক গুন বেড়ে যায় ।

শিক্ষকতা পেশাটা খুব সাধারন একটা পেশা ?
আর্থিক দিক থেকে দেখলে খুব সাধারন । কিন্তু এই পেশা কতটা সম্মানের সেটা শুধু একজন শিক্ষকই ভালো জানেন । তিনি যখন রাস্তায় বের হন , ছাত্ররা সাইকেল থেকে নেমে , পিছনে হাত গুটিয়ে নিয়ে , কাচুমাচু মুখ করে সালাম দেয়ার দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় । সালাম দেয়ার আগেই শিক্ষক যা পাওয়ার পেয়ে যায় । শুধুই যে ছাত্ররা সম্মান করে তা না , জ্ঞানী-গুনী , সাধারন লোক , দোকানদার , রিক্সাওয়ালা- ভ্যানওয়ালা সবাই । এই সম্মান পাওয়ার লোভেই হয়তো টাকা-পয়সার দিকে তাকায় না । কিন্তু তারাও তো মানুষ, তাদেরও টাকা দরকার হয় ।

প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে আসছিলাম গত রাতে। প্রায় সারে এগারোটা। কি যেন অনশন চলছে। কম্বল গায়ে ফুটপাতে শুয়ে আছে অনেক লোক । প্রেসক্লাবের জন্য এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা ।আমি নিয়মিত দেখি , আমার কাছেও স্বাভাবিক । চমকে গেলাম ব্যানার টা দেখে। এখানে যারা আছে সবাই শিক্ষক। খুব অবাক হলাম, শিক্ষকরা কেন আমরণ অনশনে ? পরদিন একবার গেলাম সেখানে ।
একজন ভদ্রলোককে জিজ্ঞাস করলাম , আপনারা এখানে কেন ?
তিনি আমাকে প্রথমেই জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কোন সাংবাদিক কি না ?
- না ,আমি কোন সাংবাদিক না । এমনি জিজ্ঞেস করছি । আপনাদের দাবিটা কি ?
- আমাদের ন্যায্য টাকা পাওয়ার দাবি ।
- একটু বুঝিয়ে বলবেন ?
- আমাদের চাকরি MPO না করে যাবো না ।
- MPO জিনিসটা কি ?
- Monthly Payment Order , আমরা ১৩-১৪ বছর ধরে চাকরি করি কিন্তু কোন বেতন পাই না । যাকে বলে বিনাশ্রমে কাজ করা । প্রতিমাসে সময় মত টাকা পাওয়ার আন্দোলন।
শুনে আমি কিছুটা অবাক হলাম , তাকে আবার প্রশ্ন করলাম – আপনারা নিয়োগ পেয়েছেন কোথা থেকে ?
- যেভাবে সরকারি নিয়োগ হয়, সেভাবে।
আমি চুপ করে আছি দেখে উনি কিচ্ছুক্ষণ কথা বললেন – এখানে যাদের দেখছেন সবাই শিক্ষক , সবাই মাস্টার্স পাশ । অনেক আগে থেকে চাকরি করছে । কিন্তু কোন বেতন পায় না । তাদেরও তো সংসার আছে ।
আমি জিজ্ঞেস করতে যাবো আপনাদের চলে কিভাবে ? সেই সুযোগ না দিয়েই একটু নিশ্বাস নিয়েই আবার বলা শুরু করলেন , এখানে যারা আছে সবাই পারিবারিক আয়ের উপর নির্ভরশীল । অনেকে ধার দেনায় জর্জরিত। শিক্ষক হয়েও অনেক অপমান সহ্য করতে হয় , ধার-দেনা করে... । আমাদের ছাত্ররা পাশ করে তারা চাকরি করছে , বেতন পাচ্ছে । আমরা বেতন পাইনা । দেখা হলে অনেক ছাত্র জিজ্ঞেসা করে , “ আপনাদের বেতন হইছে স্যার ?” শিক্ষকতা করা অনেক সময় মূল্যহীন মনে হয় । অন্য যায়গায় চাররির জন্য অবেদন করতে চাই। পারিনা , যে ছাত্রগুলো ভর্তি করাইছি , তারা আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে ।

( আবার দম নিয়ে )
ছেলে মেয়েরা বায়না করে এটাসেটা কিনতে চায়। বলি , কিনে দিবো। স্ত্রী জিজ্ঞেস করে বেতন পাবা কবে ? সবাই তো মাস শেষে বেতন নিয়ে বাড়ী আসে । চুপ করে থাকি , আমি তো নিজেই জানি না । এর আগে আরো একবার এই আন্দোলন হইছিলো । সম্ভবত ১৩ সালের দিকে , শিক্ষামন্ত্রী সাহেব ( নুরুল ইসলাম নাহিদ ) বলেছিলেন উনি দেখবেন। দেখেন নি । আমরা কোথায় যাবো । আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাই ।

গত ২৬ তারিখ( ২৬-১০-১৫) থেকে সারা দেশে থেকে আসা নন এম-পি-ও শিক্ষকরা এখানে অনশন করছি , নাওয়া-খাওয়া ত্যাগ করে আজকে নিয়ে ৭ দিন আমরা এখানে অবস্থান করছি, কোন ফলাফল নেই । আমাদের দাবীটা কি খুবই অন্যায় ? আমাদের ন্যায্য দাবী আদায় করতে এসে যদি আমাদের জীবন যায় , যাক । আমরা আমাদের দাবী বাস্তবায়ন না করে ঘরে ফিরে যাবো না । ঘরে ফিরে কি উত্তর দেবো ?

কথা গুলো বলার সময় ওনার চোখ ভিজে আসছিলো, আমি কোন কথা বলতে পারছিলাম না । উনি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে কিছুটা করূন চোখে তাকিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি আমাদের জন্য কিছু করতে পারেন না ? আমি কি উত্তর দিবো বুঝতে পারছিলাম না , ওনাকে
কিছুটা সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, আমি যতদুর পারি অনলাইনে আপনাদের কথা শেয়ার করে দিতে পারি ।
আমি নিজে একজন শিক্ষকের সন্তান । কেমন জানি একটা পিছুটান অনুভব করলাম , তাদের জন্য । তিনি আমাকে যতগুলো কথা বলেছিলেন সবকিছু আমি গুছিয়ে লিখতে পারলাম না । খুব দ্রুত লিখে শেয়ার করে দিলাম আপনাদের মাঝে। আমি মনে করি আমার একার শক্তির চেয়ে সবার শক্তি অনেক বেশী । তাই আপনাদের হাতে দিয়ে দিলাম ।
কথা গুলো বলছিলেন , মতিউর রহমান। লালপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ, নাটোর রাজশাহীর একজন সম্মানিত শিক্ষক ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:১৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ফোনে কয়টি গান সেভ করা আছে? #:-S

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×