somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পহেলা বৈশাখের তীব্র ঝাপটা, একটি অভিনব অথচ যৌক্তিক প্রস্তাব!

১৮ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বৈশাখি উৎসবের আয়োজনে এবারে বস্ত্রহরণসহ যৌন-নিপীড়নের যে ঘটনা ঘটে গেল, তাকে নিন্দা জানানোর কোনো ইচ্ছে নেই, রুচিও নেই। শুধু একটি প্রস্তাব রেখে যাবো। দেশের রাজধানী এই ঢাকায়, সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের পদপ্রান্তে, ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার চোখের সামনে, ভ্রাম্যমান টহল পুলিশ ও উৎসবোচ্ছল অসংখ্য মানুষের ভিড়ের মাঝে তা ঘটে গেল। বস্ত্রহরণ বা জনপথের যৌন-নিপীড়ন এমন এক স্পর্শকাতর বিষয়, যার বিষয়ে ভিকটিম কোনো দিন বিচারের আবেদন নিয়ে দাঁড়াবে না। অন্য কেউ দাঁড়াতে গেলে তাকে সহায়তা করা হবে না। কারণ, সমাজ একে গোপনীয় হিসাবেই দেখে। বরং ভিকটিম ও তার পরিবারের শান্ত¦না: যাক বাবা, শুধু কাপড় টানাটানিই হল, অন্য কিছু নয়!

এনিয়ে অন্তর্জালে বিষ ঢালা হয়েছে সামান্য। যার প্রভাবে বাস্তবে কিছুই হবে না, লোক-দেখানো তদন্ত-টদন্ত, বক্তৃতা-বিবৃতি ও কলাম-টলামের সয়লাব বয়ে যাবে মাত্র। যারা একটু মৌলবাদী কিসিমের, তারা এতে নিজেদের পক্ষে যুক্তি খুঁজে পাবে। এদের কেউ কেউ তুড়ি মেরে কথা বলতে উৎসাহী হবে। যারা সরকার-বিরোধী, তারা এতে আমোদ পাবে বেশ। এ-সব ঘটনায় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার উৎকট গন্ধ পাওয়া যায়। তাদের জন্য এ-ও এক মস্ত পাওনা! সরকার এনিয়ে আগে বাড়বে না কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসতে পারে, এই ভয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর যে বক্তব্য দিলেন, তাতে বোঝা যায়, ঠাকুর-ঘরের কলা কেউ খায় নি! নারী-অধিকার সংগঠনগুলোও গলা তুলবে না, ভাসুরের নাম নিতে নেই বলে! তাহলে?

না, তাই বলে পহেলা বৈশাখ-পালন বন্ধ হয়ে যাবে না। যা উৎসবের রূপ ধারন করেছে, যাতে জোয়ারের হাওয়া লেগেছে ভীষণভাবে, তাতে আর ভাটা পড়বে না। তবে যারা নিপীড়নের শিকার, তারা হয়ত আর বের হবে না। কিন্তু সারা বাংলাদেশে বা পুরো ঢাকায় তো এ কয়জন তরুণী/নারীই বসবাস করে না। সুতরাং আগামী উৎসবেও তরুণী/নারীরা সেজেগুজে বের হবে। আর হ্যাঁ, আবারও এমন বিদঘুটে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। দেখেও না দেখার ভাণ করবে সবাই। কারণ, উপস্থিত কতিপয় সাহসী তরুণ যে-কয়জনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছিল অভিযুক্ত হিসাবে, তাদের খোঁজ-খবর নিয়ে, ক্লোস-সার্কিট ক্যামেরার রেকর্ড যাচাই করে অপরাধীদের চিহ্নিত ও বিচার করার যে দায়িত্ব ছিল, তা হয় নি, কষ্মিনকালেও হবে না। এজন্যই ভবিষ্যতে আরো বড় রকমের ঘটনা ঘটতে থাকবে। কারণ, বিচারের বাণী তো সবসময়ই নীরবে-নিভৃতে কাঁদে। এবারে এর অন্যথা হতে যাবে কেন?

তিন তিনটি মাস অবরুদ্ধ থাকার পর বৈশাখকে উপলক্ষ করে মানুষ যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চেয়েছিল, তা বাধাগ্রস্থ হল বিকৃত মানসিকতার অধিকারী কতিপয় ধর্ষকামী হায়েনার কারণে। একই দিনে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে এক তরুণের বাম হাত বাঘিনীর থাবায় ছিন্ন হয়ে যায়। সেখানে তরুণ নিজেই সীমানা অতিক্রম করে বাঘ-বাঘিনীর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে এক ধরনের মজা (?) নিতেছিল। এখানে কোনো নারী/তরুণী কোনো পশুকে উত্যক্ত করে নি। তারপরও এ-সব নারী-শিশু ঊত্যক্ত, নিপীড়িত, সম্ভ্রম-ছিন্ন হল মানুষরূপী পশু-কর্তৃক। সাফারি পার্কের বাঘিনী আর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে বিচরণরত সেই সব কামোন্মাদী তরুণদের মাঝে পার্থক্য আছে কি কোনো? আকৃতিগত থাকলেও, স্বভাবগত নেই। পার্থক্য একটা আছে, তবে অন্যদিকে। বাঘের থাবায় পড়েও ছেলেটি মুখ লুকাবে না। কিন্তু মানুষরূপী হায়েনাদের থাবায় পড়া নারী কোনোদিন মুখ খুলবে না!

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় হল বটে। কিন্তু যাকে বলে অ-সামাজিক তথা মেইনস্ট্রিম মিডিয়া, তা চেপে গেল কী নিদারুণভাবে, তা ভাবলে সত্যপ্রকাশে উন্মুখ (?) সেই নীতিবাগীশদের মুখে দলাপাকানো থুথু দিতে ইচ্ছে করে। জানি, এরপর ওরাই আবার চড়া গলায় কথা বলবে! কলামে কলামে ভরিয়ে দেবে পত্রিকার পাতা। শুরু হয়ে গেছে অবশ্য। এভাবেই সামাজিক মাধ্যমে যারা এনিয়ে সোচ্চার হলেন, তাদের ঢেকে দেওয়ার নানা পাঁয়তারা হবে।

পুনশ্চ: এই দেশে বাঙালিদের মতো করে পাহাড়িরা প্রতি বছর বিজু, বৈসাবি ইত্যাদি নানা রকমের উৎসব পালন করে থাকে। এদের এমন সুবৃহৎ ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান রাজধানীতে হয় না। বড় কোনো বিদ্যাপীঠের আশ্রয়ও থাকে না। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা এবং সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরার তো প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু তাদের সেই উৎসবে কেউ যৌন-নিপীড়নের শিকার হয়েছে, এমন শোনা যায় নি।

প্রস্তাব: যারা মানুষদের কামড়ে দেয়, হামলে পড়ে কাপড় খুলে নিতে চায় সামান্য সুযোগ পেলেই, তাদেরকে মানব-সমাজের কোনো পর্যায়ে না রেখে, খাঁচায় বা সুনির্দিষ্ট বেষ্টনীর মাঝেই রাখা হোক। নতুন কোনো জায়গায় বা পুরাতন কোনো পার্কে নয়। বিশাল ভূমিতে গড়ে-তোলা অসাধারণ বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কেই রাখা হোক! সেখানে বিস্তর জায়গা আছে। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করেও হিংস্র কোনো প্রাণীর খাঁচাতেই রাখা যেতে পারে। স্বভাবে এরা হিংস্র প্রাণীর চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। আর না হয়, এদের জন্য ভিন্ন বেষ্টনীর, ভিন্ন খাঁচা তৈরি করা যেতে পারে। এ হবে এক নতুন সংযোজন। এ-সব দু-পেয়ে হিংস্রদের উপস্থিতিতে সাফারি পার্কের শোভা বর্ধন হবে নিশ্চয়। আমিন।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×